ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদিনেই ১৯৩টি ভূমিধস, নিরাপদ আশ্রয়ে ৪৮৯ পরিবার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১৬ হাজার রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক বিশেষ বার্তায় বলা হয়, একদিনেই শিবিরগুলোতে ১৯৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এ সব ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাণহানি এড়াতে এখন পর্যন্ত ৪৮৯টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘বর্তমানে বায়ুচাপের ব্যাপক তারতম্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।’

তিনি জানান, বায়ুচাপের এই তারতম্যের কারণে প্রচুর মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও অনেক বেড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আগাম সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে। যদি আগামী দুই-তিন দিনও একই মাত্রার বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে ভূমিধসের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।’

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ক্যাম্প-৯ থেকে ১৫ পর্যন্ত এলাকা সবচেয়ে বেশি ভূমিধস ও দুর্যোগঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ক্যাম্পে বসবাস করছেন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। পাহাড়ে অনিরাপদ বসবাসের কারণে প্রতি বর্ষাতেই ভূমিধস, প্রাণহানি ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ঘটছে। ফলে সবসময় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এসব রোহিঙ্গা।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্ম (আরসিপি) ডেইলি ইনসিডেন্টস ড্যাশবোর্ড রিপোর্ট অনুসারে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে গত ৪ থেকে ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত অন্তত ১০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩ হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এ সময়ে ১৬০টি দুর্যোগজনিত ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে ৫২টি ভূমিধস, ১৪টি বন্যা এবং ৮৩টি ঝড়ের ঘটনা রয়েছে। ১ হাজার ৬১৪টি আশ্রয় আংশিক এবং ১০টি আশ্রয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি উদ্ধার, আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকায় নতুন করে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি রয়েই গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদিনেই ১৯৩টি ভূমিধস, নিরাপদ আশ্রয়ে ৪৮৯ পরিবার

আপডেট সময় ১১:১৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১৬ হাজার রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক বিশেষ বার্তায় বলা হয়, একদিনেই শিবিরগুলোতে ১৯৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এ সব ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাণহানি এড়াতে এখন পর্যন্ত ৪৮৯টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘বর্তমানে বায়ুচাপের ব্যাপক তারতম্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।’

তিনি জানান, বায়ুচাপের এই তারতম্যের কারণে প্রচুর মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও অনেক বেড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আগাম সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে। যদি আগামী দুই-তিন দিনও একই মাত্রার বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে ভূমিধসের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।’

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ক্যাম্প-৯ থেকে ১৫ পর্যন্ত এলাকা সবচেয়ে বেশি ভূমিধস ও দুর্যোগঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ক্যাম্পে বসবাস করছেন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। পাহাড়ে অনিরাপদ বসবাসের কারণে প্রতি বর্ষাতেই ভূমিধস, প্রাণহানি ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ঘটছে। ফলে সবসময় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এসব রোহিঙ্গা।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্ম (আরসিপি) ডেইলি ইনসিডেন্টস ড্যাশবোর্ড রিপোর্ট অনুসারে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে গত ৪ থেকে ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত অন্তত ১০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩ হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এ সময়ে ১৬০টি দুর্যোগজনিত ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে ৫২টি ভূমিধস, ১৪টি বন্যা এবং ৮৩টি ঝড়ের ঘটনা রয়েছে। ১ হাজার ৬১৪টি আশ্রয় আংশিক এবং ১০টি আশ্রয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি উদ্ধার, আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকায় নতুন করে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি রয়েই গেছে।