ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

সৌদিতে হুতিদের হামলা অব্যাহত, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে প্রশাসন

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হামলার পর নতুন করে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তারা স্পষ্ট করেছে যে, সৌদি আরবের চিহ্নিত স্থাপনাগুলো এখন তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটিতে বড় ধরনের অস্থিরতা ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে যুবরাজকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং গত কয়েকদিন তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার তীব্রতা লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় চালানো হামলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এটিকে সীমিত পর্যায়ের অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের মাত্রা ভয়াবহ ছিল এবং এটি ভবনের কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় আরামকোর কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করছিলেন, ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত ছিল বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই দিন সৌদি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে এলাকায় সতর্কবার্তা জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে তুলে নেয়া হয়। তবে এসব বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে বহুমুখী করার যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন, চলমান এই অস্থিতিশীলতা তাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার আবহে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতার নতুন ঢেউ

সৌদিতে হুতিদের হামলা অব্যাহত, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে প্রশাসন

আপডেট সময় ১০:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হামলার পর নতুন করে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তারা স্পষ্ট করেছে যে, সৌদি আরবের চিহ্নিত স্থাপনাগুলো এখন তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটিতে বড় ধরনের অস্থিরতা ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে যুবরাজকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং গত কয়েকদিন তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার তীব্রতা লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় চালানো হামলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এটিকে সীমিত পর্যায়ের অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের মাত্রা ভয়াবহ ছিল এবং এটি ভবনের কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় আরামকোর কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করছিলেন, ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত ছিল বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই দিন সৌদি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে এলাকায় সতর্কবার্তা জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে তুলে নেয়া হয়। তবে এসব বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে বহুমুখী করার যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন, চলমান এই অস্থিতিশীলতা তাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার আবহে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে।