অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাবাকে হত্যার দৃশ্য দেখে ফেলায় শিশু নুশরাত জাহানকে খুন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত জামিল শেখের স্ত্রী আরজিনা বেগম, যিনি নিজেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, এবং তার প্রেমিক শাহিন ও শাহিনের স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানালো পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় জামিল শেখ (৩৮) ও তার মেয়ে নুশরাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের বলছে, জামিল ও তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে হত্যা করেন আর্জিনা এবং তাদের বাসায় সাবলেট থাকা শাহিন মল্লিক। আর্জিনা ও শাহীনের মাঝে পরকীয়া প্রেম রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার সন্দেহজনকভাবে আর্জিনাকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার খুলনা থেকে আটক করা হয় শাহিন ও তার স্ত্রী মাসুমাকে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য জানাতে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ।
ডিএমপি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে গুলশান জোনের উপকমিশনার মোশতাক আহমেদ বলেন, “পরিকল্পনা অনুযায়ী জামিলকে ঘুমস্ত অবস্থায় একটি কাঠের টুকরা নিয়ে আঘাত করা হয়। রুমটি অন্ধকার ছিল। জামিলের মাথায় আঘাত করার পর তিনি জেগে জেগে উঠলে আবার আঘাত করা হয়। এর পর আর কিছু বলতে পারেননি জামিল। তখন তার মৃত্যু ঘটে।
এসময় আঘাতের শব্দে পাশে থাকা নুশরাত জেগে ওঠে। সে তখন বলতে থাকে, “কী হয়েছে, আমার বাবাকে আঘাত করছ কেন?” এর পর তাকে রুমের বাইরে নিয়ে যান আর্জিনা।” এর পরও নুসরাত তার বাবাকে মারার কারণ জানতে চাইলে তখন তাকেও হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তার মা ও শাহিন।
মোশতাক জানান, প্রাথমিকভাবে আর্জিনা রাজি ছিল না। কিন্তু ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজে বাঁচতে পরে সম্মতি দেন। এরপর নুসরাতকে ওই কক্ষে পুনরায় ঢুকিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মোশতাক বলেন, জামিলকে হত্যার সময় তার ঘুমন্ত ছোট ছেলেটি জেগে উঠলেও সে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়ায় বেঁচে যায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























