ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

১৬ কোটি টাকার স্বর্ণসহ বিমানের দুই কর্মী আদালতে দোষ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জুতার ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি ওজনের ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। আটককৃত এই দুই কর্মী হলেন মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমান। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত শনিবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক হাসান শাহাদাত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত রোববার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নেয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দল। রানওয়ের কাছাকাছি দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ নম্বর ফ্লাইটটি থাকা অবস্থায় ওই দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ৮০টি স্বর্ণের বারের প্রতিটির ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বাজারমূল্যের এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রুহানি ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আবুল কাইয়ুম তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন, যা আদালত মঞ্জুর করেছিলেন। এসব সোনার বারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই ঘটনার পর থেকেই শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, গন্তব্য এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা এড়িয়ে কীভাবে স্বর্ণের এই চালানগুলো বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ওই ঘটনার পর সোমবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

আদালতে দেওয়া দুই কর্মীর এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলার তদন্তে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও স্বর্ণ চোরাচালানের প্রকৃত গন্তব্য এবং এর সাথে সম্পৃক্ত পুরো চক্রটি কত বড়, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন তাদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরেবাংলা নগরের বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তর হচ্ছে সচিবালয়

১৬ কোটি টাকার স্বর্ণসহ বিমানের দুই কর্মী আদালতে দোষ

আপডেট সময় ০৪:৫২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জুতার ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি ওজনের ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। আটককৃত এই দুই কর্মী হলেন মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমান। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত শনিবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক হাসান শাহাদাত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত রোববার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নেয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দল। রানওয়ের কাছাকাছি দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ নম্বর ফ্লাইটটি থাকা অবস্থায় ওই দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ৮০টি স্বর্ণের বারের প্রতিটির ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বাজারমূল্যের এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রুহানি ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আবুল কাইয়ুম তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন, যা আদালত মঞ্জুর করেছিলেন। এসব সোনার বারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই ঘটনার পর থেকেই শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, গন্তব্য এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা এড়িয়ে কীভাবে স্বর্ণের এই চালানগুলো বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ওই ঘটনার পর সোমবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

আদালতে দেওয়া দুই কর্মীর এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলার তদন্তে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও স্বর্ণ চোরাচালানের প্রকৃত গন্তব্য এবং এর সাথে সম্পৃক্ত পুরো চক্রটি কত বড়, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন তাদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।