ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

শীতের গ্যাস-সংকটে বড় বিপাকে এশিয়া ও বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কাতারের গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে, যা আসন্ন শীত মৌসুমে এশিয়া ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে এলএনজির সরবরাহ হ্রাসের প্রভাবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। কিন্তু সেই বিকল্প সরবরাহও এখন ঝুঁকির মুখে।

কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকে কাতার তাদের চুক্তিবদ্ধ ক্রেতাদের পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ দিতে পারছে না। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ব্যাহত হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এরপর থেকে কাতার মাত্র ৯৮ কার্গো এলএনজি পাঠিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩৬টি কার্গো কম। এই ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টন, যা গত বছরের মোট বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের ৯ শতাংশ। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫৩৬টি এলএনজি কার্গো কম পাঠিয়েছে কাতার।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে এশিয়ায় এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ২৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ১৪০ শতাংশ বেশি। যদিও এই দাম ২০২২ সালের সর্বোচ্চ ৭০ ডলারের তুলনায় কম, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি এশিয়ার দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর এশিয়ায় ১৯ কোটি ৩০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭০ লাখ টন কম। বাংলাদেশেও চাহিদামত এলএনজি না পাওয়ায় উৎপাদন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শুধু ইউরোপ নয়, এই সংকটের ধকল পোহাতে হতে পারে এশিয়ার দেশগুলোকেও। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় যা ১৪০ শতাংশ বেশি। তবে পরিস্থিতি এখনও ২০২২ সালের মতো ভয়াবহ হয়নি।

ইউরোপের গ্যাসের মজুত বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে সেখানে মজুত আছে মাত্র ৭২ শতাংশ, যা বছরের এই সময়ের গড় মজুত ৯০ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। জার্মানির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক, যেখানে মজুত নেমেছে ৫৭ শতাংশে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিক্স ওয়ান কমোডিটিজের গত ১০ বছরের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশন অবশ্য এখনো নভেম্বরের মধ্যে গ্যাসের মজুত ৯০ শতাংশে উন্নীত করার বাধ্যবাধকতা পুনর্বহাল করেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেম্বরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমলে এলএনজি কেনার প্রতিযোগিতায় দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ৩০ থেকে ৪০ ডলারে উঠতে পারে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষক ঝি শিন চং-এর মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে কাতার সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে ইউরোপের পক্ষে মজুত পূরণ করা কঠিন হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী শীতে অতিরিক্ত ২ কোটি টন এলএনজি প্রয়োজন হতে পারে, যা ২০২৭ সাল জুড়ে গ্যাসের দামকে বাড়তি রাখতে পারে।

এই সংকট বিশ্ববাজারে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। যুদ্ধের আগে ধারণা করা হয়েছিল ২০২৬ সালে এলএনজির সরবরাহ চাহিদা ছাড়িয়ে যাবে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা সেই পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করেছে। যদিও নতুন সরবরাহ বাড়াতে বিভিন্ন দেশে প্রকল্প চলমান, তবুও স্বল্পমেয়াদে এই জ্বালানি অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন মায়েদের জন্য শুটিংয়ে ‘বাড়তি যত্ন’: শ্রিয়া সরণ

শীতের গ্যাস-সংকটে বড় বিপাকে এশিয়া ও বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৫:৫৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কাতারের গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে, যা আসন্ন শীত মৌসুমে এশিয়া ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে এলএনজির সরবরাহ হ্রাসের প্রভাবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। কিন্তু সেই বিকল্প সরবরাহও এখন ঝুঁকির মুখে।

কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকে কাতার তাদের চুক্তিবদ্ধ ক্রেতাদের পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ দিতে পারছে না। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ব্যাহত হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এরপর থেকে কাতার মাত্র ৯৮ কার্গো এলএনজি পাঠিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩৬টি কার্গো কম। এই ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টন, যা গত বছরের মোট বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের ৯ শতাংশ। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫৩৬টি এলএনজি কার্গো কম পাঠিয়েছে কাতার।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে এশিয়ায় এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ২৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ১৪০ শতাংশ বেশি। যদিও এই দাম ২০২২ সালের সর্বোচ্চ ৭০ ডলারের তুলনায় কম, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি এশিয়ার দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর এশিয়ায় ১৯ কোটি ৩০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭০ লাখ টন কম। বাংলাদেশেও চাহিদামত এলএনজি না পাওয়ায় উৎপাদন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শুধু ইউরোপ নয়, এই সংকটের ধকল পোহাতে হতে পারে এশিয়ার দেশগুলোকেও। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় যা ১৪০ শতাংশ বেশি। তবে পরিস্থিতি এখনও ২০২২ সালের মতো ভয়াবহ হয়নি।

ইউরোপের গ্যাসের মজুত বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে সেখানে মজুত আছে মাত্র ৭২ শতাংশ, যা বছরের এই সময়ের গড় মজুত ৯০ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। জার্মানির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক, যেখানে মজুত নেমেছে ৫৭ শতাংশে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিক্স ওয়ান কমোডিটিজের গত ১০ বছরের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশন অবশ্য এখনো নভেম্বরের মধ্যে গ্যাসের মজুত ৯০ শতাংশে উন্নীত করার বাধ্যবাধকতা পুনর্বহাল করেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেম্বরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমলে এলএনজি কেনার প্রতিযোগিতায় দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ৩০ থেকে ৪০ ডলারে উঠতে পারে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষক ঝি শিন চং-এর মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে কাতার সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে ইউরোপের পক্ষে মজুত পূরণ করা কঠিন হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী শীতে অতিরিক্ত ২ কোটি টন এলএনজি প্রয়োজন হতে পারে, যা ২০২৭ সাল জুড়ে গ্যাসের দামকে বাড়তি রাখতে পারে।

এই সংকট বিশ্ববাজারে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। যুদ্ধের আগে ধারণা করা হয়েছিল ২০২৬ সালে এলএনজির সরবরাহ চাহিদা ছাড়িয়ে যাবে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা সেই পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করেছে। যদিও নতুন সরবরাহ বাড়াতে বিভিন্ন দেশে প্রকল্প চলমান, তবুও স্বল্পমেয়াদে এই জ্বালানি অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।