ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’: শ্রিয়া সরণ

দৃশ্যম ফ্র্যাঞ্চাইজির শুটিং সেটে নিজের মাতৃত্বকালীন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী শ্রিয়া সরণ।

মা হওয়ার পর শ্রিয়া সরণের অভিনয়জীবনে এবং সিনেমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে এই নতুন যাত্রায় ‘দৃশ্যম’ সিনেমার টিমের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা অভিনেত্রীকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। নতুন মা হিসেবে শুটিং সেটে তিনি যে বাড়তি যত্ন ও সহমর্মিতা পেয়েছেন, তা বর্তমান কর্মপরিবেশের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘দৃশ্যম’ টিমের সহযোগিতার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছে ন অভিনেত্রী শ্রিয়া সরণ। নতুন মা হিসেবে তাঁর প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

শুটিং সেটে নতুন মায়েদের জন্য বিশেষ ছাড়

‘দৃশ্যম টু’-এ অভিনয়ের সময় শ্রিয়ার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র আট মাস। পরবর্তী সময়ে ‘দৃশ্যম থ্রি’-এর শুটিংয়েও টিম তার মাতৃত্বকালীন চাহিদার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রিয়া জানান, শুটিং শেষ হওয়া মাত্রই নির্মাতারা তাকে সবার আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিতেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা সিনেমার প্রধান অভিনেতা অজয় দেবগনের সময়ের চেয়েও এগিয়ে থাকতো। শ্রিয়ার মতে, টিম যেভাবে তার প্রতি আন্তরিকতা দেখিয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “আমি যখন ‘দৃশ্যম ২’-এ অভিনয় করি, তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল আট মাস। তৃতীয় পর্বে অবশ্য সে কিছুটা বড় হয়েছে। তারপরও তারা আমার প্রতি খুবই সহায়ক ছিল। শুটিং শেষ হওয়ার পর তারা আমাকে আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিত, কখনো কখনো অজয় স্যারেরও আগে। কারণ তারা বলত, সে তো নতুন মা। তারা খুবই ভালো ও আন্তরিক।” কারণ সন্তান জন্ম দেওয়া একটি অসাধারণ বিষয়।

মাতৃত্ব ও ক্যারিয়ারের সমন্বয়

মাতৃত্বের পর থেকে কাজের ব্যাপারে শ্রিয়া এখন অনেক বেশি সচেতন। ভবিষ্যতে মেয়ে বড় হয়ে মায়ের অভিনীত কাজ দেখবে—এই ভাবনাটি তাকে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি এমন সব সিনেমা বাছাই করতে চান, যা দেখে তার মেয়ে একদিন গর্ববোধ করবে। শ্রিয়া বলেন, “অবশ্যই এখন আমাকে আরো সচেতন হতে হয়। আমি আমার মেয়ের সঙ্গে আরো বেশি সময় কাটাতে চাই। পাশাপাশি এমন সিনেমায় কাজ করতে চাই, যেগুলো দেখে একদিন আমার মেয়ে গর্বিত হবে। আমি চাই, একদিন সে উঠে এসে বলুক, মা, এটা দারুণ একটা সিনেমা ছিল।”

কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সহমত

শ্রিয়ার এই অভিজ্ঞতা এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন সিনেমার সেটে মায়েদের সহায়ক পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের আলোচনা চলছে। কাজের পাশাপাশি মাতৃত্ব সামলানো নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পরিণীতি চোপড়াও। তিনি জানান, মা হওয়ার কারণে কাজ থেকে দূরে থাকতে চান না। বরং আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমি খুব খুশি যে আমাদের প্রজন্মের আলিয়া, আমি, দীপিকা, আমার নিজের বোন প্রিয়াঙ্কা—যিনি পশ্চিমে কাজ করছেন—আমরা সবাই মা হতে পারছি এবং একই মানের কাজ করে যাচ্ছি। বরং আমার মনে হয়, এখন আমরা আরো ভালো কাজ করছি।” বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় ৩০০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানান ো হয়েছে। মাতৃত্ব শ্রিয়ার ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি পেশাগত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টাসহ কয়েকটি শর্তের কারণে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে দীপিকা পাড়ুকোন সরে যাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। আর শুধু মা হয়েছি বলে যদি কাজ হারাতে হয়, তাহলে আমার খারাপ লাগবে।

  • দৃশ্যম ফ্র্যাঞ্চাইজি বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।
  • প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘দৃশ্যম থ্রি’ বিশ্বব্যাপী ৩০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে।
  • নতুন মায়েদের জন্য সেটে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি এখন সরব।
  • পরিণীতি চোপড়া মনে করেন, দর্শক মায়েদের অভিনয় থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন না, তাই নির্মাতাদের উচিত বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখা।

পরিশেষে, শ্রিয়া সরণের এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা কর্মক্ষেত্রে মায়েদের জন্য একটি নমনীয় ও সহায়তাপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। পরিবার ও ক্যারিয়ারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এই লড়াইয়ে সহকর্মীদের সমর্থন যে বড় ধরনের মানসিক স্বস্তি দেয়, শ্রিয়ার বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজারে নিখোঁজ বিড়ালের সন্ধানে মাইকিং ও পুরস্কার ঘোষণা

নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’: শ্রিয়া সরণ

আপডেট সময় ০৬:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

মা হওয়ার পর শ্রিয়া সরণের অভিনয়জীবনে এবং সিনেমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে এই নতুন যাত্রায় ‘দৃশ্যম’ সিনেমার টিমের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা অভিনেত্রীকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। নতুন মা হিসেবে শুটিং সেটে তিনি যে বাড়তি যত্ন ও সহমর্মিতা পেয়েছেন, তা বর্তমান কর্মপরিবেশের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘দৃশ্যম’ টিমের সহযোগিতার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছে ন অভিনেত্রী শ্রিয়া সরণ। নতুন মা হিসেবে তাঁর প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

শুটিং সেটে নতুন মায়েদের জন্য বিশেষ ছাড়

‘দৃশ্যম টু’-এ অভিনয়ের সময় শ্রিয়ার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র আট মাস। পরবর্তী সময়ে ‘দৃশ্যম থ্রি’-এর শুটিংয়েও টিম তার মাতৃত্বকালীন চাহিদার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রিয়া জানান, শুটিং শেষ হওয়া মাত্রই নির্মাতারা তাকে সবার আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিতেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা সিনেমার প্রধান অভিনেতা অজয় দেবগনের সময়ের চেয়েও এগিয়ে থাকতো। শ্রিয়ার মতে, টিম যেভাবে তার প্রতি আন্তরিকতা দেখিয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “আমি যখন ‘দৃশ্যম ২’-এ অভিনয় করি, তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল আট মাস। তৃতীয় পর্বে অবশ্য সে কিছুটা বড় হয়েছে। তারপরও তারা আমার প্রতি খুবই সহায়ক ছিল। শুটিং শেষ হওয়ার পর তারা আমাকে আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিত, কখনো কখনো অজয় স্যারেরও আগে। কারণ তারা বলত, সে তো নতুন মা। তারা খুবই ভালো ও আন্তরিক।” কারণ সন্তান জন্ম দেওয়া একটি অসাধারণ বিষয়।

মাতৃত্ব ও ক্যারিয়ারের সমন্বয়

মাতৃত্বের পর থেকে কাজের ব্যাপারে শ্রিয়া এখন অনেক বেশি সচেতন। ভবিষ্যতে মেয়ে বড় হয়ে মায়ের অভিনীত কাজ দেখবে—এই ভাবনাটি তাকে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি এমন সব সিনেমা বাছাই করতে চান, যা দেখে তার মেয়ে একদিন গর্ববোধ করবে। শ্রিয়া বলেন, “অবশ্যই এখন আমাকে আরো সচেতন হতে হয়। আমি আমার মেয়ের সঙ্গে আরো বেশি সময় কাটাতে চাই। পাশাপাশি এমন সিনেমায় কাজ করতে চাই, যেগুলো দেখে একদিন আমার মেয়ে গর্বিত হবে। আমি চাই, একদিন সে উঠে এসে বলুক, মা, এটা দারুণ একটা সিনেমা ছিল।”

কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সহমত

শ্রিয়ার এই অভিজ্ঞতা এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন সিনেমার সেটে মায়েদের সহায়ক পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের আলোচনা চলছে। কাজের পাশাপাশি মাতৃত্ব সামলানো নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পরিণীতি চোপড়াও। তিনি জানান, মা হওয়ার কারণে কাজ থেকে দূরে থাকতে চান না। বরং আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমি খুব খুশি যে আমাদের প্রজন্মের আলিয়া, আমি, দীপিকা, আমার নিজের বোন প্রিয়াঙ্কা—যিনি পশ্চিমে কাজ করছেন—আমরা সবাই মা হতে পারছি এবং একই মানের কাজ করে যাচ্ছি। বরং আমার মনে হয়, এখন আমরা আরো ভালো কাজ করছি।” বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় ৩০০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানান ো হয়েছে। মাতৃত্ব শ্রিয়ার ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি পেশাগত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টাসহ কয়েকটি শর্তের কারণে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে দীপিকা পাড়ুকোন সরে যাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। আর শুধু মা হয়েছি বলে যদি কাজ হারাতে হয়, তাহলে আমার খারাপ লাগবে।

  • দৃশ্যম ফ্র্যাঞ্চাইজি বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।
  • প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘দৃশ্যম থ্রি’ বিশ্বব্যাপী ৩০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে।
  • নতুন মায়েদের জন্য সেটে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি এখন সরব।
  • পরিণীতি চোপড়া মনে করেন, দর্শক মায়েদের অভিনয় থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন না, তাই নির্মাতাদের উচিত বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখা।

পরিশেষে, শ্রিয়া সরণের এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা কর্মক্ষেত্রে মায়েদের জন্য একটি নমনীয় ও সহায়তাপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। পরিবার ও ক্যারিয়ারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এই লড়াইয়ে সহকর্মীদের সমর্থন যে বড় ধরনের মানসিক স্বস্তি দেয়, শ্রিয়ার বক্তব্য তারই প্রতিফলন।