ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বন্দুক হামলার কবলে বলিউড তারকারা: নিরাপত্তার সংকটে রুপালি জগত

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত বন্দুক হামলার শিকার হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় তিনি লক্ষ্যবস্তু হন। এই হামলায় টাইগার কিছুটা আঘাত পেয়েছেন এবং তার গাড়িচালকসহ একজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জনপ্রিয় এই অভিনেতার ওপর এমন হামলার পর থেকে পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিনেতা হিসেবে বরাবরই মার্জিত ও বিনয়ী টাইগার শ্রফ যে ব্যক্তিগত শত্রুতার শিকার হতে পারেন, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। এ তালিকায় রয়েছে—অভিনেতা, পরিচালক, গায়ক, সোশ্যাল মিডিয়া তারকাও রয়েছেন। চলুন জেনে নিই, কোন কোন তারকা এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন। বাবা জ্যাকি শ্রফের পথ অনুসরণ করে অভিনয়ে পা রাখেন টাইগার শ্রফ। তারও শত্রু থাকতে পারে, এ কথা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কেউই বিশ্বাস করেন না। কারণ পূর্বেই হত্যার হুমকি পাওয়ায় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হন। তবু এ ঘটনা আশঙ্কা বাড়ায় যে, স্পষ্টভাষী তারকারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন সালমান খানও এর আগে হামলার কবলে পড়েছেন। ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল গভীর রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত তার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে বাইকে চড়ে এসে একদল দুষ্কৃতিকারী গুলি চালায়। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করলে পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সালমান খানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউড তারকাদের বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বলিউডের মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর সালমান খান।

প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক রাকেশ রোশনও এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০০০ সালের ২১ জানুয়ারি। সে দিন সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের পশ্চিম সান্তাক্রুজের তিলক রোডে নিজ অফিসের কাছে অজ্ঞাত দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার বাঁ হাতে এবং অন্যটি বুকের পাশ দিয়ে চলে যায়। তবে ভাগ্যক্রমে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এর আগে ১৯৯৭ সালের আগস্টে টি-সিরিজের প্রতিষ্ঠাতা গুলশান কুমারকে মুম্বাইয়ের আন্ধেরির জিতেশ্বর মহাদেব মন্দিরের বাইরে ১৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যা করা হয়। অথচ গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বন্দুকধারীরা।

বলিউডের বাইরে বসবাসরত তারকাদের পরিবারও যে নিরাপদ নয়, তা দিশা পাটানির ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে দিশা পাটানির বাড়ির বাইরে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। তদন্তে গোল্ডি ব্রার গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। একই বছর ১৭ আগস্ট গুরুগ্রামে ইউটিউবার এলভিশ যাদবের বাড়িতে মোটরসাইকেলে করে এসে ২৪ রাউন্ডের বেশি গুলি চালানো হয়। ঘটনার সময় এলভিশ বাড়িতে না থাকলেও তার পরিবার ভেতরে ছিল। দ্য বহু গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করে এবং পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এই হামলার পেছনে গোল্ডি ব্রার গ্যাং জড়িত ছিল, যা দিশার বোনের সঙ্গে যুক্ত কোনো বিবাদের ফসল। ‘বিগ বস ওটিটি টু’ বিজয়ী ইউটিউবার এলভিশ যাদব। স্পষ্ট ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।

কঙ্গনা রাণৌতও এ ধরনের ঝুঁকির বাইরে ছিলেন না। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে হিমাচল প্রদেশের মানালিতে অবস্থিত তার বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১৯৯৭ সালে পরিচালক রাজীব রাই মুম্বাইয়ের মধ্যাঞ্চলে আবু সালেম গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যের হামলার মুখে পড়েন। নিজের অফিস থেকে বের হওয়ার সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, তবে নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপে তিনি অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান এবং সংঘর্ষে এক হামলাকারী আহত হয়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। যদিও কেউ আহত হননি। বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রাণৌত।

বিদেশের মাটিতেও বলিউড ও সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা নিরাপদ নন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কানাডায় পাঞ্জাবি গায়ক এপি ধিলনের বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণ করা হয়। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় এই ঘটনায় এবং কানাডায় অভিজিৎ কিংরা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাকে আদালত ৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এদিকে কমেডিয়ান কপিল শর্মার মালিকানাধীন কানাডার একটি রেস্তোরাঁর বাইরে গত বছরের ১০ জুলাই গুলি চালায় মানসিং সেখন নামের এক ব্যক্তি। কানাডিয়ান পুলিশ গাড়ির সূত্র ধরে তাকে শনাক্ত করার পর ভারতে ফেরার সাথে সাথেই গ্রেপ্তার করা হয়। সেখন গোল্ডি ব্রার গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বন্দুক হামলার কবলে বলিউড তারকারা: নিরাপত্তার সংকটে রুপালি জগত

আপডেট সময় ০৪:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত বন্দুক হামলার শিকার হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় তিনি লক্ষ্যবস্তু হন। এই হামলায় টাইগার কিছুটা আঘাত পেয়েছেন এবং তার গাড়িচালকসহ একজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জনপ্রিয় এই অভিনেতার ওপর এমন হামলার পর থেকে পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিনেতা হিসেবে বরাবরই মার্জিত ও বিনয়ী টাইগার শ্রফ যে ব্যক্তিগত শত্রুতার শিকার হতে পারেন, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। এ তালিকায় রয়েছে—অভিনেতা, পরিচালক, গায়ক, সোশ্যাল মিডিয়া তারকাও রয়েছেন। চলুন জেনে নিই, কোন কোন তারকা এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন। বাবা জ্যাকি শ্রফের পথ অনুসরণ করে অভিনয়ে পা রাখেন টাইগার শ্রফ। তারও শত্রু থাকতে পারে, এ কথা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কেউই বিশ্বাস করেন না। কারণ পূর্বেই হত্যার হুমকি পাওয়ায় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হন। তবু এ ঘটনা আশঙ্কা বাড়ায় যে, স্পষ্টভাষী তারকারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন সালমান খানও এর আগে হামলার কবলে পড়েছেন। ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল গভীর রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত তার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে বাইকে চড়ে এসে একদল দুষ্কৃতিকারী গুলি চালায়। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করলে পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সালমান খানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউড তারকাদের বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বলিউডের মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর সালমান খান।

প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক রাকেশ রোশনও এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০০০ সালের ২১ জানুয়ারি। সে দিন সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের পশ্চিম সান্তাক্রুজের তিলক রোডে নিজ অফিসের কাছে অজ্ঞাত দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার বাঁ হাতে এবং অন্যটি বুকের পাশ দিয়ে চলে যায়। তবে ভাগ্যক্রমে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এর আগে ১৯৯৭ সালের আগস্টে টি-সিরিজের প্রতিষ্ঠাতা গুলশান কুমারকে মুম্বাইয়ের আন্ধেরির জিতেশ্বর মহাদেব মন্দিরের বাইরে ১৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যা করা হয়। অথচ গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বন্দুকধারীরা।

বলিউডের বাইরে বসবাসরত তারকাদের পরিবারও যে নিরাপদ নয়, তা দিশা পাটানির ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে দিশা পাটানির বাড়ির বাইরে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। তদন্তে গোল্ডি ব্রার গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। একই বছর ১৭ আগস্ট গুরুগ্রামে ইউটিউবার এলভিশ যাদবের বাড়িতে মোটরসাইকেলে করে এসে ২৪ রাউন্ডের বেশি গুলি চালানো হয়। ঘটনার সময় এলভিশ বাড়িতে না থাকলেও তার পরিবার ভেতরে ছিল। দ্য বহু গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করে এবং পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এই হামলার পেছনে গোল্ডি ব্রার গ্যাং জড়িত ছিল, যা দিশার বোনের সঙ্গে যুক্ত কোনো বিবাদের ফসল। ‘বিগ বস ওটিটি টু’ বিজয়ী ইউটিউবার এলভিশ যাদব। স্পষ্ট ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।

কঙ্গনা রাণৌতও এ ধরনের ঝুঁকির বাইরে ছিলেন না। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে হিমাচল প্রদেশের মানালিতে অবস্থিত তার বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১৯৯৭ সালে পরিচালক রাজীব রাই মুম্বাইয়ের মধ্যাঞ্চলে আবু সালেম গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যের হামলার মুখে পড়েন। নিজের অফিস থেকে বের হওয়ার সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, তবে নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপে তিনি অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান এবং সংঘর্ষে এক হামলাকারী আহত হয়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। যদিও কেউ আহত হননি। বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রাণৌত।

বিদেশের মাটিতেও বলিউড ও সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা নিরাপদ নন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কানাডায় পাঞ্জাবি গায়ক এপি ধিলনের বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণ করা হয়। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় এই ঘটনায় এবং কানাডায় অভিজিৎ কিংরা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাকে আদালত ৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এদিকে কমেডিয়ান কপিল শর্মার মালিকানাধীন কানাডার একটি রেস্তোরাঁর বাইরে গত বছরের ১০ জুলাই গুলি চালায় মানসিং সেখন নামের এক ব্যক্তি। কানাডিয়ান পুলিশ গাড়ির সূত্র ধরে তাকে শনাক্ত করার পর ভারতে ফেরার সাথে সাথেই গ্রেপ্তার করা হয়। সেখন গোল্ডি ব্রার গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে।