ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়াটা দুঃখজনক’:মোহাম্মদ ইউসুফ ‘বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি,আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না’:মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নয়, সরকার অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে ইসির নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ: নজরুল ইসলাম ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র উত্তরণের প্রধান শর্ত: সুজন সম্পাদক ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন হবে না: তারেক রহমান

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট না করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিন: জাতিসংঘ মহাসচিব

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে দেয়ার জন্য আবারো মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। মঙ্গলবার সকালে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় সুচির সঙ্গে সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান গুতেরাঁ।

ম্যানিলায় ১০ জাতির আসিয়ান সম্মেলন চলছে। তাতে যোগ দেন তারা। তবে বিস্মিত হওয়ার বিষয় হলো, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কট রোহিঙ্গা ইস্যুটি নেই এই সম্মেলনের এজেন্ডায়। এ সঙ্কট এই অঞ্চলেরই।

আসিয়ানের অন্যতম সদস্য মিয়ানমার। সমস্যাটির সৃষ্টি সেখান থেকেই। কিন্তু আসিয়ানের এজেন্ডায় এ ইস্যুটি না থাকায় এর সমালোচনা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বিভিন্ন দেশে এ ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। কিন্তু সম্মেলনে যোগ দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি উত্থাপন করেছেন অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এ ইস্যুতে। তিনি বলেছেন, কয়েক লাখ রোহিঙ্গার জোরপূর্বক বাস্তুহারা হওয়া একটি ট্রাজেডির ক্রমঅবনতি। এতে তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি এ সঙ্কটকে এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য একটি শক্তিশালী উৎস বা রশদ বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, এতে উগ্রপন্থার উত্থানও হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সুচির ওপর জোরালো হলো আন্তর্জাতিক চাপ। এর ওপর মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে ওই ম্যানিলাতেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে অং সান সুচির।

এরপর টিলারসন মিয়ানমারে উড়ে আসবেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ে টিলারসন রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেবেন সুচিকে। জানিয়ে দেবেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিরুদ্ধে অবরোধ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নৃশংসতা নিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তারা কোনো কিচ্ছুই করে নি।

কিন্তু বিশ্ব তো চোখ বন্ধ করে ছিল না, নেই। তারা সব দেখেছে। সব প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করেছে। অং সান সুচির সঙ্গে অ্যান্তনিও গুতেরাঁর বৈঠকের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে। তাতে বলা হয়েছে, সুচির সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার জন্য অধিকতর শক্তিশালী প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরছা। বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় ফিরতে দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। ফেরার পর তাদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সত্যিকার পুনঃএকত্রীকরণ করতে হবে। এটা প্রয়োজনীয় বিষয়। উল্লেখ্য, ২৫ শে আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলায় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে রোহিঙ্গাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়।

তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। গণ ধর্ষণ করা হয় যুবতী ও নারীদের। গণহারে গুলি করে হত্যা করা হয় মানুষ। লুটে নেয়া হয় সব কিছু। এমন অবস্থায় জীবন বাঁচাতে স্রোতের মতো রোহিঙ্গার ঢল নামে বাংলাদেশে। প্রায় আড়াই মাসে বাংলাদেশে নতুন করে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়ায় কমপক্ষে ৬ লাখ। তারা সাংবাদিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন নৃশংসতা সম্পর্কে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট না করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিন: জাতিসংঘ মহাসচিব

আপডেট সময় ০১:২৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে দেয়ার জন্য আবারো মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। মঙ্গলবার সকালে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় সুচির সঙ্গে সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান গুতেরাঁ।

ম্যানিলায় ১০ জাতির আসিয়ান সম্মেলন চলছে। তাতে যোগ দেন তারা। তবে বিস্মিত হওয়ার বিষয় হলো, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কট রোহিঙ্গা ইস্যুটি নেই এই সম্মেলনের এজেন্ডায়। এ সঙ্কট এই অঞ্চলেরই।

আসিয়ানের অন্যতম সদস্য মিয়ানমার। সমস্যাটির সৃষ্টি সেখান থেকেই। কিন্তু আসিয়ানের এজেন্ডায় এ ইস্যুটি না থাকায় এর সমালোচনা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বিভিন্ন দেশে এ ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। কিন্তু সম্মেলনে যোগ দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি উত্থাপন করেছেন অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এ ইস্যুতে। তিনি বলেছেন, কয়েক লাখ রোহিঙ্গার জোরপূর্বক বাস্তুহারা হওয়া একটি ট্রাজেডির ক্রমঅবনতি। এতে তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি এ সঙ্কটকে এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য একটি শক্তিশালী উৎস বা রশদ বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, এতে উগ্রপন্থার উত্থানও হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সুচির ওপর জোরালো হলো আন্তর্জাতিক চাপ। এর ওপর মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে ওই ম্যানিলাতেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে অং সান সুচির।

এরপর টিলারসন মিয়ানমারে উড়ে আসবেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ে টিলারসন রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেবেন সুচিকে। জানিয়ে দেবেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিরুদ্ধে অবরোধ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নৃশংসতা নিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তারা কোনো কিচ্ছুই করে নি।

কিন্তু বিশ্ব তো চোখ বন্ধ করে ছিল না, নেই। তারা সব দেখেছে। সব প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করেছে। অং সান সুচির সঙ্গে অ্যান্তনিও গুতেরাঁর বৈঠকের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে। তাতে বলা হয়েছে, সুচির সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার জন্য অধিকতর শক্তিশালী প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরছা। বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় ফিরতে দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। ফেরার পর তাদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সত্যিকার পুনঃএকত্রীকরণ করতে হবে। এটা প্রয়োজনীয় বিষয়। উল্লেখ্য, ২৫ শে আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলায় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে রোহিঙ্গাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়।

তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। গণ ধর্ষণ করা হয় যুবতী ও নারীদের। গণহারে গুলি করে হত্যা করা হয় মানুষ। লুটে নেয়া হয় সব কিছু। এমন অবস্থায় জীবন বাঁচাতে স্রোতের মতো রোহিঙ্গার ঢল নামে বাংলাদেশে। প্রায় আড়াই মাসে বাংলাদেশে নতুন করে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়ায় কমপক্ষে ৬ লাখ। তারা সাংবাদিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন নৃশংসতা সম্পর্কে।