ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩ নতুন দায়িত্ব পেলেন ফজলুর রহমান জুলাই সনদের আলোকে সংস্কারগুলো এগিয়ে নেব: আইনমন্ত্রী গণভোটের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অপমান করা: জামায়াত আমির কেশম দ্বীপে হামলার ‘মূল্য দিতে হবে’ যুক্তরাষ্ট্রকে:গালিবাফের হুঁশিয়ারি ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-সারজিসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনে আইফোন চুরির অভিযোগ শিল্প বাঁচাতে চাই সুষ্ঠু জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নতুন দায়িত্বে ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি নেপালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও কারফিউ জারি, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের শান্তির বার্তা

টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকাটিতে থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাটসংলগ্ন সাগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে একদল রোহিঙ্গা নৌকাযোগে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছে পৌঁছালে প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এপার থেকে চারজন মাঝিমাল্লা তাদের আনতে গিয়েছিলেন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান বলেন, সীমান্তের ওপারের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তারা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছিল। নৌকাডুবির খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়ার জেলে মো. ইসমাইল জানান, নৌকাটিতে মোট ৩১ জন আরোহী ছিলেন। নৌকাডুবির পর স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে এখনো ১৩ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু নেই বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। তাদের পরিচয় এবং বাংলাদেশে আসার কারণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও সামরিক অভিযানের মুখে কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩

আপডেট সময় ০২:২০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকাটিতে থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাটসংলগ্ন সাগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে একদল রোহিঙ্গা নৌকাযোগে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছে পৌঁছালে প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এপার থেকে চারজন মাঝিমাল্লা তাদের আনতে গিয়েছিলেন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান বলেন, সীমান্তের ওপারের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তারা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছিল। নৌকাডুবির খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়ার জেলে মো. ইসমাইল জানান, নৌকাটিতে মোট ৩১ জন আরোহী ছিলেন। নৌকাডুবির পর স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে এখনো ১৩ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু নেই বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। তাদের পরিচয় এবং বাংলাদেশে আসার কারণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও সামরিক অভিযানের মুখে কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।