ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কে এই ঘোড়ামারা আজিজ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ও গাইবান্ধার সাবেক সংসদ সদস্য আবু সালেহ মো. আব্দুল আজিজ মিঞা নিজ এলাকায় ‘ঘোড়ামারা আজিজ’ নামেই বেশি পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর আবদুল আজিজ ছিল গাইবান্ধায় অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও লুটতরাজের অন্যতম হোতা।

আব্দুল আজিজের ‘ঘোড়ামারা আজিজ’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার বিষয়ে মামলার প্রসিকিউটর সাইয়েদুল হক সুমন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আব্দুল আজিজ তার বাহিনী নিয়ে নিয়মিত গাইবান্ধার মাঠেরহাট ব্রিজ পাহারা দিতেন। সেই ব্রিজের নিচেই ছিল আখক্ষেত। একদিন সেই ক্ষেত নড়েচড়ে ওঠতে দেখে ভয় পেয়ে যায় তারা।

মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চালাতে এসেছে ভেবে তারা আখক্ষেতে এলোপাতাড়ি গুলি করে। কিছু পরে তারা পরিস্থিতি বুঝতে ক্ষেতের ভেতরে যায়। তখন সেখানে তারা একটি ঘোড়াকে মরে পড়ে থাকতে দেখে। এরপর থেকেই এলাকায় সবাই তাকে ঘোড়ামারা আজিজ বলে ডাকতে শুরু করে।’

মামলার তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থকদের বাড়িঘর লুটপাট, জ্বালানো, ধর্ষণ, নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী আব্দুল আজিজ জেলার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো। স্বাধীনতার পরেও আজিজ ১৪জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজ মিয়া ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোটের অধীনে গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দু’টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ ১৩টি মামলা হয়।

এরমধ্যে, ২০১৩ সালে সুন্দরগঞ্জ থানায় চার পুলিশ সদস্য হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এই আজিজ। পরে ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের দু’টি মামলায় আজিজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

কে এই ঘোড়ামারা আজিজ

আপডেট সময় ০১:০৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ও গাইবান্ধার সাবেক সংসদ সদস্য আবু সালেহ মো. আব্দুল আজিজ মিঞা নিজ এলাকায় ‘ঘোড়ামারা আজিজ’ নামেই বেশি পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর আবদুল আজিজ ছিল গাইবান্ধায় অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও লুটতরাজের অন্যতম হোতা।

আব্দুল আজিজের ‘ঘোড়ামারা আজিজ’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার বিষয়ে মামলার প্রসিকিউটর সাইয়েদুল হক সুমন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আব্দুল আজিজ তার বাহিনী নিয়ে নিয়মিত গাইবান্ধার মাঠেরহাট ব্রিজ পাহারা দিতেন। সেই ব্রিজের নিচেই ছিল আখক্ষেত। একদিন সেই ক্ষেত নড়েচড়ে ওঠতে দেখে ভয় পেয়ে যায় তারা।

মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চালাতে এসেছে ভেবে তারা আখক্ষেতে এলোপাতাড়ি গুলি করে। কিছু পরে তারা পরিস্থিতি বুঝতে ক্ষেতের ভেতরে যায়। তখন সেখানে তারা একটি ঘোড়াকে মরে পড়ে থাকতে দেখে। এরপর থেকেই এলাকায় সবাই তাকে ঘোড়ামারা আজিজ বলে ডাকতে শুরু করে।’

মামলার তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থকদের বাড়িঘর লুটপাট, জ্বালানো, ধর্ষণ, নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী আব্দুল আজিজ জেলার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো। স্বাধীনতার পরেও আজিজ ১৪জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজ মিয়া ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোটের অধীনে গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দু’টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ ১৩টি মামলা হয়।

এরমধ্যে, ২০১৩ সালে সুন্দরগঞ্জ থানায় চার পুলিশ সদস্য হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এই আজিজ। পরে ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের দু’টি মামলায় আজিজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়।