আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর একটি ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশালের বিমানবন্দর থানার সারসী গ্রামের নূর মুন্সির ছেলে মো. সাগর মুন্সি। এর মধ্যে সাগর পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে তার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেন। সেটি চালিয়ে তিনি ধল্লা বাজার ঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করতেন।
২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি সোহান। বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা বললেও পরে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যায় খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি।
তদন্তে উঠে আসে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম সিংগাইর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে এ রায় দেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















