ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

বাজারে ফুড সাপ্লিমেন্ট, তদারকির কেউ নেই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্রে ফুড সাপ্লিমেন্টের কথা লিখতে পারবেন না। ওষুধের দোকানেও ফুড সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর প্রায়ই এসব ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করে। তারপরও চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্রে ও বাজারে মিলছে ফুড সাপ্লিমেন্ট। বিদেশ থেকে আমদানি হওয়া এসব পণ্যের ওপর নজরদারি করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান নেই!

বাংলাদেশ কাস্টমসের ওয়ার্ল্ড কাস্টম অরগানাইজেশনের (ডব্লিউসিও) বিধি অনুসারে ফুড সাপ্লিমেন্ট আমদানির সুযোগ মিলছে। বিষয়টি নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল, খাদ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কাস্টমস এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, তা তদারকির দায়িত্ব তাদের না।

জাতীয় ওষুধনীতিতে বলা হয়েছে, ঔষধি গুণসম্পন্ন উপাদানযুক্ত ও রোগ নির্দেশকৃত এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ডোজেস ফর্মে উৎপাদিত পণ্য, ফুড অথবা নিউট্রিশন অথবা হারবাল অথবা ন্যাচারাল সাপ্লিমেন্টসমূহকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

নীতিতে বলা হয়, উল্লিখিত ফুড অথবা নিউট্রিশন অথবা হারবাল অথবা ন্যাচারাল সাপ্লিমেন্টসমূহ উৎপাদন ও আমদানির ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্দেশাবলি অনুসরণ করতে হবে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের প্রণীত জিএমপি (গুড ম্যানুফাকচারিং প্র্যাকটিস) নীতিমালা ও মান-নিয়ন্ত্রণ শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে। উল্লিখিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিতরণ, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রুহুল আমিন বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে, হয়নি এখনো। হতে গেলে আগে সরকারকে আইন প্রণয়ন করতে হবে, তারপর নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব ন্যস্ত করতে হবে। সুতরাং আপাতত অবস্থায় ফুড সাপ্লিমেন্টের দায়িত্ব আমাদের ওপরে নেই!’

কার ওপর দায়িত্ব বিষয়টি জানতে চাইলে রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার অন্তত জানা নেই কারা এর দেখভাল করছে। তবে আমরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ড্রাগ সুপারদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, অধিকাংশ ফুড সাপ্লিমেন্ট বাজে মানের এবং ক্ষতিকর। এগুলো বাজারে ছেড়ে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এসব সাপ্লিমেন্ট হলো মিস ব্রান্ডেড ড্রাগ! যেহেতু প্রতারিত হচ্ছে রোগীরা, সেহেতু বাজারে বা ফার্মেসিতে যেখানেই আমরা এগুলোকে দেখব জব্দ করব। যার কাছে পাব তাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসব। আর তাই আমরা এগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেছি।’

রুহুল আমিন আরো বলেন, ‘আমরা যেখানেই মিটিং করি, সেখানেই কিন্তু বলি যে এসব ফুড সাপ্লিমেন্ট অবৈধ। এগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। এবং এগুলো কোনোভাবেই উপকার করে না বরং ক্ষতি করে। সুতরাং আপনারা এগুলো বন্ধ করতে উদ্যোগ নেন। আমি ব্যক্তিগতভাবেও কাস্টমসকে আমদানি বন্ধে পরামর্শ দিয়েছি।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মো. লুৎফর রহমান (কাস্টম নীতি ও বাজেট) বলেন, ‘আমরা এগুলো কেন বন্ধ করব? ওয়ার্ল্ড কাস্টম অরগানাইজেশনের নিয়ম মেনে আমরা এগুলো ছাড় করতে বাধ্য। দেশের মানুষকে জিম্মি করতে পারব না আমরা।’

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এগুলোকে অবৈধ বলছে এমন কথা জানালে লুৎফর রহমান আরো বলেন, ‘এই কথাগুলো মাঠে-ঘাটে বললে চলবে? তারা যদি মনেই করে এগুলো অবৈধ তাহলে তারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাজস্ব বোর্ডকে লিখিত চিঠি দিক। কী কারণে অবৈধ সেটারও বিবরণ দিক। আমরা কাল থেকেই এগুলো বন্ধ করে দেব। আপনারা চিঠি দেবেন না, বন্ধ করতে উদ্যোগ নেবেন না; আবার লোকজনের সঙ্গে উল্টাপাল্টা কথা বলবেন, কীভাবে হবে?’

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পরিচালক বলেন, ‘কারা এসব ফুড সাপ্লিমেন্টের দেখভাল করবে? কারা নিয়ন্ত্রণ করবে? তার জন্য সরকারের উচিত এখনই আইন করে সেটা প্রয়োগ করা। নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকলে তো কিছুই ঠিক থাকবে না। বাবা-মা ছাড়া সন্তান ভালো দেখায় না।’

ফুড সাপ্লিমেন্ট তদারকির দায়িত্ব কাদের ওপর জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের (সংগ্রহ বিভাগ) উপপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল এহ্সান বলেন, ‘আমরা যেসব বিষয়ে নিয়ে কাজ করি তার ভেতরে ফুড সাপ্লিমেন্ট পড়ে না। এগুলো তো ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দেখার কথা। তারা যদি না দেখে তাহলে আমি জানি না কারা দেখে।’

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ডা. তড়িৎ কুমার সাহা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই এসব বন্ধ হোক অথবা একটা সুস্থ নীতিমালা হোক। যদি কোনো সাপ্লিমেন্টের আসলে দরকার হয় তবে সেটা সঠিক পন্থায় আসুক।’ জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কাজের সীমানার ভেতরে এসব ফুড সাপ্লিমেন্ট পড়ে না বলেও তিনি জানান।

শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মঈনুল খান বলেন, ‘অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্ট কোথায় আছে আপনারা তথ্য দেন আমরা তা জব্দ করব। আর বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধ সাপ্লিমেন্ট আসলে তো আমরা ধরিই!’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পুষ্টিবিদ তৃপ্তি চৌধুরী বলেন, ‘খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কেমিক্যাল আকারে যা ব্যবহার করা হচ্ছে তাই ফুড সাপ্লিমেন্ট। অতিদ্রুত ফুড সাপ্লিমেন্ট রোগীকে দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। খুব প্রয়োজন ছাড়া দেওয়া যাবে না। তবুও চিকিৎসকের দেওয়া নির্দিষ্ট নিয়ম বা রেনজ মেনে। তা না হলে কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’

স্কয়ার হাসপাতালের পুষ্টিবিদ নুসরাত জাহান বলেন, ‘খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থা ছাড়া আমরা ফুড সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করি না। কোনোভাবেই যখন রোগীর শরীরে খাদ্য ঘাটতি প্রবেশ করাতে পারছি না, তখন ব্যবহার করছি। আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া তো ফুড সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুষ্টিবিদ নাজনীন আক্তার বলেন, ‘খুব দরকার হলে যাবতীয় পরীক্ষা করিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। পরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই করা যাবে না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

বাজারে ফুড সাপ্লিমেন্ট, তদারকির কেউ নেই

আপডেট সময় ০৩:৫০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্রে ফুড সাপ্লিমেন্টের কথা লিখতে পারবেন না। ওষুধের দোকানেও ফুড সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর প্রায়ই এসব ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করে। তারপরও চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্রে ও বাজারে মিলছে ফুড সাপ্লিমেন্ট। বিদেশ থেকে আমদানি হওয়া এসব পণ্যের ওপর নজরদারি করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান নেই!

বাংলাদেশ কাস্টমসের ওয়ার্ল্ড কাস্টম অরগানাইজেশনের (ডব্লিউসিও) বিধি অনুসারে ফুড সাপ্লিমেন্ট আমদানির সুযোগ মিলছে। বিষয়টি নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল, খাদ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কাস্টমস এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, তা তদারকির দায়িত্ব তাদের না।

জাতীয় ওষুধনীতিতে বলা হয়েছে, ঔষধি গুণসম্পন্ন উপাদানযুক্ত ও রোগ নির্দেশকৃত এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ডোজেস ফর্মে উৎপাদিত পণ্য, ফুড অথবা নিউট্রিশন অথবা হারবাল অথবা ন্যাচারাল সাপ্লিমেন্টসমূহকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

নীতিতে বলা হয়, উল্লিখিত ফুড অথবা নিউট্রিশন অথবা হারবাল অথবা ন্যাচারাল সাপ্লিমেন্টসমূহ উৎপাদন ও আমদানির ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্দেশাবলি অনুসরণ করতে হবে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের প্রণীত জিএমপি (গুড ম্যানুফাকচারিং প্র্যাকটিস) নীতিমালা ও মান-নিয়ন্ত্রণ শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে। উল্লিখিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিতরণ, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রুহুল আমিন বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে, হয়নি এখনো। হতে গেলে আগে সরকারকে আইন প্রণয়ন করতে হবে, তারপর নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব ন্যস্ত করতে হবে। সুতরাং আপাতত অবস্থায় ফুড সাপ্লিমেন্টের দায়িত্ব আমাদের ওপরে নেই!’

কার ওপর দায়িত্ব বিষয়টি জানতে চাইলে রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার অন্তত জানা নেই কারা এর দেখভাল করছে। তবে আমরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ড্রাগ সুপারদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, অধিকাংশ ফুড সাপ্লিমেন্ট বাজে মানের এবং ক্ষতিকর। এগুলো বাজারে ছেড়ে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এসব সাপ্লিমেন্ট হলো মিস ব্রান্ডেড ড্রাগ! যেহেতু প্রতারিত হচ্ছে রোগীরা, সেহেতু বাজারে বা ফার্মেসিতে যেখানেই আমরা এগুলোকে দেখব জব্দ করব। যার কাছে পাব তাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসব। আর তাই আমরা এগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেছি।’

রুহুল আমিন আরো বলেন, ‘আমরা যেখানেই মিটিং করি, সেখানেই কিন্তু বলি যে এসব ফুড সাপ্লিমেন্ট অবৈধ। এগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। এবং এগুলো কোনোভাবেই উপকার করে না বরং ক্ষতি করে। সুতরাং আপনারা এগুলো বন্ধ করতে উদ্যোগ নেন। আমি ব্যক্তিগতভাবেও কাস্টমসকে আমদানি বন্ধে পরামর্শ দিয়েছি।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মো. লুৎফর রহমান (কাস্টম নীতি ও বাজেট) বলেন, ‘আমরা এগুলো কেন বন্ধ করব? ওয়ার্ল্ড কাস্টম অরগানাইজেশনের নিয়ম মেনে আমরা এগুলো ছাড় করতে বাধ্য। দেশের মানুষকে জিম্মি করতে পারব না আমরা।’

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এগুলোকে অবৈধ বলছে এমন কথা জানালে লুৎফর রহমান আরো বলেন, ‘এই কথাগুলো মাঠে-ঘাটে বললে চলবে? তারা যদি মনেই করে এগুলো অবৈধ তাহলে তারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাজস্ব বোর্ডকে লিখিত চিঠি দিক। কী কারণে অবৈধ সেটারও বিবরণ দিক। আমরা কাল থেকেই এগুলো বন্ধ করে দেব। আপনারা চিঠি দেবেন না, বন্ধ করতে উদ্যোগ নেবেন না; আবার লোকজনের সঙ্গে উল্টাপাল্টা কথা বলবেন, কীভাবে হবে?’

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পরিচালক বলেন, ‘কারা এসব ফুড সাপ্লিমেন্টের দেখভাল করবে? কারা নিয়ন্ত্রণ করবে? তার জন্য সরকারের উচিত এখনই আইন করে সেটা প্রয়োগ করা। নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকলে তো কিছুই ঠিক থাকবে না। বাবা-মা ছাড়া সন্তান ভালো দেখায় না।’

ফুড সাপ্লিমেন্ট তদারকির দায়িত্ব কাদের ওপর জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের (সংগ্রহ বিভাগ) উপপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল এহ্সান বলেন, ‘আমরা যেসব বিষয়ে নিয়ে কাজ করি তার ভেতরে ফুড সাপ্লিমেন্ট পড়ে না। এগুলো তো ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দেখার কথা। তারা যদি না দেখে তাহলে আমি জানি না কারা দেখে।’

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ডা. তড়িৎ কুমার সাহা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই এসব বন্ধ হোক অথবা একটা সুস্থ নীতিমালা হোক। যদি কোনো সাপ্লিমেন্টের আসলে দরকার হয় তবে সেটা সঠিক পন্থায় আসুক।’ জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কাজের সীমানার ভেতরে এসব ফুড সাপ্লিমেন্ট পড়ে না বলেও তিনি জানান।

শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মঈনুল খান বলেন, ‘অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্ট কোথায় আছে আপনারা তথ্য দেন আমরা তা জব্দ করব। আর বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধ সাপ্লিমেন্ট আসলে তো আমরা ধরিই!’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পুষ্টিবিদ তৃপ্তি চৌধুরী বলেন, ‘খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কেমিক্যাল আকারে যা ব্যবহার করা হচ্ছে তাই ফুড সাপ্লিমেন্ট। অতিদ্রুত ফুড সাপ্লিমেন্ট রোগীকে দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। খুব প্রয়োজন ছাড়া দেওয়া যাবে না। তবুও চিকিৎসকের দেওয়া নির্দিষ্ট নিয়ম বা রেনজ মেনে। তা না হলে কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’

স্কয়ার হাসপাতালের পুষ্টিবিদ নুসরাত জাহান বলেন, ‘খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থা ছাড়া আমরা ফুড সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করি না। কোনোভাবেই যখন রোগীর শরীরে খাদ্য ঘাটতি প্রবেশ করাতে পারছি না, তখন ব্যবহার করছি। আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া তো ফুড সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুষ্টিবিদ নাজনীন আক্তার বলেন, ‘খুব দরকার হলে যাবতীয় পরীক্ষা করিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। পরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই করা যাবে না।’