বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। জানা গেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ভারতীয় নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় অভিবাসন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশও পাঠানো হয়েছে। যদিও এই নোটিশ প্রাপ্তি কিংবা নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে অভিনেতা এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল মুম্বাই পুলিশের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইমরান খান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
এর আগে ২০১১ সালে ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খান জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। সেই সময়ে তিনি বলেছিলেন, ভারতের নাগরিকত্ব না থাকায় ভোট দিতে না পারলেও তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আমি মনে করি, নিজ দেশের সেবা করা আমার কর্তব্য।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে আয়োজিত সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অভিনেতা ইমরান খান এবং তার প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটনসহ চার শতাধিক বিক্ষোভকারী আটক হয়েছিলেন। পুলিশ পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দিলেও তাদের বিরুদ্ধে গামদেবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ বাদী হয়ে করা এই মামলায় ইমরান খানসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের আসামি করা হয়েছে।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২২৩, ১২৬(২), ১৮৯(২), ১৮৯(৩) এবং ১৮৯(৫) ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং বিতর্কিত সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। এর আগে মুম্বাই পুলিশ জানায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২২৩ (আদেশ অমান্য করা), ১২৬(২) (অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া), ১৮৯(২) (বেআইনি সমাবেশ), ১৮৯(৩) এবং ১৮৯(৫) ধারায় মামলাটি রেজিস্ট্রি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বলিউড তারকা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খান ২০০৮ সালে ‘জানে তু ইয়া জানে না’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় পা রাখেন। এরপর বেশ কিছু সফল সিনেমায় অভিনয় করলেও ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া নিখিল আদভানি পরিচালিত ‘কাট্টি বাট্টি’ ছিল তার সর্বশেষ অভিনীত সিনেমা। অভিনয়ের বাইরে ‘মিশন মার্স: কিপ ওয়াকিং ইন্ডিয়া’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি পরিচালনায়ও আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এটি ২০১৫ সালে মুক্তি পায়। কারণ সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। এরপর বক্স অফিসে সফল একাধিক সিনেমা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















