ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত হলে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে জনপ্রশাসন হবে জনবান্ধব: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের কাঠগড়ায় তুলুন: টিলারসন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, রাখাইনে যেসব নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তার ওপর স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত চালাতে হবে। তবে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসি ও এএফপির।

বুধবার মিয়ানমারে একদিনের সফরকালে টিলারসন দেশটির সামরিক বাহিনীর সুপরিকল্পিত সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বলেন, রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতার সময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং অস্ত্রধারী বেসরকারি গোষ্ঠীগুলোর হাতে ব্যাপক নির্যাতনের বিশ্বাসযোগ্য খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।” বাংলাদেশে পলায়নরত রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ দেখে যুক্তরাষ্ট্র মর্মাহত, যা ঘটেছে তার চিত্র নিদারুণ ভয়াবহ।

রোহিঙ্গা নিপীড়নে নীরবতার জন্য চরমভাবে সমালোচিত দেশটির নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মোটেও নীরব নন, মানুষ কেন এটা বলছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে বুধবার রেক্স টিলারসনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

মানবিক সংকট দেখা দেওয়ার পর এ বিষয়ে নীরবতার জন্য আপনার অনেক সমালোচনা হয়েছে। আপনি এই সংকট নিয়ে নীরব কেন?

জবাবে সু চি বলেন, “আমি ‍বুঝতে পারছি না লোকে কেন বলছে আমি নীরব ছিলাম। আমি নীরব নই। “কিন্তু আমি যা বলছি তা চমকপ্রদ হওয়ার জন্য নয়, তা-ই যথার্থ। লোকজনকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় না করিয়ে আরো সম্প্রীতি সৃষ্টি এবং সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ তৈরিই আমার বক্তব্যের লক্ষ্য।”

রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এই নিষ্ঠুরতা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচিত সু চি ইতোমধ্যে তাকে নানা সময়ে দেওয়া বিভিন্ন সম্মাননা হারিয়েছেন।

প্রশ্নোত্তরে সু চি বলেন, “আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, রাখাইনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে এবং তাদের যদি দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও সৌহার্দ্যের সাথে একসঙ্গে বাস করতে হয় তাহলে এখন আমরা তাদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিতে পারি না।

“আমরা এমন ধরনের বিবৃতি দিতে পারি না, যা তাদের আরো দূরে ঠেলে দেয়। বক্তব্য নিয়ে আমাদের অধিক সতর্ক থাকার এটাই কারণ। কিন্তু আপনি যদি পরীক্ষা করেন দেখবেন আমি নীরব ছিলাম না।”

তিনি বলেন, “আমি উসকানিমূলক বা চমক সৃষ্টিকারী বিবৃতি দিচ্ছি না, কিন্তু কী ঘটছে এবং পরিস্থিতির উত্তরণে কী করার চেষ্টা করছি, সে বিষয়গুলো সব সময় জনগণকে অবহিত করেছি।”

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।

তিনি বলেন, “রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সেইসঙ্গে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিবরণ দিলেও তা অস্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা এমন কোনো ঘটনায় সম্পৃক্ত নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৎমাকে হত্যার পর নিজের মাকে হত্যা করল ছেলে

রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের কাঠগড়ায় তুলুন: টিলারসন

আপডেট সময় ০২:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, রাখাইনে যেসব নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তার ওপর স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত চালাতে হবে। তবে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসি ও এএফপির।

বুধবার মিয়ানমারে একদিনের সফরকালে টিলারসন দেশটির সামরিক বাহিনীর সুপরিকল্পিত সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বলেন, রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতার সময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং অস্ত্রধারী বেসরকারি গোষ্ঠীগুলোর হাতে ব্যাপক নির্যাতনের বিশ্বাসযোগ্য খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।” বাংলাদেশে পলায়নরত রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ দেখে যুক্তরাষ্ট্র মর্মাহত, যা ঘটেছে তার চিত্র নিদারুণ ভয়াবহ।

রোহিঙ্গা নিপীড়নে নীরবতার জন্য চরমভাবে সমালোচিত দেশটির নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মোটেও নীরব নন, মানুষ কেন এটা বলছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে বুধবার রেক্স টিলারসনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

মানবিক সংকট দেখা দেওয়ার পর এ বিষয়ে নীরবতার জন্য আপনার অনেক সমালোচনা হয়েছে। আপনি এই সংকট নিয়ে নীরব কেন?

জবাবে সু চি বলেন, “আমি ‍বুঝতে পারছি না লোকে কেন বলছে আমি নীরব ছিলাম। আমি নীরব নই। “কিন্তু আমি যা বলছি তা চমকপ্রদ হওয়ার জন্য নয়, তা-ই যথার্থ। লোকজনকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় না করিয়ে আরো সম্প্রীতি সৃষ্টি এবং সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ তৈরিই আমার বক্তব্যের লক্ষ্য।”

রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এই নিষ্ঠুরতা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচিত সু চি ইতোমধ্যে তাকে নানা সময়ে দেওয়া বিভিন্ন সম্মাননা হারিয়েছেন।

প্রশ্নোত্তরে সু চি বলেন, “আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, রাখাইনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে এবং তাদের যদি দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও সৌহার্দ্যের সাথে একসঙ্গে বাস করতে হয় তাহলে এখন আমরা তাদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিতে পারি না।

“আমরা এমন ধরনের বিবৃতি দিতে পারি না, যা তাদের আরো দূরে ঠেলে দেয়। বক্তব্য নিয়ে আমাদের অধিক সতর্ক থাকার এটাই কারণ। কিন্তু আপনি যদি পরীক্ষা করেন দেখবেন আমি নীরব ছিলাম না।”

তিনি বলেন, “আমি উসকানিমূলক বা চমক সৃষ্টিকারী বিবৃতি দিচ্ছি না, কিন্তু কী ঘটছে এবং পরিস্থিতির উত্তরণে কী করার চেষ্টা করছি, সে বিষয়গুলো সব সময় জনগণকে অবহিত করেছি।”

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।

তিনি বলেন, “রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সেইসঙ্গে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিবরণ দিলেও তা অস্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা এমন কোনো ঘটনায় সম্পৃক্ত নয়।