বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবরকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা শেষে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। তাদের বিয়েতে ছিল রাজকীয় আভিজাত্য, ঐতিহ্যবাহী আচার এবং কড়া গোপনীয়তা। এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানে কর্ণাটকের কোডাগু অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কোভাডা রীতি ও তেলেগু আচার-অনুষ্ঠানের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল, যা এই জুটির ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিয়েছিল। এর আগে কখনো প্রেম-বিয়ের গল্প প্রকাশ করেননি বিজয়-রাশমিকা। দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা নাটকীয়তার পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সাতপাকে বাঁধা পড়েন এই যুগল। সবকিছু মিলিয়ে আয়োজনটি ছিল রূপকথার গল্পের মতো। কর্ণাটকের কোডাগু অঞ্চলের এই ঐতিহ্যে পোশাক, সংগীত ও আচার-অনুষ্ঠানে থাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য। রাশমিকা-বিজয় আলাদা আলাদাভাবে বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন।
সম্প্রতি করন জোহর সঞ্চালিত জনপ্রিয় শো ‘কফি উইথ করন’-এ অতিথি হয়ে হাজির হয়েছিলেন এই তারকা দম্পতি। অনুষ্ঠানের প্রমো প্রকাশ্যে আসার পরই তা ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। সঞ্চালক করন জোহর এই জুটিকে ‘ব্লকবাস্টার কাপল’ হিসেবে সম্বোধন করে জানতে চান, রাশমিকাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার পর বিজয় নিজেই কি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন? অনুষ্ঠানটির প্রমো প্রকাশ্যের আসার পর, তা নিয়ে চলছে চর্চা।
এ প্রশ্নের উত্তর বিজয় দেওয়ার আগেই রাশমিকা অকপটে স্বীকার করেন যে, বিয়ের বিষয়টি তিনিই প্রথম তুলেছিলেন। রাশমিকা জানান, তিনি বিজয়কে বলেছিলেন, ‘চলো, বিয়ে করে ফেলি।’ তার এই আবদারের জবাবে বিজয় শর্ত দিয়েছিলেন, ‘ঠিক আছে, তুমি আমাকে এক শ বার জিজ্ঞাসা করো।’
রাশমিকার ভাষ্যমতে, বিজয়কে রাজি করানোর জন্য তিনি টানা এক বছর বিয়ের কথা বলে গেছেন। এতবার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে করন জোহর অবাক হয়ে প্রশ্ন করলে রাশমিকা তার কথার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে বিজয় মজা করে বলেন, ‘আমি এতটা বদমাইশ নই।’
তাদের বিবাহিত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিজয় আরও একটি মজার তথ্য শেয়ার করেন। কনের পারিবারিক শিকড়কে সম্মান জানিয়ে এই পর্ব সাজানো হয়।
তিনি বলেন, ‘বিয়ের ১০১ নম্বর নিয়ম—সবসময় স্ত্রীর কথায় সম্মতি দিতে হয়।
বিজয়ের এই রসবোধপূর্ণ মন্তব্যে লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠতে দেখা যায় রাশমিকাকে। এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্য সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দার রসায়ন নিয়েও খোলামেলা আলোচনা হয়। রাশমিকাকে যখন তার ‘পুষ্পা’ ও ‘অ্যানিম্যাল’ সিনেমার সহ-অভিনেতাদের মধ্যে একজনকে সেরা হিসেবে বেছে নিতে বলা হয়, তিনি আল্লু অর্জুনের নাম নেন। অন্যদিকে বিজয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয় কোন অভিনেত্রীর সঙ্গে তার রসায়ন সবচেয়ে ভালো, তখন বিজয় উত্তর দেওয়ার আগেই রাশমিকা চটজলদি বলে ওঠেন, ‘কেউ না!’
উল্লেখ্য, বিজয় ও রাশমিকার সম্পর্কের সূচনা হয় ২০১৮ সালে ‘গীতা গোবিন্দম’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়। এরপর ২০১৯ সালে ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে। সেই সময় থেকেই তাদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও তখন নিজেদের সম্পর্ক কেবল ‘বন্ধুত্বে’ সীমাবদ্ধ বলে দাবি করতেন তারা। তবে জিমে যাওয়া কিংবা চুপিচুপি শহর ছেড়ে ছুটি কাটানোর ঘটনাগুলো সবসময়ই অনুরাগীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অবশেষে বিয়ের মাধ্যমে তাদের এই দীর্ঘ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























