ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

আবাসনে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে কাজ চলছে

মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন চাহিদা পূরণ করা ব্যবসায়িক দর্শনের অন্যতম অংশ হলেও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, জমির উচ্চমূল্য এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার বাড়ায় আবাসন নির্মাণের ব্যয় বহুলাংশে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রকল্পের পরিকল্পনা, নির্মাণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। কার্যকর নকশা তৈরি এবং নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে দক্ষতা বাড়িয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর চেষ্টা চলছে, যাতে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং নির্মাণমান উভয়ই অক্ষুণ্ণ থাকে। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আপনারা অনেক দিন ধরেই অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করছেন। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে খরচ বেড়েছে। এই চ্যালেঞ্জ আপনারা কীভাবে মোকাবিলা করছেন। ফলে একদিকে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রাখা, অন্যদিকে নির্মাণের গুণগত মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ক্রেতাদের চাহিদা ও সামর্থ্য বিবেচনায় রেখে ফ্ল্যাটের আয়তন ও বিন্যাস নির্ধারণ করছি।

ফ্ল্যাটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতি বিবেচনা না করে প্রকল্পের অবস্থান, জমির মূল্য, ভবনের নকশা ও সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখা উচিত। প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলো ১ কোটি টাকার নিচে ফ্ল্যাট দিতে না পারলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট সরবরাহ করতে পারে। তাই ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ফ্ল্যাটের সঙ্গে বড় প্রকল্পের তুলনা করার সময় এই ভিন্নতাগুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদাপূরণে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে জমির ব্যবহার ও নকশার কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগও খোঁজা হচ্ছে। শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম: ফ্ল্যাটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতি বিবেচনা করলে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। আমরা মনে করি, ক্রেতাদের কাছে মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি স্বচ্ছ হওয়া উচিত।

বর্তমান সময়ে ক্রেতারা পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী জায়গার সঠিক ব্যবহার, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। প্রাকৃতিক আলো-বাতাস, কার্যকর কক্ষবিন্যাস, পর্যাপ্ত পার্কিং, লিফট এবং শিশু ও বয়স্কদের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাকেই প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্পের নকশা সাজানো হয়। দীর্ঘমেয়াদি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বসবাসের পরিবেশ তৈরি করাই এসব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা কাটাতে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ী ঋণসুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। কেবল শহরের ভেতর নতুন প্রকল্প না চালিয়ে পরিকল্পিতভাবে শহরের সম্প্রসারণ এবং নতুন এলাকায় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজধানীর ওপর চাপ কমানো যেতে পারে।

আগামী দুই থেকে তিন বছরে আধুনিক ও পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কন্ডোমিনিয়াম বা কনডো-ধাঁচের প্রকল্প এবং ন্যূনতম ১০ কাঠা আয়তনের জমিতে উন্নয়নযোগ্য প্রকল্পগুলো বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যেখানে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবাসনে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে কাজ চলছে

আপডেট সময় ০৭:৫১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন চাহিদা পূরণ করা ব্যবসায়িক দর্শনের অন্যতম অংশ হলেও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, জমির উচ্চমূল্য এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার বাড়ায় আবাসন নির্মাণের ব্যয় বহুলাংশে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রকল্পের পরিকল্পনা, নির্মাণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। কার্যকর নকশা তৈরি এবং নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে দক্ষতা বাড়িয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর চেষ্টা চলছে, যাতে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং নির্মাণমান উভয়ই অক্ষুণ্ণ থাকে। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আপনারা অনেক দিন ধরেই অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করছেন। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে খরচ বেড়েছে। এই চ্যালেঞ্জ আপনারা কীভাবে মোকাবিলা করছেন। ফলে একদিকে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রাখা, অন্যদিকে নির্মাণের গুণগত মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ক্রেতাদের চাহিদা ও সামর্থ্য বিবেচনায় রেখে ফ্ল্যাটের আয়তন ও বিন্যাস নির্ধারণ করছি।

ফ্ল্যাটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতি বিবেচনা না করে প্রকল্পের অবস্থান, জমির মূল্য, ভবনের নকশা ও সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখা উচিত। প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলো ১ কোটি টাকার নিচে ফ্ল্যাট দিতে না পারলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট সরবরাহ করতে পারে। তাই ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ফ্ল্যাটের সঙ্গে বড় প্রকল্পের তুলনা করার সময় এই ভিন্নতাগুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদাপূরণে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে জমির ব্যবহার ও নকশার কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগও খোঁজা হচ্ছে। শাহ মো. মাসুদ ইব্রাহিম: ফ্ল্যাটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতি বিবেচনা করলে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। আমরা মনে করি, ক্রেতাদের কাছে মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি স্বচ্ছ হওয়া উচিত।

বর্তমান সময়ে ক্রেতারা পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী জায়গার সঠিক ব্যবহার, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। প্রাকৃতিক আলো-বাতাস, কার্যকর কক্ষবিন্যাস, পর্যাপ্ত পার্কিং, লিফট এবং শিশু ও বয়স্কদের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাকেই প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্পের নকশা সাজানো হয়। দীর্ঘমেয়াদি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বসবাসের পরিবেশ তৈরি করাই এসব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা কাটাতে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ী ঋণসুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। কেবল শহরের ভেতর নতুন প্রকল্প না চালিয়ে পরিকল্পিতভাবে শহরের সম্প্রসারণ এবং নতুন এলাকায় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজধানীর ওপর চাপ কমানো যেতে পারে।

আগামী দুই থেকে তিন বছরে আধুনিক ও পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কন্ডোমিনিয়াম বা কনডো-ধাঁচের প্রকল্প এবং ন্যূনতম ১০ কাঠা আয়তনের জমিতে উন্নয়নযোগ্য প্রকল্পগুলো বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যেখানে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব।