ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘মিস ওয়ার্ল্ড’ মানুসির যত কথা!

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মেয়ে মানুসি চিল্লার হয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৭। শনিবার চীনের সানাইয়া সিটিতে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনাল থেকে এ ঘোষণা আসে। এরপর বিশ্ববাসীর নজর এখন ২০ বছর বয়সী মানুসির দিকে। জানার ইচ্ছা, কে এই ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ মানুসি চিল্লার? ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মানুসির আগাগোড়া পরিচয়।

ভারতীয় সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালের ১৪ মে হরিয়ানায় এক চিকিৎসক পরিবারে জন্ম মিস ওয়ার্ল্ড মানুসি চিল্লার। তার মা-বাবা দুজনেই পেশায় চিকিৎসক। বাবা মিত্রবসু চিল্লার ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের এক বিজ্ঞানী। আর মা নীলম চিল্লার ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান বিহেভিয়র অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক।

মা-বাবাকে দেখে ছোট থেকেই মানুসির ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে চিকিৎসক হবেন। তখন থেকেই পড়ার বইয়ে মুখগুজে থাকতেন এই মেয়ে। আর বাকি পাঁচটা মেয়ের মতো পড়াশোনাটাই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। একসময় মানুসির পরিবার হরিয়ানা থেকে চলে আসে উত্তর দিল্লিতে। তখন মানুসি ভর্তি হন দিল্লির সেন্ট থমাস স্কুলে। দ্বাদশ শ্রেণিতে খুব ভালো ফলাফল করে সোনিপাতের ভগতফুল সিংহ সরকারি কলেজ ও হাসপাতালে (মহিলা) ডাক্তারি পড়তে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী রাজা রেড্ডি, রাধা রেড্ডি এবং কৌশল্যা রেড্ডির কাছে মানুসির তালিম চলছিল কুচিপুরি নৃত্যশৈলীরও। এমনকি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার ছাত্রী তিনি।

মা-বাবার সঙ্গে মানুসি

মা-বাবার সঙ্গে মানুসি

পড়াশোনা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, নাচ আর নাটক-এনিয়ে জীবনটা একই খাতে বয়েছিল মানুসির। তবে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় একবার অংশ নেওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা ছিল তার মনের মধ্যে। সে কথাটা মা-বাবাকে এক দিন বলেও ফেলেন। মেয়েকে উৎসাহ দিতে কোনো কার্পণ্য করেননি তার মা-বাবা। সেসময় চন্ডীগড়ে ছিলেন মানুসি। একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পান। আর দেরি করেননি। নাম লেখে ফেলেন সেই প্রতিযোগিতায়। সেই থেকে জীবনটাকে এক্কেবারে অন্যভাবে দেখা। তখন থেকেই বিশ্বের সেরা সুন্দরীর মঞ্চে সেরার তকমা আদায় করার জন্য শুরু কঠিন অধ্যবসায়। যেসময় আর পাঁচটা ছাত্রী ঘুমতে যেতেন, সেসময় কঠিন অনুশীলনে ব্যস্ত থাকতেন ভারতের নতুন বিশ্বসুন্দরী। একটা বছর ঠিকমতো পড়াশোনাটাও করে উঠতে পারেননি সেজন্য।

এসব কিছু অবশ্য বৃথা যায়নি। জয়ের শেষ হাসিটা হেসেছেন মানুসি। ২০১৭ সালের ২৫ জুন হরিয়ানার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে জিতে নিয়েছিলেন ‘মিস ইন্ডিয়ার’ খেতাব। এবার বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতে নিলেন মানুসি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে প্রথমবার ভারতীয় হিসেবে ‘মিস ওয়ার্ল্ডে’র মুকুট জয় করেন ঐশ্বরিয়া রাই। এরপর ডায়ানা হেডেন ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ভারত থেকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পরে যুক্তা মুখী ১৯৯৯ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ খেতাব পান। পরের বছর অর্থাৎ ২০০০ সালে আবার ভারত থেকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ বিজয়ী হয়েছিলেন। এর ১৭ বছর পর আবারও ভারতের মানুসি চিল্লার হলেন মিস ওয়ার্ল্ড।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

‘মিস ওয়ার্ল্ড’ মানুসির যত কথা!

আপডেট সময় ০৪:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মেয়ে মানুসি চিল্লার হয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৭। শনিবার চীনের সানাইয়া সিটিতে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনাল থেকে এ ঘোষণা আসে। এরপর বিশ্ববাসীর নজর এখন ২০ বছর বয়সী মানুসির দিকে। জানার ইচ্ছা, কে এই ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ মানুসি চিল্লার? ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মানুসির আগাগোড়া পরিচয়।

ভারতীয় সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালের ১৪ মে হরিয়ানায় এক চিকিৎসক পরিবারে জন্ম মিস ওয়ার্ল্ড মানুসি চিল্লার। তার মা-বাবা দুজনেই পেশায় চিকিৎসক। বাবা মিত্রবসু চিল্লার ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের এক বিজ্ঞানী। আর মা নীলম চিল্লার ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান বিহেভিয়র অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক।

মা-বাবাকে দেখে ছোট থেকেই মানুসির ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে চিকিৎসক হবেন। তখন থেকেই পড়ার বইয়ে মুখগুজে থাকতেন এই মেয়ে। আর বাকি পাঁচটা মেয়ের মতো পড়াশোনাটাই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। একসময় মানুসির পরিবার হরিয়ানা থেকে চলে আসে উত্তর দিল্লিতে। তখন মানুসি ভর্তি হন দিল্লির সেন্ট থমাস স্কুলে। দ্বাদশ শ্রেণিতে খুব ভালো ফলাফল করে সোনিপাতের ভগতফুল সিংহ সরকারি কলেজ ও হাসপাতালে (মহিলা) ডাক্তারি পড়তে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী রাজা রেড্ডি, রাধা রেড্ডি এবং কৌশল্যা রেড্ডির কাছে মানুসির তালিম চলছিল কুচিপুরি নৃত্যশৈলীরও। এমনকি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার ছাত্রী তিনি।

মা-বাবার সঙ্গে মানুসি

মা-বাবার সঙ্গে মানুসি

পড়াশোনা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, নাচ আর নাটক-এনিয়ে জীবনটা একই খাতে বয়েছিল মানুসির। তবে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় একবার অংশ নেওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা ছিল তার মনের মধ্যে। সে কথাটা মা-বাবাকে এক দিন বলেও ফেলেন। মেয়েকে উৎসাহ দিতে কোনো কার্পণ্য করেননি তার মা-বাবা। সেসময় চন্ডীগড়ে ছিলেন মানুসি। একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পান। আর দেরি করেননি। নাম লেখে ফেলেন সেই প্রতিযোগিতায়। সেই থেকে জীবনটাকে এক্কেবারে অন্যভাবে দেখা। তখন থেকেই বিশ্বের সেরা সুন্দরীর মঞ্চে সেরার তকমা আদায় করার জন্য শুরু কঠিন অধ্যবসায়। যেসময় আর পাঁচটা ছাত্রী ঘুমতে যেতেন, সেসময় কঠিন অনুশীলনে ব্যস্ত থাকতেন ভারতের নতুন বিশ্বসুন্দরী। একটা বছর ঠিকমতো পড়াশোনাটাও করে উঠতে পারেননি সেজন্য।

এসব কিছু অবশ্য বৃথা যায়নি। জয়ের শেষ হাসিটা হেসেছেন মানুসি। ২০১৭ সালের ২৫ জুন হরিয়ানার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে জিতে নিয়েছিলেন ‘মিস ইন্ডিয়ার’ খেতাব। এবার বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতে নিলেন মানুসি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে প্রথমবার ভারতীয় হিসেবে ‘মিস ওয়ার্ল্ডে’র মুকুট জয় করেন ঐশ্বরিয়া রাই। এরপর ডায়ানা হেডেন ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ভারত থেকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পরে যুক্তা মুখী ১৯৯৯ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ খেতাব পান। পরের বছর অর্থাৎ ২০০০ সালে আবার ভারত থেকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ বিজয়ী হয়েছিলেন। এর ১৭ বছর পর আবারও ভারতের মানুসি চিল্লার হলেন মিস ওয়ার্ল্ড।