ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান

আগামী ১৫ বছরে চাকরির বড় সংকটের পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের

আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তরুণদের জন্য মাত্র ৪০ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। ফলে প্রায় ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আজয় বাঙ্গা ১৬ অক্টোবর বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেন তিনি। আজ বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে ভাষণের অনুলিপি পাঠানো হয়।

অজয় বাঙ্গার মতে, কর্মসংস্থান কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি মানুষের মর্যাদার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। চলমান সংঘাত, ঋণের বোঝা, সরকারি আর্থিক সক্ষমতা হ্রাস এবং জ্বালানি ও সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন কঠিন সময় পার করছে। এমন বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশগুলোকে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে হবে।

তবে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করে বলেছেন, কর্মসংস্থানের এই ঘাটতি কোনো অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়। সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, জনকল্যাণমূলক সংস্থার সহায়তা এবং প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সংস্কারের মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তুতির সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে ৯ মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সাথে গত এক দশকে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশ্বব্যাংক বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২২ সালে সংস্থাটি ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ করেছিল, যা গত বছর বেড়ে ১১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট অর্থায়নের পরিমাণ ২৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। যদিও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এখনো বাণিজ্যিক পুঁজি আকর্ষণ করা বেশ কঠিন। এসব দেশে বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) বিকাশে সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। অজয় বাঙ্গার মতে, উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থ বহু বছর আটকে থাকে।

বাঙ্গা আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন, ডিজিটাল সংযোগ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত কর্মসংস্থান তৈরির মূল ভিত্তি। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারে কৃষি, ব্যবসা ও সেবা খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো ও দক্ষতার উন্নয়ন অপরিহার্য।

পরিশেষে, উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত বিনিয়োগের ওপর। যেসব দেশে ঝুঁকি বেশি, সেখানে সরকারি ও সহজ শর্তের ঋণের ভূমিকা প্রধান। অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সাথে সাথে সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ও পরিসর উভয়ই বাড়ানো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

শাহ আমানতে রান্নার সরঞ্জামে সোনা পাচার, আটক ১

আগামী ১৫ বছরে চাকরির বড় সংকটের পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের

আপডেট সময় ০৭:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তরুণদের জন্য মাত্র ৪০ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। ফলে প্রায় ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আজয় বাঙ্গা ১৬ অক্টোবর বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেন তিনি। আজ বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে ভাষণের অনুলিপি পাঠানো হয়।

অজয় বাঙ্গার মতে, কর্মসংস্থান কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি মানুষের মর্যাদার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। চলমান সংঘাত, ঋণের বোঝা, সরকারি আর্থিক সক্ষমতা হ্রাস এবং জ্বালানি ও সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন কঠিন সময় পার করছে। এমন বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশগুলোকে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে হবে।

তবে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করে বলেছেন, কর্মসংস্থানের এই ঘাটতি কোনো অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়। সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, জনকল্যাণমূলক সংস্থার সহায়তা এবং প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সংস্কারের মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তুতির সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে ৯ মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সাথে গত এক দশকে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশ্বব্যাংক বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২২ সালে সংস্থাটি ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ করেছিল, যা গত বছর বেড়ে ১১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট অর্থায়নের পরিমাণ ২৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। যদিও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এখনো বাণিজ্যিক পুঁজি আকর্ষণ করা বেশ কঠিন। এসব দেশে বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) বিকাশে সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। অজয় বাঙ্গার মতে, উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থ বহু বছর আটকে থাকে।

বাঙ্গা আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন, ডিজিটাল সংযোগ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত কর্মসংস্থান তৈরির মূল ভিত্তি। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারে কৃষি, ব্যবসা ও সেবা খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো ও দক্ষতার উন্নয়ন অপরিহার্য।

পরিশেষে, উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত বিনিয়োগের ওপর। যেসব দেশে ঝুঁকি বেশি, সেখানে সরকারি ও সহজ শর্তের ঋণের ভূমিকা প্রধান। অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সাথে সাথে সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ও পরিসর উভয়ই বাড়ানো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।