ইরানের সামরিক সক্ষমতা দমাতে টানা তিন দিনের এক ব্যাপক সামরিক অভিযানের খসড়া তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টার। তবে বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই সম্ভাব্য অভিযানের পরিকল্পনা এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন পায়নি। গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই খসড়াটি পর্যালোচনা করেছেন। এর আগে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসও একই বিষয়ে অগ্রগতির খবর দিয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান কিংবা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে এটি নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হলো। এর আগের পাঁচটি পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। যদিও ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, দীর্ঘ সাত মাসের সংঘাতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার অনেকখানি পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনায় ওই মজুত ধ্বংসের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতির পরিধি আরও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ২০০৩ সালের পর এই প্রথম ওই অঞ্চলে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন রণতরি বহরটি ইতোমধ্যেই নিজ উপকূল ত্যাগ করে মধ্যপ্রাচ্যের পথে যাত্রা করেছে, যেখানে আগে থেকেই দুটি রণতরি অবস্থান করছে।
তবে হামলার সময়কাল নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ট্রাম্পের দাবি, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালানো হবে না। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ইতি টানতে দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। যদিও তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের বড় ধরনের অমিল রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য ইসরাইলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ হবে মার্কিন নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে। তবে ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















