ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

অভিনয়ের পথে জিন্নাত ফারজানার যাত্রা ও মোশাররফ করিমের প্রভাব

বঙ্গতে মুক্তি পাওয়া ফয়সাল আগুনের ওয়েব ফিল্ম ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’য় প্রীতি চরিত্রে অভিনয় করে বর্তমানে বেশ আলোচনায় রয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী। ছোট পর্দার নানা আলোচিত প্রকল্পে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের ভিত্তি মজবুত করছেন তিনি। নাটক ও ওয়েব ফিল্মে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ ও সফলতার গল্পও রয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত।

অভিনয়ে আসার গল্পটি বেশ অদ্ভুত। স্কুল-কলেজে পড়াকালীন রক্ষণশীল পরিবার ও নিজের জড়তার কারণে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখার সাহস তাঁর ছিল না। তবে ইডেন কলেজে ভর্তির পর ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সিনিয়রদের সান্নিধ্যে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে থাকে। টিএসসির পরিচিত ফটোগ্রাফারদের তোলা ছবিগুলো এক বড় আপু পরিচালককে দেখালে এভাবেই অভিনয়ে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রথম দিকে এটাকে শখের কাজ মনে করলেও পরে পেশাদার হিসেবে অভিনয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

২০২৩ সালে শামস করিম পরিচালিত ‘খোঁচা’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয়। নাটকটির প্রধান চরিত্রে ছিলেন মোশাররফ করিম ও নিশাত প্রিয়ম। সেই কাজের স্মৃতিচারণ করে চাঁদনী জানান, প্রথমবার মোশাররফ করিমের মতো বড় শিল্পীর সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি দারুণ নার্ভাস ছিলেন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর অভিনয় শেখার পথ প্রশস্ত করেছে। অভিনয়ের শুরুতে ছোট ছোট চরিত্রে কাজ করলেও ধীরে ধীরে অভিনয়ের পরিধি বাড়তে থাকে এবং দ্বিতীয় প্রধান থেকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসতে শুরু করে। এরপর ‘রঙিলা পুতুল’, ‘শাদি মোবারক’ এবং ‘বিশ্বাস বনাম সরদার’-এর মতো ধারাবাহিকে নিয়মিত কাজ করেন তিনি।

পরিবারের অমত থাকা সত্ত্বেও মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীর মতো শিল্পীদের সঙ্গে নিয়মিত কাজের সুবাদে পরিবারের সমর্থন অর্জন করেন চাঁদনী। শুটিংয়ের মজার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একবার এক নাটকের চরিত্রের প্রয়োজনেই চাচাতো বোনের পোশাক গভীর রাতে চুরি করে শুটিংয়ে গিয়েছিলেন। পরে যখন পরিবারের সবাই মিলে সেই নাটক দেখছিলেন, তখন মোশাররফ করিমের সাথে নিজের দৃশ্য দেখে বোনের আর কোনো অভিযোগ ছিল না, বরং সবাই হেসে ঘটনার ইতি টেনেছিলেন।

অভিনেতা মোশাররফ করিমকে তিনি একজন ‘জীবন্ত বই’ হিসেবে অভিহিত করেন। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে মেন্টর হিসেবে মোশাররফ করিমের সহায়তা ও পরামর্শ তাঁকে মানসিকভাবে সহজ হতে সাহায্য করেছে। চাঁদনীর ভাষ্যমতে, অভিনয় শিখতে হলে নিয়মিত বড় শিল্পীদের সান্নিধ্য প্রয়োজন, যা তাঁর ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছে। যদিও গত তিন বছরে অভিনয়ে অনেক কাজ করেছেন, তবুও নতুন চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পেলেই নিজের আরও শেখার অভাববোধ করেন তিনি।

বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বড় পরিসরে কাজের প্রতি তিনি বেশি আগ্রহী। ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’ ওয়েব ফিল্মটিতে জোনায়েদ বোগদাদীর বিপরীতে প্রীতি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শক ও সহকর্মীদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন। নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে সামনে আরও বড় কিছু করার প্রত্যাশা রাখেন এই অভিনেত্রী। চাঁদনী স্বপ্ন দেখেন, তিনি যেমন মোশাররফ করিমের প্রেরণায় পথ চলছেন, তেমনি একদিন অন্য কোনো তরুণ অভিনয়শিল্পী যেন তাঁকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনয়ের পথে জিন্নাত ফারজানার যাত্রা ও মোশাররফ করিমের প্রভাব

আপডেট সময় ১০:০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গতে মুক্তি পাওয়া ফয়সাল আগুনের ওয়েব ফিল্ম ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’য় প্রীতি চরিত্রে অভিনয় করে বর্তমানে বেশ আলোচনায় রয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী। ছোট পর্দার নানা আলোচিত প্রকল্পে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের ভিত্তি মজবুত করছেন তিনি। নাটক ও ওয়েব ফিল্মে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ ও সফলতার গল্পও রয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত।

অভিনয়ে আসার গল্পটি বেশ অদ্ভুত। স্কুল-কলেজে পড়াকালীন রক্ষণশীল পরিবার ও নিজের জড়তার কারণে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখার সাহস তাঁর ছিল না। তবে ইডেন কলেজে ভর্তির পর ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সিনিয়রদের সান্নিধ্যে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে থাকে। টিএসসির পরিচিত ফটোগ্রাফারদের তোলা ছবিগুলো এক বড় আপু পরিচালককে দেখালে এভাবেই অভিনয়ে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রথম দিকে এটাকে শখের কাজ মনে করলেও পরে পেশাদার হিসেবে অভিনয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

২০২৩ সালে শামস করিম পরিচালিত ‘খোঁচা’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয়। নাটকটির প্রধান চরিত্রে ছিলেন মোশাররফ করিম ও নিশাত প্রিয়ম। সেই কাজের স্মৃতিচারণ করে চাঁদনী জানান, প্রথমবার মোশাররফ করিমের মতো বড় শিল্পীর সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি দারুণ নার্ভাস ছিলেন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর অভিনয় শেখার পথ প্রশস্ত করেছে। অভিনয়ের শুরুতে ছোট ছোট চরিত্রে কাজ করলেও ধীরে ধীরে অভিনয়ের পরিধি বাড়তে থাকে এবং দ্বিতীয় প্রধান থেকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসতে শুরু করে। এরপর ‘রঙিলা পুতুল’, ‘শাদি মোবারক’ এবং ‘বিশ্বাস বনাম সরদার’-এর মতো ধারাবাহিকে নিয়মিত কাজ করেন তিনি।

পরিবারের অমত থাকা সত্ত্বেও মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীর মতো শিল্পীদের সঙ্গে নিয়মিত কাজের সুবাদে পরিবারের সমর্থন অর্জন করেন চাঁদনী। শুটিংয়ের মজার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একবার এক নাটকের চরিত্রের প্রয়োজনেই চাচাতো বোনের পোশাক গভীর রাতে চুরি করে শুটিংয়ে গিয়েছিলেন। পরে যখন পরিবারের সবাই মিলে সেই নাটক দেখছিলেন, তখন মোশাররফ করিমের সাথে নিজের দৃশ্য দেখে বোনের আর কোনো অভিযোগ ছিল না, বরং সবাই হেসে ঘটনার ইতি টেনেছিলেন।

অভিনেতা মোশাররফ করিমকে তিনি একজন ‘জীবন্ত বই’ হিসেবে অভিহিত করেন। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে মেন্টর হিসেবে মোশাররফ করিমের সহায়তা ও পরামর্শ তাঁকে মানসিকভাবে সহজ হতে সাহায্য করেছে। চাঁদনীর ভাষ্যমতে, অভিনয় শিখতে হলে নিয়মিত বড় শিল্পীদের সান্নিধ্য প্রয়োজন, যা তাঁর ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছে। যদিও গত তিন বছরে অভিনয়ে অনেক কাজ করেছেন, তবুও নতুন চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পেলেই নিজের আরও শেখার অভাববোধ করেন তিনি।

বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বড় পরিসরে কাজের প্রতি তিনি বেশি আগ্রহী। ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’ ওয়েব ফিল্মটিতে জোনায়েদ বোগদাদীর বিপরীতে প্রীতি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শক ও সহকর্মীদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন। নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে সামনে আরও বড় কিছু করার প্রত্যাশা রাখেন এই অভিনেত্রী। চাঁদনী স্বপ্ন দেখেন, তিনি যেমন মোশাররফ করিমের প্রেরণায় পথ চলছেন, তেমনি একদিন অন্য কোনো তরুণ অভিনয়শিল্পী যেন তাঁকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।