অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
ফিলিপিন্সে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ বিবৃতির খসড়ায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ-মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সমস্যা নিয়ে, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচিও কোনো মন্তব্য করেননি। কাল শেষ হতে যাওয়া সম্মেলনে রাখাইন সমস্যা নিয়ে আলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ফিলিপিন্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো রোমুলো। এদিকে, রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের পরিকল্পিত গণধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ভিয়েতনামে সদ্য শেষ হওয়া অ্যাপেক সম্মেলন ও ফিলিপিন্সে চলমান আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আশা করা হলেও, সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। রোববার সম্মেলনে অংশ নেয়া আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বক্তব্যে, দেশটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হলেও, রাখাইন সংকট নিয়ে একটি শব্দও ছিলো না।
সম্মেলনের মূল পর্বের আলোচ্যসূচিতেও নেই রোহিঙ্গা সমস্যা। এমনকি আসিয়ান নেতাদের যৌথ বিবৃতির খসড়ায়ও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সোমবার খসড়া বিবৃতির একটি অনুলিপি হাতে পাওয়ার দাবি করে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, সেখানে একটি অনুচ্ছেদের শেষাংশে শুধু রাখাইনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এদিকে, ফিলিপিন্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালান পিটার কায়েতানো আসিয়ান নেতাদের মধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা আছে বলে জানালেও, ভিন্ন কথা বলেছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো রোমুলো। ফিলিপিন্সের একটি টেলিভিশনকে তিনি জানান, এবারের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে উল্লেখ যোগ্য আলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই।
রবার্তো রোমুলো বলেন, ‘অং সান সু চি নোবেল পুরস্কারের অযোগ্য হলেও, বিশ্ব নেতারা এখনও তাকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখছেন। তাই হয়তো তারা রাখাইন সমস্যাটি এড়িয়ে যাচ্ছেন। আসিয়ান সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনার কোনো আলামত আমি দেখছি না।’
এদিকে, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নারীদের পরিকল্পিতভাবে গণধর্ষণের অভিযোগ তুলে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জাতিসংঘ। কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে সংস্থার বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন বলেন, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী যে অমানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য অবশ্যই তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সভাপতি ও আইনজীবীদের কাছে রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিস্তারিত তুলে ধরবো।
রাখাইনে সামরিক বাহিনীর রক্তাক্ত অভিযানের বিষয়ে কঠোর বার্তা নিয়ে আগামী বুধবার মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তার এই সফরকে সামনে রেখে রোববার দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, রাখাইনে সহিংসতা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যেন দ্রুত প্রকাশ করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেয়া হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















