ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ৫

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে অবস্থিত আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে গতকাল বৃহস্পতিবার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া এ হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের বর্তমান সরকারের কার্যক্রম এই প্রাসাদ থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছিল।

দেশটির একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই হামলা মূলত সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। হামলায় সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে তিনটি এবং জোটের সদর দপ্তরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানান, প্রাণহানি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মী ও সাধারণ বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।

হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। গত জুলাই মাসে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর এটিই প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রথম সরাসরি কোনো হামলার ঘটনা। হুতিদের সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম অবশ্য দাবি করেছে যে, তাদের লক্ষ্য ছিল আল-মাশিক প্রাসাদে থাকা সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর ও অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটির বাসিন্দারাও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।

হামলার সময় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিনদানি প্রাসাদের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি অক্ষত থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলা হুতিদের ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনের বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর দেশটিতে সংঘাত আবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং তেলসমৃদ্ধ এলাকা মারিব শহর লক্ষ্য করেও হুতিরা বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারন করেছে।

এদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য ইরানকে দায়ী করেছে সৌদি আরব। দেশটির অভিযোগ, ইরান সরাসরি হুতিদের প্রশিক্ষণ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া এই অস্থিরতার নেপথ্যে ইরানের হাত রয়েছে বলেও দাবি করেছে রিয়াদ। প্রতিরক্ষায় শত শত কোটি কোটি ডলার খরচ করেও কেন হুতিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাড়ার পেছনে ইরানের হাত আছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ৫

আপডেট সময় ১০:৫০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে অবস্থিত আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে গতকাল বৃহস্পতিবার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া এ হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের বর্তমান সরকারের কার্যক্রম এই প্রাসাদ থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছিল।

দেশটির একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই হামলা মূলত সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। হামলায় সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে তিনটি এবং জোটের সদর দপ্তরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানান, প্রাণহানি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মী ও সাধারণ বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।

হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। গত জুলাই মাসে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর এটিই প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রথম সরাসরি কোনো হামলার ঘটনা। হুতিদের সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম অবশ্য দাবি করেছে যে, তাদের লক্ষ্য ছিল আল-মাশিক প্রাসাদে থাকা সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর ও অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটির বাসিন্দারাও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।

হামলার সময় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিনদানি প্রাসাদের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি অক্ষত থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলা হুতিদের ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনের বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর দেশটিতে সংঘাত আবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং তেলসমৃদ্ধ এলাকা মারিব শহর লক্ষ্য করেও হুতিরা বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারন করেছে।

এদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য ইরানকে দায়ী করেছে সৌদি আরব। দেশটির অভিযোগ, ইরান সরাসরি হুতিদের প্রশিক্ষণ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া এই অস্থিরতার নেপথ্যে ইরানের হাত রয়েছে বলেও দাবি করেছে রিয়াদ। প্রতিরক্ষায় শত শত কোটি কোটি ডলার খরচ করেও কেন হুতিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাড়ার পেছনে ইরানের হাত আছে।