ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সৌদি আরবে মেশিনে কাটা পড়ে কুমিল্লা প্রবাসীর মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সৌদি আরবের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনে কাটা পড়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকারিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. নাদিম হোসেন (২৭) কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর এলাকার সামাদ মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় ১০ মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাদিম। সেখানে আল-কাসিমের বুকারিয়া এলাকার একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন পরিষ্কার করতে মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করেন নাদিম। এ সময় বাইরে থাকা কয়েকজন সহকর্মী অসাবধানতাবশত মেশিনটি চালু করে দিলে তিনি মেশিনের ভেতরে আটকা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার পর সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় কারখানার তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নাদিমের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে যদুপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নিহতের বাবা সামাদ মিয়া বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার সন্দেহ। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই। একইসঙ্গে দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার সুযোগ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করল যুক্তরাজ্য

সৌদি আরবে মেশিনে কাটা পড়ে কুমিল্লা প্রবাসীর মৃত্যু

আপডেট সময় ০২:৪০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সৌদি আরবের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনে কাটা পড়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকারিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. নাদিম হোসেন (২৭) কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর এলাকার সামাদ মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় ১০ মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাদিম। সেখানে আল-কাসিমের বুকারিয়া এলাকার একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন পরিষ্কার করতে মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করেন নাদিম। এ সময় বাইরে থাকা কয়েকজন সহকর্মী অসাবধানতাবশত মেশিনটি চালু করে দিলে তিনি মেশিনের ভেতরে আটকা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার পর সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় কারখানার তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নাদিমের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে যদুপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নিহতের বাবা সামাদ মিয়া বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার সন্দেহ। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই। একইসঙ্গে দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার সুযোগ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।