ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জ্বালানি বাজারের বড় বিপর্যয় এখনও বাকি: কাতারের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে মারাত্মক ধাক্কা এখনো আসেনি বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। দোহায় আয়োজিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জ্বালানি সংকটের চূড়ায় আমরা এখনো পৌঁছাইনি এবং আগামী দিন ও মাসগুলোতে সরবরাহ শৃঙ্খল ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা।

কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আল থানি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলোর মধ্যে সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত হামলা এবং তার জবাবে তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা চরমে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই এখানে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও প্রভাব পড়তে পারে। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলার ঘটনাটি ছিল অপ্রত্যাশিত।

এ বিষয়ে আল থানি বলেন, হামলার খবরটি আমাদের বিস্মিত করেছিল, তবে এর পরপরই তেহরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, মধ্যস্থতা করার অর্থ এই নয় যে আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত নয়- এমনটা ভাবতে হবে।

কাতার এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার মানে এই নয় যে, নিজেদের সীমান্ত ও ভূখণ্ড রক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা পিছিয়ে থাকব। বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের ঘোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপাবে। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে কাতারের যোগাযোগ কখনোই বিচ্ছিন্ন হয়নি। বরং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন মতপার্থক্য সত্ত্বেও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। অতীতে ইরান ও কাতারের মধ্যে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক ছিল এবং অভিন্ন সমুদ্রতলীয় গ্যাসক্ষেত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান সমঝোতা প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে আল থানি বলেন, টেকসই শান্তির জন্য জিসিসি সদস্য দেশ, তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের নিয়ে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংলাপ প্রয়োজন। তিনি ফ্রান্স ও জার্মানির ঐতিহাসিক বৈরিতার অবসান এবং পরবর্তী সহযোগিতার উদাহরণের কথা টেনে বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী এবং তাদের সঙ্গে সহাবস্থানের উপায় আমাদেরই বের করতে হবে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত তিন-চার দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের সম্মিলিত সামরিক অভিজ্ঞতার ফলে ৯০ শতাংশেরও বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে। মার্চের শুরুর দিকে এক হামলার সময় কাতার নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল বলেও তিনি দাবি করেন। কাতারের কাছ থেকে যেভাবে বিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প।

শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি আরও ঘোষণা করেন যে, অচিরেই কাতার নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তার ওপর এই নতুন উদ্যোগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে কোন কোন দেশ এই নতুন জোটে যুক্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। সংঘাত এড়াতে এখন কাতার তার সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক মধ্যস্থতার ওপর সমান গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি অন্য অংশীদার দেশগুলোর সামরিক কর্মীরাও অবস্থান করেন। এ ছাড়া নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আল থানি। আল থানি বলেন, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে আরও ঘোষণা করছি, শিগগিরই আমরা একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেব।

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও দাঙ্গা: প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে আংশিক কারফিউ

জ্বালানি বাজারের বড় বিপর্যয় এখনও বাকি: কাতারের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ১১:০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে মারাত্মক ধাক্কা এখনো আসেনি বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। দোহায় আয়োজিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জ্বালানি সংকটের চূড়ায় আমরা এখনো পৌঁছাইনি এবং আগামী দিন ও মাসগুলোতে সরবরাহ শৃঙ্খল ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা।

কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আল থানি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলোর মধ্যে সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত হামলা এবং তার জবাবে তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা চরমে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই এখানে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও প্রভাব পড়তে পারে। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলার ঘটনাটি ছিল অপ্রত্যাশিত।

এ বিষয়ে আল থানি বলেন, হামলার খবরটি আমাদের বিস্মিত করেছিল, তবে এর পরপরই তেহরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, মধ্যস্থতা করার অর্থ এই নয় যে আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত নয়- এমনটা ভাবতে হবে।

কাতার এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার মানে এই নয় যে, নিজেদের সীমান্ত ও ভূখণ্ড রক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা পিছিয়ে থাকব। বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের ঘোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপাবে। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে কাতারের যোগাযোগ কখনোই বিচ্ছিন্ন হয়নি। বরং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন মতপার্থক্য সত্ত্বেও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। অতীতে ইরান ও কাতারের মধ্যে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক ছিল এবং অভিন্ন সমুদ্রতলীয় গ্যাসক্ষেত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান সমঝোতা প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে আল থানি বলেন, টেকসই শান্তির জন্য জিসিসি সদস্য দেশ, তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের নিয়ে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংলাপ প্রয়োজন। তিনি ফ্রান্স ও জার্মানির ঐতিহাসিক বৈরিতার অবসান এবং পরবর্তী সহযোগিতার উদাহরণের কথা টেনে বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী এবং তাদের সঙ্গে সহাবস্থানের উপায় আমাদেরই বের করতে হবে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত তিন-চার দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের সম্মিলিত সামরিক অভিজ্ঞতার ফলে ৯০ শতাংশেরও বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে। মার্চের শুরুর দিকে এক হামলার সময় কাতার নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল বলেও তিনি দাবি করেন। কাতারের কাছ থেকে যেভাবে বিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প।

শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি আরও ঘোষণা করেন যে, অচিরেই কাতার নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তার ওপর এই নতুন উদ্যোগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে কোন কোন দেশ এই নতুন জোটে যুক্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। সংঘাত এড়াতে এখন কাতার তার সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক মধ্যস্থতার ওপর সমান গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি অন্য অংশীদার দেশগুলোর সামরিক কর্মীরাও অবস্থান করেন। এ ছাড়া নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আল থানি। আল থানি বলেন, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে আরও ঘোষণা করছি, শিগগিরই আমরা একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেব।