ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের অষ্টম মাসে এসে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে ওয়াশিংটন। কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে, যা কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেমন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গত রবিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এর ঠিক পরের দিনই দুই হাজারেরও বেশি মেরিন সেনা নিয়ে মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) যাত্রা শুরু করে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নৌ বহর মোতায়েনের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে অতিরিক্ত নয় থেকে দশ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য ওই অঞ্চলে যুক্ত হতে পারে। এর এক দিন পর মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও (এমইইউ) রওনা হয়েছে, যাতে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্ট্রাইক গ্রুপ ও নৌ বহর মোতায়েনের ফলে অতিরিক্ত ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারে, যার মধ্যে স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে থাকা নাবিক ও মেরিনা সেনা রয়েছে।

পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের নিকটবর্তী এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুটি উভচর অবতরণকারী দল অবস্থান নেবে। নতুন এই সামরিক পরিকল্পনায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য হলো, কূটনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন নির্বিশেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সব সময় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা। কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা বা চুক্তি হলেও পেন্টাগন এখনই সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে না। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের অর্থ কী এবং এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন এই প্রক্রিয়ায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নুরি জানান, এর লক্ষ্য হলো কূটনীতির গতিপথ যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি যেন সব সময় খোলা থাকে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন কোনো হামলার নির্দেশনা দিলে তা দ্রুত বাস্তবায়নে মোতায়েনকৃত বাহিনীগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক শক্তির এই বিপুল সমাবেশ প্রেসিডেন্টের জন্য বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক নেটওয়ার্ক বজায় রেখেছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত ১৯টি স্থানে মার্কিন স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি।

ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে লেবানন সংকটের সময় বৈরুতে প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছিল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য নিয়োজিত ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরব সাগরে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-সহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে জোরদার করে চলেছেন। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সামরিক তৎপরতা রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত রোনালদোর গোল, জয় পেল আল নাসর

মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১০:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের অষ্টম মাসে এসে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে ওয়াশিংটন। কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে, যা কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেমন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গত রবিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এর ঠিক পরের দিনই দুই হাজারেরও বেশি মেরিন সেনা নিয়ে মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) যাত্রা শুরু করে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নৌ বহর মোতায়েনের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে অতিরিক্ত নয় থেকে দশ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য ওই অঞ্চলে যুক্ত হতে পারে। এর এক দিন পর মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও (এমইইউ) রওনা হয়েছে, যাতে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্ট্রাইক গ্রুপ ও নৌ বহর মোতায়েনের ফলে অতিরিক্ত ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারে, যার মধ্যে স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে থাকা নাবিক ও মেরিনা সেনা রয়েছে।

পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের নিকটবর্তী এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুটি উভচর অবতরণকারী দল অবস্থান নেবে। নতুন এই সামরিক পরিকল্পনায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য হলো, কূটনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন নির্বিশেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সব সময় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা। কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা বা চুক্তি হলেও পেন্টাগন এখনই সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে না। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের অর্থ কী এবং এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন এই প্রক্রিয়ায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নুরি জানান, এর লক্ষ্য হলো কূটনীতির গতিপথ যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি যেন সব সময় খোলা থাকে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন কোনো হামলার নির্দেশনা দিলে তা দ্রুত বাস্তবায়নে মোতায়েনকৃত বাহিনীগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক শক্তির এই বিপুল সমাবেশ প্রেসিডেন্টের জন্য বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক নেটওয়ার্ক বজায় রেখেছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত ১৯টি স্থানে মার্কিন স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি।

ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে লেবানন সংকটের সময় বৈরুতে প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছিল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য নিয়োজিত ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরব সাগরে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-সহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে জোরদার করে চলেছেন। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সামরিক তৎপরতা রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।