ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

হুতি হামলার মুখে সুরক্ষিত প্রাসাদে সরানো হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র হামলার মুখে সৌদি আরব এক কঠিন নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জীবন রক্ষায় দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ও বাংকার সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। এর পর থেকে জনসমক্ষে তাকে আর দেখা যায়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, তাকে বর্তমান ঝুঁকির মুখে বিশেষ নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঁচিয়ে রাখতে সুরক্ষিত এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

গত শনিবার সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। এই ভয়াবহ ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের অনেকের অবস্থাই সংকটাপন্ন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে চালানো হামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাণঘাতী হিসেবে অভিহিত করেছেন। হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের একটি হাত উড়ে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে, যিনি পরবর্তীতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান। বিমানবন্দরটিতে গত পাঁচ দিনে চারবার হামলা চালানো হয়েছে, ফলে সেটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। হামলায় অঙ্গহানির শিকার হওয়া একাধিক ব্যক্তির মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তবে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের পটভূমিতে চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সবচেয়ে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত মিত্রদের অন্যতম।

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে ইরান থেকে আসা একটি বিমান অবতরণের সময় সৌদি বাহিনী গুলি চালালে হুতিরা নতুন করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এই অভিযোগ তুলেই তারা পাল্টা হামলা শুরু করে। এদিকে, সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও সৌদি আরবের পাল্টা অভিযানে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মক্কা চুক্তির অংশীদার দেশগুলো রিয়াদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ অঞ্চলে সৃষ্ট অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই সংঘাত কেবল ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর জন্যই সুবিধা বয়ে আনবে। রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়ে সৌদি-হুতি সংলাপে তেহরান সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি সামরিক হস্তক্ষেপে শুরু হওয়া এই লড়াই নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তার ভাষায়, এই সংঘাত শুধু ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীকেই লাভবান করবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

হুতি হামলার মুখে সুরক্ষিত প্রাসাদে সরানো হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে

আপডেট সময় ১০:৩৭:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র হামলার মুখে সৌদি আরব এক কঠিন নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জীবন রক্ষায় দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ও বাংকার সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। এর পর থেকে জনসমক্ষে তাকে আর দেখা যায়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, তাকে বর্তমান ঝুঁকির মুখে বিশেষ নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঁচিয়ে রাখতে সুরক্ষিত এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

গত শনিবার সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। এই ভয়াবহ ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের অনেকের অবস্থাই সংকটাপন্ন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে চালানো হামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাণঘাতী হিসেবে অভিহিত করেছেন। হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের একটি হাত উড়ে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে, যিনি পরবর্তীতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান। বিমানবন্দরটিতে গত পাঁচ দিনে চারবার হামলা চালানো হয়েছে, ফলে সেটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। হামলায় অঙ্গহানির শিকার হওয়া একাধিক ব্যক্তির মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তবে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের পটভূমিতে চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সবচেয়ে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত মিত্রদের অন্যতম।

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে ইরান থেকে আসা একটি বিমান অবতরণের সময় সৌদি বাহিনী গুলি চালালে হুতিরা নতুন করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এই অভিযোগ তুলেই তারা পাল্টা হামলা শুরু করে। এদিকে, সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও সৌদি আরবের পাল্টা অভিযানে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মক্কা চুক্তির অংশীদার দেশগুলো রিয়াদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ অঞ্চলে সৃষ্ট অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই সংঘাত কেবল ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর জন্যই সুবিধা বয়ে আনবে। রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়ে সৌদি-হুতি সংলাপে তেহরান সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি সামরিক হস্তক্ষেপে শুরু হওয়া এই লড়াই নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তার ভাষায়, এই সংঘাত শুধু ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীকেই লাভবান করবে।