ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে হামলা স্থগিত হলেও মার্কিন বাহিনী জবাব দিতে ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’: হেগসেথ বরিশালে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে একই পরিবারে দগ্ধ ৩ ৫ আগস্ট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা : দাবানলে ছাই ৬০০ স্থাপনা, নিরাপদ আশ্রয়ে ৬০ হাজার মানুষ নিরাপদ অভিবাসনে আইওএমের সহযোগিতা চাইলো বাংলাদেশ দেশটা আমাদের সবার, পরিবেশও আমাদেরই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে গেছে ৪৪৯ কোটি ডলার ধামরাইয়ে স্বামীর মারধরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার জুলাই গণহত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন মোড়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় জোর পেজেশকিয়ানের

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট না করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিন: জাতিসংঘ মহাসচিব

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে দেয়ার জন্য আবারো মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। মঙ্গলবার সকালে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় সুচির সঙ্গে সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান গুতেরাঁ।

ম্যানিলায় ১০ জাতির আসিয়ান সম্মেলন চলছে। তাতে যোগ দেন তারা। তবে বিস্মিত হওয়ার বিষয় হলো, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কট রোহিঙ্গা ইস্যুটি নেই এই সম্মেলনের এজেন্ডায়। এ সঙ্কট এই অঞ্চলেরই।

আসিয়ানের অন্যতম সদস্য মিয়ানমার। সমস্যাটির সৃষ্টি সেখান থেকেই। কিন্তু আসিয়ানের এজেন্ডায় এ ইস্যুটি না থাকায় এর সমালোচনা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বিভিন্ন দেশে এ ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। কিন্তু সম্মেলনে যোগ দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি উত্থাপন করেছেন অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এ ইস্যুতে। তিনি বলেছেন, কয়েক লাখ রোহিঙ্গার জোরপূর্বক বাস্তুহারা হওয়া একটি ট্রাজেডির ক্রমঅবনতি। এতে তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি এ সঙ্কটকে এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য একটি শক্তিশালী উৎস বা রশদ বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, এতে উগ্রপন্থার উত্থানও হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সুচির ওপর জোরালো হলো আন্তর্জাতিক চাপ। এর ওপর মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে ওই ম্যানিলাতেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে অং সান সুচির।

এরপর টিলারসন মিয়ানমারে উড়ে আসবেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ে টিলারসন রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেবেন সুচিকে। জানিয়ে দেবেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিরুদ্ধে অবরোধ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নৃশংসতা নিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তারা কোনো কিচ্ছুই করে নি।

কিন্তু বিশ্ব তো চোখ বন্ধ করে ছিল না, নেই। তারা সব দেখেছে। সব প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করেছে। অং সান সুচির সঙ্গে অ্যান্তনিও গুতেরাঁর বৈঠকের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে। তাতে বলা হয়েছে, সুচির সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার জন্য অধিকতর শক্তিশালী প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরছা। বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় ফিরতে দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। ফেরার পর তাদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সত্যিকার পুনঃএকত্রীকরণ করতে হবে। এটা প্রয়োজনীয় বিষয়। উল্লেখ্য, ২৫ শে আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলায় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে রোহিঙ্গাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়।

তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। গণ ধর্ষণ করা হয় যুবতী ও নারীদের। গণহারে গুলি করে হত্যা করা হয় মানুষ। লুটে নেয়া হয় সব কিছু। এমন অবস্থায় জীবন বাঁচাতে স্রোতের মতো রোহিঙ্গার ঢল নামে বাংলাদেশে। প্রায় আড়াই মাসে বাংলাদেশে নতুন করে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়ায় কমপক্ষে ৬ লাখ। তারা সাংবাদিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন নৃশংসতা সম্পর্কে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে হামলা স্থগিত হলেও মার্কিন বাহিনী জবাব দিতে ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’: হেগসেথ

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট না করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিন: জাতিসংঘ মহাসচিব

আপডেট সময় ০১:২৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে দেয়ার জন্য আবারো মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। মঙ্গলবার সকালে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় সুচির সঙ্গে সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান গুতেরাঁ।

ম্যানিলায় ১০ জাতির আসিয়ান সম্মেলন চলছে। তাতে যোগ দেন তারা। তবে বিস্মিত হওয়ার বিষয় হলো, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কট রোহিঙ্গা ইস্যুটি নেই এই সম্মেলনের এজেন্ডায়। এ সঙ্কট এই অঞ্চলেরই।

আসিয়ানের অন্যতম সদস্য মিয়ানমার। সমস্যাটির সৃষ্টি সেখান থেকেই। কিন্তু আসিয়ানের এজেন্ডায় এ ইস্যুটি না থাকায় এর সমালোচনা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বিভিন্ন দেশে এ ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। কিন্তু সম্মেলনে যোগ দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি উত্থাপন করেছেন অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এ ইস্যুতে। তিনি বলেছেন, কয়েক লাখ রোহিঙ্গার জোরপূর্বক বাস্তুহারা হওয়া একটি ট্রাজেডির ক্রমঅবনতি। এতে তিনি উদ্বিগ্ন।

তিনি এ সঙ্কটকে এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য একটি শক্তিশালী উৎস বা রশদ বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, এতে উগ্রপন্থার উত্থানও হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সুচির ওপর জোরালো হলো আন্তর্জাতিক চাপ। এর ওপর মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে ওই ম্যানিলাতেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে অং সান সুচির।

এরপর টিলারসন মিয়ানমারে উড়ে আসবেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ে টিলারসন রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেবেন সুচিকে। জানিয়ে দেবেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিরুদ্ধে অবরোধ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নৃশংসতা নিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তারা কোনো কিচ্ছুই করে নি।

কিন্তু বিশ্ব তো চোখ বন্ধ করে ছিল না, নেই। তারা সব দেখেছে। সব প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করেছে। অং সান সুচির সঙ্গে অ্যান্তনিও গুতেরাঁর বৈঠকের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে। তাতে বলা হয়েছে, সুচির সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার জন্য অধিকতর শক্তিশালী প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরছা। বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় ফিরতে দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। ফেরার পর তাদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সত্যিকার পুনঃএকত্রীকরণ করতে হবে। এটা প্রয়োজনীয় বিষয়। উল্লেখ্য, ২৫ শে আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলায় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে রোহিঙ্গাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়।

তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। গণ ধর্ষণ করা হয় যুবতী ও নারীদের। গণহারে গুলি করে হত্যা করা হয় মানুষ। লুটে নেয়া হয় সব কিছু। এমন অবস্থায় জীবন বাঁচাতে স্রোতের মতো রোহিঙ্গার ঢল নামে বাংলাদেশে। প্রায় আড়াই মাসে বাংলাদেশে নতুন করে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়ায় কমপক্ষে ৬ লাখ। তারা সাংবাদিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন নৃশংসতা সম্পর্কে।