ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

সৌদি আরবে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে তুরস্ক

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটিতে অতিরিক্ত সেনা, অভিজ্ঞ পাইলট এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে লন্ডনের মিডল ইস্ট আইয়ের সাথে আলাপকালে তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ মূলত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে কতজন পাইলট এবং কতটি বিমান পাঠানো হবে, তা জানানো হয়নি।

এর আগে সোমবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তির অঙ্গীকার দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা, রিয়াদ এবং পবিত্র নগরীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হবে। তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছর থেকেই সৌদি আরবে তাদের কারিগরি দল এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি তারা রিয়াদ ও দেশটির পবিত্র শহরগুলোর প্রতিরক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে।

তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আঙ্কারা এখন নতুন করে জরুরি সাড়া দানকারী দল এবং যুদ্ধসক্ষম সেনাসদস্য সৌদি আরবে পাঠাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১০ সালে সম্পাদিত সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় কিছু কারিগরি সহায়তা প্রদানের সুযোগ থাকলেও, বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের সংবিধানে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, চলতি মাসের শেষ দিকেই তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এ সংক্রান্ত বিল তোলা হতে পারে। উপদেষ্টা মুরাত ইয়েসিলতাশ জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে আমরা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিলটিকে অগ্রাধিকার দিতে পারি।’।

পরিকল্পনার সাথে যুক্ত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, আঙ্কারা অন্তত একটি কমান্ড ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছে যেখানে তুর্কি বাহিনী সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যৌথভাবে কাজ করবে। তবে তুরস্কের আলাদা একটি কমান্ড ইউনিটও সেখানে থাকবে। যদিও পাইলট ও বিমানের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি, তবুও পার্লামেন্টের অনুমোদন মিললে অভিজ্ঞ পাইলটদের মাধ্যমে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর কাজ শুরু হবে। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।

তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা ব্যাপকহারে সেনা মোতায়েন বা ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা করছেন না। তাদের লক্ষ্য হলো সীমিত পরিসরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খোলা রাখা। আঙ্কারার এই কৌশলী পদক্ষেপে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন শনাক্তকরণ ও গোয়েন্দা নজরদারির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, তুরস্কের প্রাথমিক সহায়তা সৌদি আরবের মাটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা অথবা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পুনরুদ্ধার সক্ষমতা মোতায়েনের মধ্যেই সীমিত থাকার সম্ভাবনা বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক সম্পৃক্ততা রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তুরস্ককে ওই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় একটি নিয়ন্ত্রিত কিন্তু কার্যকর অবস্থানে নিয়ে আসবে। কমান্ড ঘাঁটি নির্মাণের কারিগরি প্রস্তুতি পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই চলেছে এবং মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে এর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে পার্লামেন্টের অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তুর্কি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের সৌদি আরবে মোতায়েনের প্রক্রিয়া গতি পাবে। একই সঙ্গে তুরস্ক যে ঝুঁকি নেবে এবং সামরিকভাবে যতটা সম্পৃক্ত হবে, সেটিও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে।’।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে হুতি হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তে তৎপর

সৌদি আরবে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে তুরস্ক

আপডেট সময় ০৩:৫০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটিতে অতিরিক্ত সেনা, অভিজ্ঞ পাইলট এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে লন্ডনের মিডল ইস্ট আইয়ের সাথে আলাপকালে তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ মূলত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে কতজন পাইলট এবং কতটি বিমান পাঠানো হবে, তা জানানো হয়নি।

এর আগে সোমবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তির অঙ্গীকার দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা, রিয়াদ এবং পবিত্র নগরীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হবে। তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছর থেকেই সৌদি আরবে তাদের কারিগরি দল এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি তারা রিয়াদ ও দেশটির পবিত্র শহরগুলোর প্রতিরক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে।

তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আঙ্কারা এখন নতুন করে জরুরি সাড়া দানকারী দল এবং যুদ্ধসক্ষম সেনাসদস্য সৌদি আরবে পাঠাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১০ সালে সম্পাদিত সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় কিছু কারিগরি সহায়তা প্রদানের সুযোগ থাকলেও, বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের সংবিধানে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, চলতি মাসের শেষ দিকেই তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এ সংক্রান্ত বিল তোলা হতে পারে। উপদেষ্টা মুরাত ইয়েসিলতাশ জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে আমরা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিলটিকে অগ্রাধিকার দিতে পারি।’।

পরিকল্পনার সাথে যুক্ত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, আঙ্কারা অন্তত একটি কমান্ড ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছে যেখানে তুর্কি বাহিনী সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যৌথভাবে কাজ করবে। তবে তুরস্কের আলাদা একটি কমান্ড ইউনিটও সেখানে থাকবে। যদিও পাইলট ও বিমানের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি, তবুও পার্লামেন্টের অনুমোদন মিললে অভিজ্ঞ পাইলটদের মাধ্যমে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর কাজ শুরু হবে। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।

তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা ব্যাপকহারে সেনা মোতায়েন বা ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা করছেন না। তাদের লক্ষ্য হলো সীমিত পরিসরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খোলা রাখা। আঙ্কারার এই কৌশলী পদক্ষেপে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন শনাক্তকরণ ও গোয়েন্দা নজরদারির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, তুরস্কের প্রাথমিক সহায়তা সৌদি আরবের মাটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা অথবা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পুনরুদ্ধার সক্ষমতা মোতায়েনের মধ্যেই সীমিত থাকার সম্ভাবনা বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক সম্পৃক্ততা রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তুরস্ককে ওই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় একটি নিয়ন্ত্রিত কিন্তু কার্যকর অবস্থানে নিয়ে আসবে। কমান্ড ঘাঁটি নির্মাণের কারিগরি প্রস্তুতি পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই চলেছে এবং মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে এর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে পার্লামেন্টের অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তুর্কি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের সৌদি আরবে মোতায়েনের প্রক্রিয়া গতি পাবে। একই সঙ্গে তুরস্ক যে ঝুঁকি নেবে এবং সামরিকভাবে যতটা সম্পৃক্ত হবে, সেটিও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে।’।