যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে ভ্রমণের ব্যয় দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সরকারি ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে দেশটিতে বিমান ভাড়া আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গড়ে ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ছুটির মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে এই খরচের চাপ আরও তীব্র হচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম হপারের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটির সময় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের গড় ভাড়া ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
ভাড়া বৃদ্ধির এই প্রবণতার পেছনে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও যাত্রী চাহিদার ক্রমবর্ধমান চাপের পাশাপাশি সাশ্রয়ী এয়ারলাইনসের সংখ্যা কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় কম ভাড়ার এয়ারলাইনস স্পিরিট এয়ারলাইনসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এভিয়েশন বিশ্লেষক সংস্থা সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, স্পিরিট আগে যেসব রুটে উড়ত, তার ১ হাজার ১২৬টি রুটের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে ভাড়ার হার ঊর্ধ্বমুখী। এসব রুটে মধ্যম ভাড়া গড়ে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
নির্দিষ্ট কিছু রুটের তথ্য বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়। ক্লিভল্যান্ড-লাস ভেগাস রুটে আটটি এয়ারলাইনসের গড় ভাড়া এক বছরে ১৯২ ডলার থেকে বেড়ে ২৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ডেট্রয়েট থেকে স্পিরিটের সাবেক ৪২টি রুটে মধ্যম ভাড়া ১২৫ ডলার থেকে বেড়ে ২২৭ ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাজার থেকে একটি বড় সাশ্রয়ী এয়ারলাইনস সরে যাওয়ায় টিকিটের দামে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ভ্রমণ ব্যয় কমাতে বর্তমানে ফ্রন্টিয়ার, অ্যালিজিয়েন্ট, ব্রিজ, অ্যাভেলো ও সান কান্ট্রির মতো সাশ্রয়ী এয়ারলাইনসগুলোকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে লাগেজ, আসন নির্বাচন বা খাবারের জন্য বাড়তি ফি যোগ করলে মোট খরচ অনেক সময় বেড়ে যায়। তাই কোনো টিকিট বুকিংয়ের আগে সব ধরনের অতিরিক্ত ফি বিবেচনা করে প্রকৃত খরচের তুলনা করা জরুরি। এছাড়া বড় এয়ারলাইনসগুলোর সাবস্ক্রিপশন সুবিধা বা বেসিক ইকোনমি টিকিট যাচাই করলেও সাশ্রয়ের সুযোগ থাকতে পারে।
ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা অবলম্বন করলে খরচ কমানো সম্ভব। গোয়িং ডটকমের পরামর্শ অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে ভ্রমণের জন্য এক থেকে তিন মাস এবং আন্তর্জাতিক রুটে দুই থেকে আট মাস আগে টিকিট খোঁজা শুরু করা ভালো। ভ্রমণের দিন হিসেবে মঙ্গলবার বা শনিবার বেছে নিলে কিছুটা কম ভাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর বাইরেও আগের ভ্রমণের জমে থাকা মাইল বা পয়েন্ট ব্যবহার করে টিকিটের ব্যয় কমানো যেতে পারে। সব মিলিয়ে স্পিরিট পরবর্তী সময়ে সঠিক পরিকল্পনা ও রুট নির্বাচনের মাধ্যমেই আকাশপথের ভ্রমণ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
















