হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘসময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ১২টি উড়োজাহাজ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জন্য এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও জিএমজি এয়ারলাইনসের এই বিমানগুলো রপ্তানি কার্গো ভবনের সামনের মূল্যবান জায়গা দখল করে রেখেছে। বেবিচকের তথ্যমতে, আনুষঙ্গিক সরঞ্জামসহ এগুলো প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে রয়েছে। এখান থেকে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে নতুন করে প্রায় ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিং বে তৈরি করা সম্ভব হতো, যা বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতো।
উড়োজাহাজগুলোর উড্ডয়নযোগ্যতার সনদ বা এয়ারওয়ার্দিনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিধিমোতাবেক এগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা হয়। বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও মালিকপক্ষ এগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় ২০২৪ সালের ২৬ মে বেবিচক এগুলো বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয় এবং ১ জুন জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়াটি এখন আইনি জটিলতায় থমকে আছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের ঋণের বিপরীতে দায়বদ্ধ এই উড়োজাহাজগুলো বাজেয়াপ্তের আদেশ বাতিল চেয়ে অর্থঋণ আদালতে আবেদন করেছে, যার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে মামলার কার্যক্রম বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও সেগুলো সরানো হয়নি।
আইনি এই জটিলতার মধ্যেই নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বেবিচক। গত ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৩২০তম বোর্ড সভায় নিলামের ভিত্তিমূল্য ও অপসারণের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিনটি প্রতিষ্ঠান এই উড়োজাহাজগুলো কেনার জন্য দরপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে এরোপোরিয়া অ্যারোস্পেস সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার প্রস্তাব করেছে, যা করসহ প্রায় ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সমপরিমাণ। এছাড়া সেনা কল্যাণ সংস্থা কর ছাড়া ৩ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং সেফ ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন লিমিটেড আড়াই লাখ মার্কিন ডলার প্রস্তাব করেছে। সর্বোচ্চ দরদাতার বিষয়টি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় পরামর্শ দিয়েছে যে, নিলামে বিক্রি সম্পন্ন হলে প্রাপ্ত অর্থ আপাতত বেবিচকের আলাদা একটি অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে। প্রশাসনিক অনুমোদন ও আইনি বাধা কাটিয়ে এই জায়গাটি মুক্ত করা গেলে একদিকে যেমন বিমানবন্দরের কার্যক্রমে চাপ কমবে, তেমনি রাজস্ব আয়ের নতুন পথ উন্মোচিত হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে উড়োজাহাজগুলো ঠিক কবে নাগাদ সরানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























