ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে পানিতে বিষ মিশিয়ে যৌথবাহিনী সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে: মান্না অস্ত্র প্রস্তুত, তবে ইরানকে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ঘিরে উত্তেজনা-ধস্তাধস্তি, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১

বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা : চিফ প্রসিকিউটর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে আবদুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহাবুব আলম অন্য মামলায় বর্তমানে আটক রয়েছেন।

শুনানি শেষে অভিযুক্তদের আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেফতার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, একরাম হতাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপোর্ট দিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দিয়েছি। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। যারা আটক আছে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আর যারা পলাতক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৫ অগাস্ট শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বদিউর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই এ ঘটনা ঘটেছিল। একরাম ছিলেন তার প্রতিপক্ষ। একরামকে হত্যার পর তার সম্পত্তি এই বদি বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেন। নেপথ্য নায়ক ছিল বদি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের মতের বিরুদ্ধে গেলেই টার্গেট করে অপহরণ করতো। কাউকে আয়নাঘরে বা কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হতো। এমনই একটি ঘটনা একরাম হত্যা। মোবাইল সুইচ অন থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী ও মেয়েরা ফায়ারিং আওয়াজ ও কথোপকথন শুনতে পেরেছিল। এসব কিছু আমরা আলামত হিসেবে নিয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে সুপ্রিরিয়র রেসপনসিবিলিটি হিসেবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল,ওবায়েদুল কাদের ও বদিউর রহমান বদির নাম এসেছে।

র‍্যাবের এক কথিত মাদক বিরোধী অভিযানে ২০১৮ সালের ২৬শে মে একরামুল হক কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে নোয়াখালিয়া পাড়ায় নিহত হয়েছিলেন।

তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এবং প্রায় এক যুগ তিনি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। তখন কথিত বন্দুকযুদ্ধে তার নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ড করা একটি অডিও প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

পরে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম। এ মামলার পর আগে থেকেই অন্য একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আটক থাকা বদিকে এই মামলাতেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দেখানো হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা : চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৫:২০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে আবদুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহাবুব আলম অন্য মামলায় বর্তমানে আটক রয়েছেন।

শুনানি শেষে অভিযুক্তদের আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেফতার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, একরাম হতাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপোর্ট দিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দিয়েছি। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। যারা আটক আছে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আর যারা পলাতক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৫ অগাস্ট শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বদিউর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই এ ঘটনা ঘটেছিল। একরাম ছিলেন তার প্রতিপক্ষ। একরামকে হত্যার পর তার সম্পত্তি এই বদি বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেন। নেপথ্য নায়ক ছিল বদি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের মতের বিরুদ্ধে গেলেই টার্গেট করে অপহরণ করতো। কাউকে আয়নাঘরে বা কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হতো। এমনই একটি ঘটনা একরাম হত্যা। মোবাইল সুইচ অন থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী ও মেয়েরা ফায়ারিং আওয়াজ ও কথোপকথন শুনতে পেরেছিল। এসব কিছু আমরা আলামত হিসেবে নিয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে সুপ্রিরিয়র রেসপনসিবিলিটি হিসেবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল,ওবায়েদুল কাদের ও বদিউর রহমান বদির নাম এসেছে।

র‍্যাবের এক কথিত মাদক বিরোধী অভিযানে ২০১৮ সালের ২৬শে মে একরামুল হক কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে নোয়াখালিয়া পাড়ায় নিহত হয়েছিলেন।

তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এবং প্রায় এক যুগ তিনি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। তখন কথিত বন্দুকযুদ্ধে তার নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ড করা একটি অডিও প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

পরে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম। এ মামলার পর আগে থেকেই অন্য একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আটক থাকা বদিকে এই মামলাতেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দেখানো হয়।