ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ব্যর্থতা : পাকিস্তান দলের প্রত্যেককে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, হটলাইন চালু করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র কারচুপির অভিযোগ,ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দায়িত্ব নিল আমিরাত মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ ফাইটার জেট, দাবি ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না ইরান : লারিজানি

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে গৃহবধূ

File photo

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করছেন সুলতানা আক্তার সুবর্ণা (২০) নামে এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে উপজেলায় দাতপুর পশ্চিম ভাষানচর গ্রামে প্রেমিক জহিরুল ইসলাম নাহিদের (২২) বাড়িতে অনশন করছেন সুবর্ণা। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, সুবর্ণা আংগারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের সোহরাফ মাঝির মেয়ে। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর সুবর্ণার সঙ্গে শরীয়তপুর সদর পৌরসভার উত্তর মধ্যপাড়া গ্রামের শাহ্ জাহান মাদবরের ছেলে মাইক্রোবাস চালক সোহাগ মাদবরের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। স্বামী সোহাগ বিয়ের ৬ মাস যেতে না যেতেই যৌতুকের জন্য প্রতিনিয়িত মারধর করত সুবর্ণাকে। সহ্য করতে না পেরে এক বছর সংসার করার পর স্বামীর সংসার ফেলে বাবার বাড়ি চলে আসে সুবর্ণা।

সুলতানা আক্তার সুবর্ণা জানান, বাবার বাড়ি চলে আসার পর ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে রং নাম্বারে ওই ইউনিয়নের দাতপুর পশ্চিম ভাষানচর গ্রামের হাচান বেপারীর ছেলে জহিরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে প্রথম কথা হয় তার। কথা বলতে বলতে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে সুবর্ণা-নাহিদ। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এ কারণে তাদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়। গত বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিয়ে করবে বলে নাহিদ তার খালাতো বোন সুমির ঢাকার মিরপুরের বাসায় নিয়ে যায় তাকে। কিন্তু বিয়ে না করে গত শনিবার ঢাকা থেকে তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যায় নাহিদ। তাই এখন সে প্রেমিক নাহিদের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে।

তবে প্রেমিকা বাড়িতে অনশন শুরুর পর থেকে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র প্রেমিক জহিরুল ইসলাম নাহিদ এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

প্রেমিকা সুলতানা আক্তার সুবর্ণা বলেন, নাহিদ আমাকে বিয়ে না করলে আমি তার বাড়ি থেকে যাব না। দরকার হলে নিজের জীবন শেষ করে দেব।

জহিরুল ইসলাম নাহিদের মা লাইলি বেগম (৫৫) বলেন, ছেলের কাজ-কর্ম নেই আবার বিয়ে করবে। সুবর্ণাকে বিয়ে করলে নাহিদকে আলাদা করে দেয়া হবে।

আংগারিয়া ইউপির ৬নং ওয়ার্ড সদস্য বাবুল সরদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। আমি এলাকার মানুষের কাছে শুনেছি। তবে দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে গৃহবধূ

আপডেট সময় ০৮:৫৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করছেন সুলতানা আক্তার সুবর্ণা (২০) নামে এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে উপজেলায় দাতপুর পশ্চিম ভাষানচর গ্রামে প্রেমিক জহিরুল ইসলাম নাহিদের (২২) বাড়িতে অনশন করছেন সুবর্ণা। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, সুবর্ণা আংগারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের সোহরাফ মাঝির মেয়ে। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর সুবর্ণার সঙ্গে শরীয়তপুর সদর পৌরসভার উত্তর মধ্যপাড়া গ্রামের শাহ্ জাহান মাদবরের ছেলে মাইক্রোবাস চালক সোহাগ মাদবরের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। স্বামী সোহাগ বিয়ের ৬ মাস যেতে না যেতেই যৌতুকের জন্য প্রতিনিয়িত মারধর করত সুবর্ণাকে। সহ্য করতে না পেরে এক বছর সংসার করার পর স্বামীর সংসার ফেলে বাবার বাড়ি চলে আসে সুবর্ণা।

সুলতানা আক্তার সুবর্ণা জানান, বাবার বাড়ি চলে আসার পর ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে রং নাম্বারে ওই ইউনিয়নের দাতপুর পশ্চিম ভাষানচর গ্রামের হাচান বেপারীর ছেলে জহিরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে প্রথম কথা হয় তার। কথা বলতে বলতে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে সুবর্ণা-নাহিদ। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এ কারণে তাদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়। গত বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিয়ে করবে বলে নাহিদ তার খালাতো বোন সুমির ঢাকার মিরপুরের বাসায় নিয়ে যায় তাকে। কিন্তু বিয়ে না করে গত শনিবার ঢাকা থেকে তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যায় নাহিদ। তাই এখন সে প্রেমিক নাহিদের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে।

তবে প্রেমিকা বাড়িতে অনশন শুরুর পর থেকে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র প্রেমিক জহিরুল ইসলাম নাহিদ এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

প্রেমিকা সুলতানা আক্তার সুবর্ণা বলেন, নাহিদ আমাকে বিয়ে না করলে আমি তার বাড়ি থেকে যাব না। দরকার হলে নিজের জীবন শেষ করে দেব।

জহিরুল ইসলাম নাহিদের মা লাইলি বেগম (৫৫) বলেন, ছেলের কাজ-কর্ম নেই আবার বিয়ে করবে। সুবর্ণাকে বিয়ে করলে নাহিদকে আলাদা করে দেয়া হবে।

আংগারিয়া ইউপির ৬নং ওয়ার্ড সদস্য বাবুল সরদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। আমি এলাকার মানুষের কাছে শুনেছি। তবে দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।