ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সৌদি সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করল যুক্তরাজ্য

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবিলায় সৌদি আরবের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, রয়্যাল এয়ারফোর্সের এই যুদ্ধবিমানগুলো শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক আকাশ অভিযানে অংশ নেবে। সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামোকে হুথিদের আকাশপথের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করাই এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকার এ ঘোষণা দেয়।

ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, সৌদি আরবে মোতায়েন করা এই টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো হুথিদের ছোড়া ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজেই ব্যবহৃত হবে। ইয়েমেনের ভেতরে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক মিশনে এসব যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হবে না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে থেকেই আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আরবকে সহায়তা দিয়ে আসছে। গত দুই মাসে হুথি বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বারবার হামলা চালিয়েছে।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত গত জুলাই মাসে, যখন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। সেই সময় ইরান থেকে আসা একটি বিমান অবতরণের অপেক্ষায় ছিল, তবে সৌভাগ্যের বিষয় যে হামলায় বিমানটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হুথিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছিল।

হুথি বিদ্রোহীদের মূল দাবি হলো, তাদের ওপর সৌদি আরবের আরোপ করা নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। মূলত এই দাবিকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, ইয়েমেনের স্থলভাগেও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের রক্তক্ষয়ী লড়াই অব্যাহত রয়েছে। হুথিরা দেশটির আরও নতুন ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী এই আঞ্চলিক সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করল যুক্তরাজ্য

সৌদি সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করল যুক্তরাজ্য

আপডেট সময় ০২:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবিলায় সৌদি আরবের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, রয়্যাল এয়ারফোর্সের এই যুদ্ধবিমানগুলো শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক আকাশ অভিযানে অংশ নেবে। সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামোকে হুথিদের আকাশপথের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করাই এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকার এ ঘোষণা দেয়।

ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, সৌদি আরবে মোতায়েন করা এই টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো হুথিদের ছোড়া ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজেই ব্যবহৃত হবে। ইয়েমেনের ভেতরে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক মিশনে এসব যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হবে না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে থেকেই আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আরবকে সহায়তা দিয়ে আসছে। গত দুই মাসে হুথি বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বারবার হামলা চালিয়েছে।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত গত জুলাই মাসে, যখন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। সেই সময় ইরান থেকে আসা একটি বিমান অবতরণের অপেক্ষায় ছিল, তবে সৌভাগ্যের বিষয় যে হামলায় বিমানটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হুথিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছিল।

হুথি বিদ্রোহীদের মূল দাবি হলো, তাদের ওপর সৌদি আরবের আরোপ করা নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। মূলত এই দাবিকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, ইয়েমেনের স্থলভাগেও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের রক্তক্ষয়ী লড়াই অব্যাহত রয়েছে। হুথিরা দেশটির আরও নতুন ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী এই আঞ্চলিক সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।