ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান

আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

‘আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেব আকাশে’—নিজের গানের সুরকে সত্য করে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হঠাৎ আকাশে উড়াল দিয়েছিলেন রক কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। তার এই অকালপ্রস্থান সংগীতপ্রেমীদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলা গানের অনন্য এই ধ্রুবতারার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হঠাৎ তার উড়ে যাওয়া কেউ-ই মেনে নিতে পারেননি। তাছাড়াও অনেক মিশ্র অ্যালবামে কাজ করেছেন আইয়ুব বাচ্চু।

পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও সংগীত জীবনের সূচনা

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। তার বাবা ইশহাক চৌধুরী এবং মা নুরজাহান বেগম। সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা বাচ্চুর পরিবারের বা ভাই-বোনদের কেউ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে ছোটবেলা থেকেই তার রক্তে মিশে গিয়েছিল গিটার বাজানোর নেশা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গিটারিস্ট জিমি হেনড্রিক্সকে দেখার পর গিটারে অনুপ্রাণিত হন তিনি। ১৯৭৭ সালে তার সংগীত জীবনের মূল যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৮ সালে তিনি ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন এবং তার প্রথম গান ছিল ‘হারানো বিকেলের গল্প’। পরবর্তীতে তিনি সোলসে যোগ দেন এবং ১৯৮০ থেকে এক দশক ব্যান্ডটির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। যতটা জানা যায়, জিমি হেনড্রিক্সকে দেখার পর গিটারের বিষয়টা প্রথম সংক্রমিত করে আইয়ুব বাচ্চুকে।

এলআরবির প্রতিষ্ঠা ও কালজয়ী অ্যালবামসমূহ

সোলস ছাড়ার পর ১৯৯১ সালে আইয়ুব বাচ্চু প্রতিষ্ঠা করেন নতুন ব্যান্ড ‘এলআরবি’। শুরুতে এর পূর্ণ রূপ ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’ থাকলেও একই নামে অস্ট্রেলীয় ব্যান্ড থাকায় পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’। ১৯৮৬ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। এরপর ১৯৯২ সালে ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ আত্মপ্রকাশ করে। সশরীরে না থাকলেও গানের ধ্রুবতারা হয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে আছেন আইয়ুব বাচ্চু।

ধারাবাহিকভাবে ব্যান্ড ও একক ক্যারিয়ারে একের পর এক জনপ্রিয় অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন তিনি। তার প্রকাশিত প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে

  • ব্যান্ড অ্যালবাম‘ব্যান্ডের সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারী মন’ ও ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০০), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নেই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮) এবং ‘যুদ্ধ’ (২০১২)।
  • একক অ্যালবাম‘ময়না’ (১৯৮৮), ‘কষ্ট’ (১৯৯৫), ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি!’, ‘দুটি মন’ ও ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘প্রেম প্রেমের মতো’ (২০০৩), ‘পথের গান’ (২০০৪), ‘ভাটির টানে মাটির গানে’ ও ‘জীবন’ (২০০৬), ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’ (ইন্সট্রুমেন্টাল, ২০০৭), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯) এবং ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।
  • মিশ্র অ্যালবামনব্বইয়ের দশকে এলআরবি ও ফিলিংস যৌথভাবে ‘ক্যাপসুল’ এবং ‘স্ক্রু ড্রাইভার’ নামের দুটি সাড়াজাগানো মিশ্র অ্যালবাম উপহার দেয়।

চলচ্চিত্রের গানে আইয়ুব বাচ্চুর অবিস্মরণীয় অবদান

একক ও ব্যান্ডের বাইরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়ে নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৯৮ সালে ‘তেজী’ সিনেমায় ‘এই জগত সংসারে তুমি এমনই একজন’ এবং ১৯৯৯ সালে ‘লাল বাদশা’র ‘আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে’ গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। একই বছর ‘আম্মাজান’ সিনেমার ‘আম্মাজান’, ‘স্বামী আর স্ত্রী’ ও ‘তোমার আমার প্রেম এক জনমের নয়’ গান দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি; যার মধ্যে ‘আম্মাজান’ বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় গানের আসন লাভ করে।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ (আমি তো প্রেমে পড়িনি প্রেম আমার উপরে পড়েছে) ও ‘রং নাম্বার’, ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ (ভুলে গেছি জুতোটার ফিতেটাও বাঁধতে), ২০০৯ সালে ‘চাঁদের মতো বউ’, ২০১৩ সালে ‘টেলিভিশন’ এবং ২০১৪ সালে ‘এক কাপ চা’ সিনেমার গানে নিজের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়েছেন এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী। Do Not Sell or Share My Personal Information।

আপলোডকারীর তথ্য

ইশরাক হোসেন -: আজ দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা

আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় ০৮:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

‘আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেব আকাশে’—নিজের গানের সুরকে সত্য করে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হঠাৎ আকাশে উড়াল দিয়েছিলেন রক কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। তার এই অকালপ্রস্থান সংগীতপ্রেমীদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলা গানের অনন্য এই ধ্রুবতারার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হঠাৎ তার উড়ে যাওয়া কেউ-ই মেনে নিতে পারেননি। তাছাড়াও অনেক মিশ্র অ্যালবামে কাজ করেছেন আইয়ুব বাচ্চু।

পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও সংগীত জীবনের সূচনা

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। তার বাবা ইশহাক চৌধুরী এবং মা নুরজাহান বেগম। সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা বাচ্চুর পরিবারের বা ভাই-বোনদের কেউ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে ছোটবেলা থেকেই তার রক্তে মিশে গিয়েছিল গিটার বাজানোর নেশা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গিটারিস্ট জিমি হেনড্রিক্সকে দেখার পর গিটারে অনুপ্রাণিত হন তিনি। ১৯৭৭ সালে তার সংগীত জীবনের মূল যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৮ সালে তিনি ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন এবং তার প্রথম গান ছিল ‘হারানো বিকেলের গল্প’। পরবর্তীতে তিনি সোলসে যোগ দেন এবং ১৯৮০ থেকে এক দশক ব্যান্ডটির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। যতটা জানা যায়, জিমি হেনড্রিক্সকে দেখার পর গিটারের বিষয়টা প্রথম সংক্রমিত করে আইয়ুব বাচ্চুকে।

এলআরবির প্রতিষ্ঠা ও কালজয়ী অ্যালবামসমূহ

সোলস ছাড়ার পর ১৯৯১ সালে আইয়ুব বাচ্চু প্রতিষ্ঠা করেন নতুন ব্যান্ড ‘এলআরবি’। শুরুতে এর পূর্ণ রূপ ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’ থাকলেও একই নামে অস্ট্রেলীয় ব্যান্ড থাকায় পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’। ১৯৮৬ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। এরপর ১৯৯২ সালে ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ আত্মপ্রকাশ করে। সশরীরে না থাকলেও গানের ধ্রুবতারা হয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে আছেন আইয়ুব বাচ্চু।

ধারাবাহিকভাবে ব্যান্ড ও একক ক্যারিয়ারে একের পর এক জনপ্রিয় অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন তিনি। তার প্রকাশিত প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে

  • ব্যান্ড অ্যালবাম‘ব্যান্ডের সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারী মন’ ও ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০০), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নেই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮) এবং ‘যুদ্ধ’ (২০১২)।
  • একক অ্যালবাম‘ময়না’ (১৯৮৮), ‘কষ্ট’ (১৯৯৫), ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি!’, ‘দুটি মন’ ও ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘প্রেম প্রেমের মতো’ (২০০৩), ‘পথের গান’ (২০০৪), ‘ভাটির টানে মাটির গানে’ ও ‘জীবন’ (২০০৬), ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’ (ইন্সট্রুমেন্টাল, ২০০৭), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯) এবং ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।
  • মিশ্র অ্যালবামনব্বইয়ের দশকে এলআরবি ও ফিলিংস যৌথভাবে ‘ক্যাপসুল’ এবং ‘স্ক্রু ড্রাইভার’ নামের দুটি সাড়াজাগানো মিশ্র অ্যালবাম উপহার দেয়।

চলচ্চিত্রের গানে আইয়ুব বাচ্চুর অবিস্মরণীয় অবদান

একক ও ব্যান্ডের বাইরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়ে নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৯৮ সালে ‘তেজী’ সিনেমায় ‘এই জগত সংসারে তুমি এমনই একজন’ এবং ১৯৯৯ সালে ‘লাল বাদশা’র ‘আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে’ গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। একই বছর ‘আম্মাজান’ সিনেমার ‘আম্মাজান’, ‘স্বামী আর স্ত্রী’ ও ‘তোমার আমার প্রেম এক জনমের নয়’ গান দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি; যার মধ্যে ‘আম্মাজান’ বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় গানের আসন লাভ করে।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ (আমি তো প্রেমে পড়িনি প্রেম আমার উপরে পড়েছে) ও ‘রং নাম্বার’, ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ (ভুলে গেছি জুতোটার ফিতেটাও বাঁধতে), ২০০৯ সালে ‘চাঁদের মতো বউ’, ২০১৩ সালে ‘টেলিভিশন’ এবং ২০১৪ সালে ‘এক কাপ চা’ সিনেমার গানে নিজের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়েছেন এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী। Do Not Sell or Share My Personal Information।