শারদীয় দুর্গাপূজা মানেই বাঙালির আবেগ ও আনন্দ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই বড় উৎসবে পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে মেতে ওঠেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আবির চ্যাটার্জি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দুর্গাপূজার অপেক্ষায় প্রহর গোণেন। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখা এবং ভিড়ের মাঝে মিশে যাওয়া তার কাছে পূজার অন্যতম বড় প্রাপ্তি। ভিড় বা মানুষের কোলাহল তাকে মোটেও বিরক্ত করে না, বরং এই উৎসবের মূল আনন্দটা তিনি সেখানেই খুঁজে পান। হিন্দুধর্মের অনুসারীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে এই উৎসব। ভারতীয় বাংলা সিনেমার তারকারাও পরিবারপরিজন নিয়ে এ আনন্দে মেতেছেন। পূজা উপলক্ষে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছে ন ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’খ্যাত এই তারকা। আমি তখনো ভিড় পছন্দ করতাম, এখনো ভিড় ভালোবাসি। সমস্ত ধরনের মানুষ, যাবতীয় বাধাবিপত্তি পেরিয়ে মা বা মেয়ের বাড়িতে আগমনের আনন্দে মেতে ওঠে এই পাঁচ দিন।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই অভিনেতা জানান, ছোটবেলায় নতুন জামাকাপড় পাওয়ার আনন্দ ছিল অন্যরকম, আর এখন তিনি নিজে অন্যদের উপহার দিতেই বেশি আনন্দ পান। বর্তমানে পূজার সময়ে কাজের ব্যস্ততা থাকলেও বন্ধুদের অনুরোধে বা পরিবারের আবদারে ঠাকুর দেখতে বের হওয়া তার কাছে এক বিশেষ ভালোলাগা। পূজার নির্দিষ্ট কোনো গৎবাঁধা নিয়ম বা অষ্টমীর অঞ্জলির বালাই না থাকলেও, উৎসবের কটা দিন তিনি একান্তভাবেই নিজের মতো করে কাটাতে ভালোবাসেন। বন্ধুরা ভালোবাসে বলে জোর করে ঘুরতে নিয়ে বের হয়, বাড়ির লোকের আবদারেও বেরুতে হয়।
পূজার সময় নতুন সিনেমা মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আবির বেশ উচ্ছ্বসিত।
এবারের ঈদে তার অভিনীত নতুন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যা নিয়ে তিনি বেশ গর্বিত। তিনি জানান, সিনেমাটি কেবল পূজার বিনোদন নয়, বরং এটি আমাদের পূর্বসূরি ও স্বাধীনতার গল্প। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবন ও তার সৃষ্ট চরিত্র সব্যসাচী মল্লিককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সিনেমায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে শরৎচন্দ্রের মতান্তরও ফুটে উঠেছে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই কাজটিকে তিনি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ বলে মনে করেন।
দুর্গাপূজায় মায়ের কাছে প্রার্থনা প্রসঙ্গে এই অভিনেতা বলেন, উৎসবের এই আবহে তিনি মানুষের শান্তি ও আনন্দই প্রত্যাশা করেন। তবে একটি বিশেষ চাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়ের কাছে তার প্রার্থনা, মানুষ যেন অন্যের দোষ খোঁজার আগে নিজের দোষের দিকে নজর দেয়। আবির মনে করেন, মানুষের মধ্যে যদি একটু বেশি সহমর্মিতা থাকে, তবেই উৎসবের আনন্দ প্রকৃত অর্থে উপভোগ করা সম্ভব। তাই তিনি মা দুর্গার কাছে সবার মধ্যে এই বোধের সঞ্চার করার আর্জিই জানিয়েছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























