ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছে চিনির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ ‘মিল্কিওয়ে’ বা আকাশগঙ্গার ঠিক কেন্দ্রের কাছে বিশাল এক ধূলিকণা ও গ্যাসের মেঘে মিলেছে চিনির সন্ধান! যুগান্তকারী এই আবিষ্কার পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার নতুন আশা জাগিয়েছে।

নাসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইরিথ্রুলোজ’ (Erythrulose) নামের এই সরল চিনিটি নক্ষত্রমণ্ডলীর অতি শীতল তাপমাত্রায় (প্রায় -২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ক্ষুদ্র ধূলিকণায় রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রাণের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ধূলিকণাগুলো পরবর্তী সময়ে ধূমকেতুর অংশ হয়ে যায় কিংবা আশেপাশের বিভিন্ন গ্রহে ঝরে পড়ে।

স্পেনের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির গবেষক ড. ইজাসকুন হিমেনেজ-সেরা জানান, আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে সরাসরি চিনির সন্ধান পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। স্পেনের দুটি রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তারা এই চিনির খোঁজ পান। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মহাকাশে প্রাণের জন্য জরুরি এসব উপাদানের উপস্থিতি আমাদের আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি। ফলে অন্য গ্রহেও পৃথিবীর মতো প্রাণের বিকাশের সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো।

পৃথিবীতে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ সরল চিনি এলো, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের জিজ্ঞাসা ছিল। কারণ, ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা গেছে— শুরুর দিকের প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে এই চিনি তৈরি হওয়া বেশ কঠিন ছিল। নতুন এই আবিষ্কারের পর ধারণা করা হচ্ছে, প্রাচীন পৃথিবীতে যখন তীব্র গ্রহাণু ও ধূমকেতু বর্ষণ চলছিল, তখন মহাকাশ থেকে লাখ লাখ টন ‘ইরিথ্রুলোজ’ পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। মূলত মহাকাশ থেকে আসা এই জৈব উপাদানগুলোই পৃথিবীতে প্রাণের আদি উপাদান বা আরএনএ (RNA) তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

মজার বিষয় হলো, প্রাকৃতিকভাবে লাল রাস্পবেরি ফলে এই ইরিথ্রুলোজ চিনি পাওয়া যায়। এমনকি কৃত্রিমভাবে ত্বকের রং বদলানোর লোশনেও এর ব্যবহার রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছে চিনির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৯:২০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ ‘মিল্কিওয়ে’ বা আকাশগঙ্গার ঠিক কেন্দ্রের কাছে বিশাল এক ধূলিকণা ও গ্যাসের মেঘে মিলেছে চিনির সন্ধান! যুগান্তকারী এই আবিষ্কার পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার নতুন আশা জাগিয়েছে।

নাসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইরিথ্রুলোজ’ (Erythrulose) নামের এই সরল চিনিটি নক্ষত্রমণ্ডলীর অতি শীতল তাপমাত্রায় (প্রায় -২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ক্ষুদ্র ধূলিকণায় রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রাণের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ধূলিকণাগুলো পরবর্তী সময়ে ধূমকেতুর অংশ হয়ে যায় কিংবা আশেপাশের বিভিন্ন গ্রহে ঝরে পড়ে।

স্পেনের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির গবেষক ড. ইজাসকুন হিমেনেজ-সেরা জানান, আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে সরাসরি চিনির সন্ধান পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। স্পেনের দুটি রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তারা এই চিনির খোঁজ পান। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মহাকাশে প্রাণের জন্য জরুরি এসব উপাদানের উপস্থিতি আমাদের আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি। ফলে অন্য গ্রহেও পৃথিবীর মতো প্রাণের বিকাশের সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো।

পৃথিবীতে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ সরল চিনি এলো, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের জিজ্ঞাসা ছিল। কারণ, ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা গেছে— শুরুর দিকের প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে এই চিনি তৈরি হওয়া বেশ কঠিন ছিল। নতুন এই আবিষ্কারের পর ধারণা করা হচ্ছে, প্রাচীন পৃথিবীতে যখন তীব্র গ্রহাণু ও ধূমকেতু বর্ষণ চলছিল, তখন মহাকাশ থেকে লাখ লাখ টন ‘ইরিথ্রুলোজ’ পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। মূলত মহাকাশ থেকে আসা এই জৈব উপাদানগুলোই পৃথিবীতে প্রাণের আদি উপাদান বা আরএনএ (RNA) তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

মজার বিষয় হলো, প্রাকৃতিকভাবে লাল রাস্পবেরি ফলে এই ইরিথ্রুলোজ চিনি পাওয়া যায়। এমনকি কৃত্রিমভাবে ত্বকের রং বদলানোর লোশনেও এর ব্যবহার রয়েছে।