ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ইমরান খানকে ভারত ছাড়তে বলেছে মুম্বাই পুলিশ

মুম্বাইয়ের একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় বড় ধরনের আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় তাঁর ওসিআই কার্ডের শর্ত লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুম্বাই পুলিশ ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনাটি এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা

ঘটনার সূত্রপাত ১০ অক্টোবর, যখন ইমরান খান মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত একটি প্রতিবাদী কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে অনুষ্ঠিত সেই বিক্ষোভ থেকে ইমরানসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছিল মুম্বাই পুলিশ। অবশ্য ওই দিন সন্ধ্যার দিকেই পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।

রাজনৈতিক দলের অভিযোগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন

ইমরান খানের বিক্ষোভে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সোচ্চার হয়েছেন সাবেক বিজেপি সংসদ সদস্য কিরিট সোমাইয়া। তাঁর দাবি, ইমরান যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী এবং ওসিআই কার্ডের সুবিধাভোগী। ভারতের আইন অনুযায়ী, ওসিআই কার্ডধারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। সোমাইয়া দাবি করেছেন, ইমরান এই নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গামদেবী থানা বিষয়টি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে (এফআরআরও) পাঠিয়েছে। এরপর ১৩ অক্টোবর সোমাইয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি দেন। সেখানে তিনি তদন্ত চলাকালে ইমরান যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন, সেজন্য তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার (এলওসি) জারির আবেদন জানান। যদিও এলওসি জারির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইমরান খান ও সঙ্গী অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া

নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে ইমরান খান জানিয়েছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নন, বরং একান্তই ব্যক্তিগত সচেতনতা থেকে সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি এ সময় নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও চলাচলের অধিকারের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এদিকে ইমরানের সঙ্গী অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, আটকের সময় পুলিশ তাঁকে এবং অভিনেত্রী জেইন মেরি খানকে ধাক্কাধাক্কি করে, যার ফলে তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

ওসিআই কার্ড ও আইনি সীমাবদ্ধতা

  • ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতের নাগরিক না হলেও তারা বিশেষ কিছু সুবিধা পান।
  • বিদেশি নাগরিকদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বা কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো ভারতীয় আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
  • এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিয়মের লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্ব এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের ওপর।
  • বিদেশি নাগরিকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আইনি অধিকার ও সীমা নিয়ে আইনি মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরান খানকে ভারত ছাড়তে বলেছে মুম্বাই পুলিশ

আপডেট সময় ০১:০৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মুম্বাইয়ের একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় বড় ধরনের আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় তাঁর ওসিআই কার্ডের শর্ত লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুম্বাই পুলিশ ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনাটি এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা

ঘটনার সূত্রপাত ১০ অক্টোবর, যখন ইমরান খান মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত একটি প্রতিবাদী কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে অনুষ্ঠিত সেই বিক্ষোভ থেকে ইমরানসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছিল মুম্বাই পুলিশ। অবশ্য ওই দিন সন্ধ্যার দিকেই পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।

রাজনৈতিক দলের অভিযোগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন

ইমরান খানের বিক্ষোভে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সোচ্চার হয়েছেন সাবেক বিজেপি সংসদ সদস্য কিরিট সোমাইয়া। তাঁর দাবি, ইমরান যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী এবং ওসিআই কার্ডের সুবিধাভোগী। ভারতের আইন অনুযায়ী, ওসিআই কার্ডধারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। সোমাইয়া দাবি করেছেন, ইমরান এই নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গামদেবী থানা বিষয়টি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে (এফআরআরও) পাঠিয়েছে। এরপর ১৩ অক্টোবর সোমাইয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি দেন। সেখানে তিনি তদন্ত চলাকালে ইমরান যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন, সেজন্য তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার (এলওসি) জারির আবেদন জানান। যদিও এলওসি জারির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইমরান খান ও সঙ্গী অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া

নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে ইমরান খান জানিয়েছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নন, বরং একান্তই ব্যক্তিগত সচেতনতা থেকে সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি এ সময় নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও চলাচলের অধিকারের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এদিকে ইমরানের সঙ্গী অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, আটকের সময় পুলিশ তাঁকে এবং অভিনেত্রী জেইন মেরি খানকে ধাক্কাধাক্কি করে, যার ফলে তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

ওসিআই কার্ড ও আইনি সীমাবদ্ধতা

  • ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতের নাগরিক না হলেও তারা বিশেষ কিছু সুবিধা পান।
  • বিদেশি নাগরিকদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বা কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো ভারতীয় আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
  • এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিয়মের লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্ব এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের ওপর।
  • বিদেশি নাগরিকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আইনি অধিকার ও সীমা নিয়ে আইনি মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।