ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করাই বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ : অর্থমন্ত্রী কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত দেশজুড়ে ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের ঘোষণা কৃষিমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ সহসাই কমবে না : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য নতুন কারিকুলামে কোচিং নির্ভরতা কমবে: শিক্ষামন্ত্রী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে আজ রাত থেকেই: ইরান মাদারীপুরে পত্রিকাবাহী গাড়ির সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ তৌহিদ আফ্রিদি প্রতারণা মামলায় ফের গ্রেফতার দেশ মাদকমুক্ত না হলে বাজেট উপকারে আসবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শিশুকন্যাকে ধর্ষণে দুই মামার যাবজ্জীবন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের চন্ডীগড়ে নিজেদের ১০ বছর বয়সী ভাগ্নীকে ধর্ষণের দায়ে তার দুই মামাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। মামাদের দ্বারা নির্যাতিতা ওই শিশুটি গত আগস্ট মাসে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। তার আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ঘটনাটি ভারতের সংবাদমাধ্যমে শিরোনামে উঠে এসেছিল, যখন ওই শিশুটির পরিবার তার গর্ভপাতের আবেদন নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে হাজির হয়েছিল।

সুপ্রীম কোর্টও যেমন গর্ভপাতের আবেদন খারিজ করেছিল, তার আগে পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্ট এবং চন্ডীগড়ের আদালতও শিশুটির পরিবারের সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ভারতের আইন অনুযায়ী গর্ভসঞ্চারের ২০ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করানো যায়। কিন্তু যখন এই শিশুটির পেটে সন্তান আছে বলে বোঝা যায়, ততদিনে সেই সময় পেরিয়ে গেছে।

এই দেরীর কারণ হিসাবে তার পরিবার বলেছিল, শিশুটি যেহেতু বুঝতেই পারে নি যে তার সঙ্গে কী অত্যাচার হয়েছে, সে নিজের বাবা-মাকে জানাতেও পারে নি বিষয়টি। পেটে ব্যথা শুরু হওয়ার পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তার বাবা-মা জানতে পারেন যে তাদের ১০ বছর বয়সী মেয়ে গর্ভধারণ করেছে। তারপরেই তার এক মামাকে গ্রেপ্তার করা হয় ধর্ষণের দায়ে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সর্বোচ্চ চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে নির্যাতিতা ওই শিশুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। সে নিজে যেমন জানেই না যে সে মা হয়েছে, তেমনই তার বাবা-মা-ও ওই সদ্যজাতের মুখও দেখেন নি। কিন্তু পুলিশ ওই সদ্যজার ডিএনএ সংগ্রহ করে তা মিলিয়ে দেখতে যায় আগেই ধৃত নির্যাতিতার মামার সঙ্গে। তখন ডিএনএ না মেলায় প্রশ্ন ওঠে যে তাহলে কে ধর্ষণ করেছিল ওই শিশুটিকে!

তারপর ওই নির্যাতিতাকে দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করে জানা যায় বছর চল্লিশের বড় মামা ছাড়া তার ছোট মামার নামও। সদ্যজাতর ডিএনএ মিলে যায় নির্যাতিতার ছোট মামার সঙ্গে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গত মঙ্গলবার ওই দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল চন্ডীগড়েরর একটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালত। কারাদণ্ডের আদেশ ছাড়াও ওই দুই ভাইয়ের প্রত্যেককে তিন লক্ষ টাকা করে দিতে হবে নির্যাতিতা শিশুটিকে।

দোষীদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে শাস্তি কমানোর আর্জি জানিয়ে বলেছিলেন এরা দুজনেই পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস, তাদের ছোট ছোট শিশুও আছে। কিন্তু সরকারি আইনজীবীরা বলেন দোষী দুজনে তাদের নিজের বোন এবং বোনঝির বিশ্বাসভঙ্গ করে ওই জঘন্য অপরাধ ঘটিয়েছে। কোনও ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানির ৭-১ গোলে জয়ের ম্যাচে মেসিদের উল্লাস, ভিডিও ভাইরাল

শিশুকন্যাকে ধর্ষণে দুই মামার যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ১১:২৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের চন্ডীগড়ে নিজেদের ১০ বছর বয়সী ভাগ্নীকে ধর্ষণের দায়ে তার দুই মামাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। মামাদের দ্বারা নির্যাতিতা ওই শিশুটি গত আগস্ট মাসে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। তার আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ঘটনাটি ভারতের সংবাদমাধ্যমে শিরোনামে উঠে এসেছিল, যখন ওই শিশুটির পরিবার তার গর্ভপাতের আবেদন নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে হাজির হয়েছিল।

সুপ্রীম কোর্টও যেমন গর্ভপাতের আবেদন খারিজ করেছিল, তার আগে পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্ট এবং চন্ডীগড়ের আদালতও শিশুটির পরিবারের সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ভারতের আইন অনুযায়ী গর্ভসঞ্চারের ২০ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করানো যায়। কিন্তু যখন এই শিশুটির পেটে সন্তান আছে বলে বোঝা যায়, ততদিনে সেই সময় পেরিয়ে গেছে।

এই দেরীর কারণ হিসাবে তার পরিবার বলেছিল, শিশুটি যেহেতু বুঝতেই পারে নি যে তার সঙ্গে কী অত্যাচার হয়েছে, সে নিজের বাবা-মাকে জানাতেও পারে নি বিষয়টি। পেটে ব্যথা শুরু হওয়ার পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তার বাবা-মা জানতে পারেন যে তাদের ১০ বছর বয়সী মেয়ে গর্ভধারণ করেছে। তারপরেই তার এক মামাকে গ্রেপ্তার করা হয় ধর্ষণের দায়ে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সর্বোচ্চ চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে নির্যাতিতা ওই শিশুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। সে নিজে যেমন জানেই না যে সে মা হয়েছে, তেমনই তার বাবা-মা-ও ওই সদ্যজাতের মুখও দেখেন নি। কিন্তু পুলিশ ওই সদ্যজার ডিএনএ সংগ্রহ করে তা মিলিয়ে দেখতে যায় আগেই ধৃত নির্যাতিতার মামার সঙ্গে। তখন ডিএনএ না মেলায় প্রশ্ন ওঠে যে তাহলে কে ধর্ষণ করেছিল ওই শিশুটিকে!

তারপর ওই নির্যাতিতাকে দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করে জানা যায় বছর চল্লিশের বড় মামা ছাড়া তার ছোট মামার নামও। সদ্যজাতর ডিএনএ মিলে যায় নির্যাতিতার ছোট মামার সঙ্গে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গত মঙ্গলবার ওই দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল চন্ডীগড়েরর একটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালত। কারাদণ্ডের আদেশ ছাড়াও ওই দুই ভাইয়ের প্রত্যেককে তিন লক্ষ টাকা করে দিতে হবে নির্যাতিতা শিশুটিকে।

দোষীদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে শাস্তি কমানোর আর্জি জানিয়ে বলেছিলেন এরা দুজনেই পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস, তাদের ছোট ছোট শিশুও আছে। কিন্তু সরকারি আইনজীবীরা বলেন দোষী দুজনে তাদের নিজের বোন এবং বোনঝির বিশ্বাসভঙ্গ করে ওই জঘন্য অপরাধ ঘটিয়েছে। কোনও ছাড় দেওয়া উচিত নয়।