ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

গায়ের রঙ ও উচ্চতা নিয়ে বৈষম্যের শিকার হন রুদ্রনীল

ক্যারিয়ারের শুরুতে শরীরের উচ্চতা ও গায়ের রঙের কারণে অভিনয় জগতে নানা বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন এই বিজেপি বিধায়ক।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। ‘কাঁটাতার’, ‘তিন ইয়ারির কথা’, ‘কালবেলা’, ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ বা ‘রাজকাহিনী’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় দর্শক তাকে দেখেছে। তবে খ্যাতি ও সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর এই পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে গায়ের রঙ ও শারীরিক উচ্চতা নিয়ে নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন এই শিল্পী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

রুদ্রনীল জানান, মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্রে আসার সময় টলিউডে এক ধরনের গতানুগতিক নিয়ম চলত। নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চতা ছয় ফুটের কম হলে বা গায়ের রঙ ফর্সা না হলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ মিলত না। রুদ্রনীল বলেন, তিনি এবং তার সহকর্মীরা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করেছেন। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তিনি অভিনেত্রী পাওলি দামের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যমতে, পাওলিকেও নিজের জায়গা করে নিতে অমানুষিক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছোটপর্দা বা বড়পর্দার অভিনেতা হিসেবে বিভাজন তখন ইন্ডাস্ট্রির এক রূঢ় বাস্তবতা ছিল, যদিও তিনি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করতে চান না।

সময়ের সাথে সাথে ইন্ডাস্ট্রির এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। রবি ঘোষ, সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং নিজেকে উদাহরণ হিসেবে টেনে রুদ্রনীল জানান, একসময় ‘গল্প হলেও সত্যি’, ‘বাড়িওয়ালি’ বা ‘মেস বাড়ি’র ঝন্টু চরিত্রগুলোর মাধ্যমে মানুষ তাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। তবে অভিনয়ের সুযোগ পেতে তখন তাদের অনেক লড়াই করতে হতো। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভিনয়ের কাজ না পেয়ে রুদ্রনীল চিত্রনাট্য লেখার কাজ করতেন, কিন্তু সেই চিত্রনাট্যেও অনেক সময় তার নাম প্রকাশ করা হতো না বলে তিনি জানান।

সফলতার পথ পরিক্রমায় ২০১৯ সালে দক্ষিণ কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট কেনেন রুদ্রনীল। এই ফ্ল্যাটের লোকেশন তার কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। তিনি স্মৃতিচারণ করেন যে, ক্যারিয়ারের শুরুতে ওই এলাকার একটি স্টুডিওতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি মাত্র দেড় শ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন, যেখানে একটি কুকুরকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল আট শ টাকা। দীর্ঘ সেই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আজ সেই স্টুডিওর উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে নিজের মালিকানা অর্জন করাকে তিনি এক বড় সাফল্য ও স্বস্তির বিষয় বলে মনে করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরামকোতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভবনে আগুন

গায়ের রঙ ও উচ্চতা নিয়ে বৈষম্যের শিকার হন রুদ্রনীল

আপডেট সময় ০৮:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। ‘কাঁটাতার’, ‘তিন ইয়ারির কথা’, ‘কালবেলা’, ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ বা ‘রাজকাহিনী’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় দর্শক তাকে দেখেছে। তবে খ্যাতি ও সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর এই পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে গায়ের রঙ ও শারীরিক উচ্চতা নিয়ে নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন এই শিল্পী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

রুদ্রনীল জানান, মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্রে আসার সময় টলিউডে এক ধরনের গতানুগতিক নিয়ম চলত। নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চতা ছয় ফুটের কম হলে বা গায়ের রঙ ফর্সা না হলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ মিলত না। রুদ্রনীল বলেন, তিনি এবং তার সহকর্মীরা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করেছেন। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তিনি অভিনেত্রী পাওলি দামের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যমতে, পাওলিকেও নিজের জায়গা করে নিতে অমানুষিক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছোটপর্দা বা বড়পর্দার অভিনেতা হিসেবে বিভাজন তখন ইন্ডাস্ট্রির এক রূঢ় বাস্তবতা ছিল, যদিও তিনি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করতে চান না।

সময়ের সাথে সাথে ইন্ডাস্ট্রির এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। রবি ঘোষ, সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং নিজেকে উদাহরণ হিসেবে টেনে রুদ্রনীল জানান, একসময় ‘গল্প হলেও সত্যি’, ‘বাড়িওয়ালি’ বা ‘মেস বাড়ি’র ঝন্টু চরিত্রগুলোর মাধ্যমে মানুষ তাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। তবে অভিনয়ের সুযোগ পেতে তখন তাদের অনেক লড়াই করতে হতো। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভিনয়ের কাজ না পেয়ে রুদ্রনীল চিত্রনাট্য লেখার কাজ করতেন, কিন্তু সেই চিত্রনাট্যেও অনেক সময় তার নাম প্রকাশ করা হতো না বলে তিনি জানান।

সফলতার পথ পরিক্রমায় ২০১৯ সালে দক্ষিণ কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট কেনেন রুদ্রনীল। এই ফ্ল্যাটের লোকেশন তার কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। তিনি স্মৃতিচারণ করেন যে, ক্যারিয়ারের শুরুতে ওই এলাকার একটি স্টুডিওতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি মাত্র দেড় শ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন, যেখানে একটি কুকুরকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল আট শ টাকা। দীর্ঘ সেই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আজ সেই স্টুডিওর উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে নিজের মালিকানা অর্জন করাকে তিনি এক বড় সাফল্য ও স্বস্তির বিষয় বলে মনে করেন।