ভারতে অভ্যন্তরীণ রুটে আকাশচুম্বী বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা লিখিত আকারে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি আর মহাদেবন এবং বিচারপতি অপরেশ কুমার সিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এই নির্দেশ দেন। আদালত মূলত জানতে চেয়েছেন, সাধারণ যাত্রীদের এই বাড়তি ভাড়ার চাপ থেকে মুক্তি দিতে সরকার সুনির্দিষ্টভাবে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
আদালতে শুনানির সময় দেশটির সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ‘ভারতীয় বায়ুযান অধিনিয়ম, ২০২৪’-এর অধীনে নতুন বিধি প্রণয়নের প্রশাসনিক অনুমোদন মিলেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই নতুন বিধিমালা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন রুটে ভাড়ার লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২১ অক্টোবর দিল্লি–বেঙ্গালুরু রুটে ভাড়া প্রায় ১০ হাজার রুপি, ২৪ অক্টোবর মুম্বাই–পুনে রুটে তা সাড়ে ১২ হাজার রুপির বেশি এবং ২৫ অক্টোবর কলকাতা–হায়দরাবাদ রুটে ভাড়া প্রায় ১৫ হাজার রুপিতে ঠেকেছে। উৎসবের মৌসুমে যাত্রীদের চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে বিমান সংস্থাগুলো এ ধরণের উচ্চমূল্য আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ অক্টোবর দিল্লি–বেঙ্গালুরু রুটে টিকিটের ভাড়া প্রায় ১০ হাজার রুপি।
এই অস্বাভাবিক ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিয়ে সমাজকর্মী এস এল লক্ষ্মীনারায়ণন একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় একই গন্তব্যের ফ্লাইটে যাত্রীভেদে ভাড়া কেন ভিন্ন হয়—এই বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা যাত্রীদের সমান অধিকারের পরিপন্থী বলে অভিযোগকারীর দাবি। এছাড়া চেক-ইন ব্যাগের ওজন কমানো এবং পছন্দের আসনের জন্য বাড়তি অর্থ আদায়ের মতো বিষয়গুলোও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিমান সংস্থাগুলোর ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং পাকিস্তান ও ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ থাকায় অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থাগুলোর দাবি, শেষ মুহূর্তে টিকিট কেনা যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিয়ে তারা এই বাড়তি ব্যয়ের একাংশ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সরকারিভাবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা হলে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা পাল্টা যুক্তি দিয়েছে। এখন কেন্দ্রের নতুন বিধিমালা প্রকাশের পর ভাড়া নির্ধারণে কোনো বড় পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। এতে জ্বালানি খরচ ও পরিচালন ব্যয় বাড়ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























