ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম নির্বাচনে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিঘ্নিত হবে: শামসুজ্জামান দুদু নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত

পর্তুগালে নবনির্বাচিত বাংলাদেশি কাউন্সিলরকে সংবর্ধনা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পর্তুগালের রাজধানী লিসবন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে জইন্তা ফেগ্রেসিয়া সান্তা মারিয়া মাইওরের কাউন্সিলর পদে দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচিত প্রবাসী রানা তাসলিম উদ্দিনকে সংবর্ধনা দিয়েছে বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন ইন পর্তুগাল।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে আটটায় লিসবনের চাঁরতারা হোটেল মুন্ডিয়ালের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি। বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন ইন পর্তুগালের সভাপতি হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার ছিলেন আল মাসুদ সুমন এবং নাঈম হাসান পাভেল।

পর্তুগালে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন। চলতি বছরের পহেলা অক্টোবর অনুষ্ঠিত লিসবন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে রানা তাসলিম উদ্দিন জয়লাভ করেন। যার ফলে তাকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।

মো. আবুল হাসানের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। পরে অতিথীরা ফুল দিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিসবন সিটি কাউন্সিলের জইন্তা ফেগ্রেসিয়া সান্তা মারিয়া মাইওরের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মিগুয়েল কোয়েলো।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সভাপতি শাহ আলম কাজল। আরো উপস্থিত ছিলেন জইন্তা ফেগ্রেসিয়া সান্তা মারিয়া মাইওরের কাউন্সিলর মারিয়া জোয়াও, রিকারদো দিয়াস, লুইস কোয়েলো, আন্টেতোনিও মানুয়েল, পেদরো আসুনসাও, জিতু রোন্দদদাদো, শাহ জাহান প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন ইন পর্তুগালের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসাইন সুমন, মনজুরুল হোসেন জিন্নাহ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডক্টর মিগুয়েল কোয়েলো বলেন, বাংলাদেশীরা শান্তিপ্রিয় অভিবাসী হিসেবে পর্তুগালে খ্যাতি অর্জন করেছে!

আমাদের নির্বাচনে বেশীরভাগ বাংলাদেশিই আমাদের সহযোগিতা করেছেন। তাদের সাথে এমন একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি আশা করবো বাংলাদেশিরা তাদের এই সুনাম বজায় রাখবেন এবং পর্তুগিজ কমিউনিটির সাথে এ সম্পর্ক আরো জোড়ালো হবে।

রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন, আমি ১৯৯১ সনে যখন প্রথম পর্তুগালে আসি তখন এখানে মাত্র ১২ জন বাংলাদেশি ছিলেন। সময়ের পালাবদলে সবাই পর্তুগাল ছেড়ে গেছেন। এদেশের মূলধারার রাজনীতিতে আমিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জড়িত হয়ে বর্তমান সরকারিদল পর্তুগিজ স্যোসালিষ্ট থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি।

আমি যেটুকু করেছি, আমার মনে হয় এটা সূচনা। আমাদের আগামী বাংলাদেশি প্রজন্মের জন্য এটা একটি রাস্তা তৈরি করে গেলাম। পরবর্তীতে এদেশের রাজনীতিতে তারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে জড়িত হতে পারেন এবং বড় বড় পদে নির্বাচিত হতে পারেন।

তিনি বলেন, আমি পর্তুগালে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশিদের অনুরোধ করবো যদি সম্ভব হয় প্রবাসে দেশীয় রাজনীতি চর্চা না করে আপনারা মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হোন। এতে করে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান অনেক সহজ হবে। পরিশেষে এমন একটি আয়োজনে বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর বলেন, লিসবন সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে পর পর দুইবার বাংলাদেশি ও বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতি সন্তান রানা তাসলিম উদ্দিনের সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছেন।

অাগামী দিনে রানা তাসলিম উদ্দিনের দেখানো পথে একদিন হয়তো বাংলাদেশের কেউ পর্তুগালের সিটি মেয়র কিংবা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতিসন্তান রানা তাসলিম উদ্দিনকে সংবর্ধনা দিতে পেরে বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।

সংবর্ধনার প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শেষে বাংলা খাবারের আয়োজনে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয় লিসবনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত মার্তৃম-মুনিজের বেঙ্গল রেস্টুরেন্টে। এতে প্রায় ৪০০ জনের মত পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অাবুল বাসার, শহীদ উল্যাহ, সাকের আহমেদ, শাহাদাত হোসেন, ইমরান হোসাইন ভূইয়া, তবারক হোসেন তপু, শাকিল জিয়া, ফুয়াদ হাসান, এমরান হোসেন প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস

পর্তুগালে নবনির্বাচিত বাংলাদেশি কাউন্সিলরকে সংবর্ধনা

আপডেট সময় ১১:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পর্তুগালের রাজধানী লিসবন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে জইন্তা ফেগ্রেসিয়া সান্তা মারিয়া মাইওরের কাউন্সিলর পদে দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচিত প্রবাসী রানা তাসলিম উদ্দিনকে সংবর্ধনা দিয়েছে বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন ইন পর্তুগাল।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে আটটায় লিসবনের চাঁরতারা হোটেল মুন্ডিয়ালের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি। বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন ইন পর্তুগালের সভাপতি হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার ছিলেন আল মাসুদ সুমন এবং নাঈম হাসান পাভেল।

পর্তুগালে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন। চলতি বছরের পহেলা অক্টোবর অনুষ্ঠিত লিসবন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে রানা তাসলিম উদ্দিন জয়লাভ করেন। যার ফলে তাকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।

মো. আবুল হাসানের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। পরে অতিথীরা ফুল দিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিসবন সিটি কাউন্সিলের জইন্তা ফেগ্রেসিয়া সান্তা মারিয়া মাইওরের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মিগুয়েল কোয়েলো।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সভাপতি শাহ আলম কাজল। আরো উপস্থিত ছিলেন জইন্তা ফেগ্রেসিয়া সান্তা মারিয়া মাইওরের কাউন্সিলর মারিয়া জোয়াও, রিকারদো দিয়াস, লুইস কোয়েলো, আন্টেতোনিও মানুয়েল, পেদরো আসুনসাও, জিতু রোন্দদদাদো, শাহ জাহান প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন ইন পর্তুগালের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসাইন সুমন, মনজুরুল হোসেন জিন্নাহ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডক্টর মিগুয়েল কোয়েলো বলেন, বাংলাদেশীরা শান্তিপ্রিয় অভিবাসী হিসেবে পর্তুগালে খ্যাতি অর্জন করেছে!

আমাদের নির্বাচনে বেশীরভাগ বাংলাদেশিই আমাদের সহযোগিতা করেছেন। তাদের সাথে এমন একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি আশা করবো বাংলাদেশিরা তাদের এই সুনাম বজায় রাখবেন এবং পর্তুগিজ কমিউনিটির সাথে এ সম্পর্ক আরো জোড়ালো হবে।

রানা তাসলিম উদ্দিন বলেন, আমি ১৯৯১ সনে যখন প্রথম পর্তুগালে আসি তখন এখানে মাত্র ১২ জন বাংলাদেশি ছিলেন। সময়ের পালাবদলে সবাই পর্তুগাল ছেড়ে গেছেন। এদেশের মূলধারার রাজনীতিতে আমিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জড়িত হয়ে বর্তমান সরকারিদল পর্তুগিজ স্যোসালিষ্ট থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি।

আমি যেটুকু করেছি, আমার মনে হয় এটা সূচনা। আমাদের আগামী বাংলাদেশি প্রজন্মের জন্য এটা একটি রাস্তা তৈরি করে গেলাম। পরবর্তীতে এদেশের রাজনীতিতে তারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে জড়িত হতে পারেন এবং বড় বড় পদে নির্বাচিত হতে পারেন।

তিনি বলেন, আমি পর্তুগালে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশিদের অনুরোধ করবো যদি সম্ভব হয় প্রবাসে দেশীয় রাজনীতি চর্চা না করে আপনারা মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হোন। এতে করে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান অনেক সহজ হবে। পরিশেষে এমন একটি আয়োজনে বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর বলেন, লিসবন সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে পর পর দুইবার বাংলাদেশি ও বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতি সন্তান রানা তাসলিম উদ্দিনের সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছেন।

অাগামী দিনে রানা তাসলিম উদ্দিনের দেখানো পথে একদিন হয়তো বাংলাদেশের কেউ পর্তুগালের সিটি মেয়র কিংবা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতিসন্তান রানা তাসলিম উদ্দিনকে সংবর্ধনা দিতে পেরে বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।

সংবর্ধনার প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শেষে বাংলা খাবারের আয়োজনে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয় লিসবনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত মার্তৃম-মুনিজের বেঙ্গল রেস্টুরেন্টে। এতে প্রায় ৪০০ জনের মত পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অাবুল বাসার, শহীদ উল্যাহ, সাকের আহমেদ, শাহাদাত হোসেন, ইমরান হোসাইন ভূইয়া, তবারক হোসেন তপু, শাকিল জিয়া, ফুয়াদ হাসান, এমরান হোসেন প্রমুখ।