ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে এই অঞ্চলের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকেও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনবিসি নিউজসহ একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর প্রথম দফার হামলার প্রস্তুতিকালেও পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তর একইভাবে সেনা সরিয়ে নিয়েছিল। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার রুশ গণমাধ্যম আরটি এ খবর জানায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর আগে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা সরিয়ে নেয় পেন্টাগন। ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে তাদের সুরক্ষিত রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো, মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সীমিতসংখ্যক সেনাসদস্য বজায় রাখা। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার আগে ঝুঁকির মুখে থাকা বহু সেনাকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বেসামরিক হোটেল ও ভবনে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। ওই সময় ইরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান অভিযোগ করেছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের ‘মানবঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স এই সেনা স্থানান্তরের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও জানান, সামরিক সক্ষমতা ও অভিযানের প্রস্তুতির স্বার্থে নিয়মিত বিরতিতে সেনাদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করা হয়। মার্কিন সেনা ও স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
এছাড়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরব থেকেও অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ থেকে কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর রয়টার্স প্রকাশ করলেও, পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এসব প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ স্থাপনা এবং খার্গ ও কেশম দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ জ্বালানি পরিবহণের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথসহ কয়েকজন উপদেষ্টা ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন করে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে অন্য উপদেষ্টারা সতর্ক করে বলেছেন, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ ছাড়া বড় ধরনের কোনো অভিযান চালানো ঠিক হবে না।
গত সোমবার আকস্মিক সফরে ইসরায়েল যান পিট হেগসেথ, যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এই বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো হামলা চালাবে না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















