ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘সো বিজি?’– স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মনোযোগ চাইলেন স্পিকার বিএনপি সরকার সংস্কারের দাবিকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে: নাহিদ ইসলাম পরিবেশ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে বিপদে পড়তে হবে: রিজভী সিলেটে দুইদিন পর সুরমায় ভেসে উঠল মরদেহ সংসদ অধিবেশন চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার, সতর্ক করলেন স্পিকার সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলা, দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার প্রশ্নফাঁস-ডিজিটাল জালিয়াতিতে ৫ বছরের জেল, সংসদে বিল পাস এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য জরুরি নির্দেশনা আমার কাছে পুলিশ নেই, মুরগি আছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতে নিষিদ্ধ, বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলল দিলজিতের ‘সতলুজ’

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ৩ জুলাই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিফাইভে মুক্তি পেয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সতলুজ’ (যা পূর্বে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ নামে পরিচিত ছিল)। শিখ অধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরার জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তির পরপরই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

তবে নাটকীয়ভাবে মুক্তির মাত্র দুই দিন পর, ৫ জুলাই সন্ধ্যায় ভারতের জিফাইভ প্ল্যাটফর্ম থেকে সিনেমাটি হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া হয়। ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সিনেমাটির বিষয়বস্তু পুনর্মূল্যায়ন করছে, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে এর কিছু অংশ ভারতবিরোধী শক্তি দ্বারা অপব্যবহৃত হতে পারে।

ভারতে সিনেমাটি নিষিদ্ধ বা প্রদর্শনী বন্ধ করা হলেও বিদেশের মাটিতে এটি নিয়ে উন্মাদনা আকাশচুম্বী রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত বাদে আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেমাটি দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জিফাইভ অ্যাপের মাসিক ডাউনলোড এক লাফে প্রায় ৩৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে প্রবাসী ভারতীয় ও পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের মানুষ শুধুমাত্র এই সিনেমাটি দেখার জন্যই অ্যাপটি ডাউনলোড করছেন। আবার অনেক জায়গায় অ্যাপের বাইরেও হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো মাধ্যমে সিনেমাটির পাইরেটেড সংস্করণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সিনেমাটির এই যাত্রাপথ শুরু থেকেই বেশ কণ্টকাকীর্ণ ছিল। ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) বা সেন্সর বোর্ড সিনেমাটির মূল চরিত্র বদল এবং পাঞ্জাব পুলিশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন দৃশ্যসহ মোট ১২৭টি জায়গায় কাঁচি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পরিচালক হানি ত্রেহান এবং তার দল এই বিশাল পরিবর্তন মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তাদের মতে এতে সিনেমার মূল সত্য ও উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যেত। এই টানাপোড়েনের কারণে ২০২৩ সালের মর্যাদাপূর্ণ টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিফ) সূচি থেকেও শেষ মুহূর্তে সিনেমাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ভারতীয় দর্শকদের জন্য সিনেমাটি পুনরায় ওটিটিতে ফিরবে কি না, তা নিয়ে জিফাইভ কর্তৃপক্ষ এখনো স্পষ্ট কোনো জবাব দেয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে নিষিদ্ধ, বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলল দিলজিতের ‘সতলুজ’

আপডেট সময় ০৩:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ৩ জুলাই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিফাইভে মুক্তি পেয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সতলুজ’ (যা পূর্বে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ নামে পরিচিত ছিল)। শিখ অধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরার জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তির পরপরই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

তবে নাটকীয়ভাবে মুক্তির মাত্র দুই দিন পর, ৫ জুলাই সন্ধ্যায় ভারতের জিফাইভ প্ল্যাটফর্ম থেকে সিনেমাটি হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া হয়। ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সিনেমাটির বিষয়বস্তু পুনর্মূল্যায়ন করছে, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে এর কিছু অংশ ভারতবিরোধী শক্তি দ্বারা অপব্যবহৃত হতে পারে।

ভারতে সিনেমাটি নিষিদ্ধ বা প্রদর্শনী বন্ধ করা হলেও বিদেশের মাটিতে এটি নিয়ে উন্মাদনা আকাশচুম্বী রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত বাদে আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেমাটি দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জিফাইভ অ্যাপের মাসিক ডাউনলোড এক লাফে প্রায় ৩৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে প্রবাসী ভারতীয় ও পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের মানুষ শুধুমাত্র এই সিনেমাটি দেখার জন্যই অ্যাপটি ডাউনলোড করছেন। আবার অনেক জায়গায় অ্যাপের বাইরেও হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো মাধ্যমে সিনেমাটির পাইরেটেড সংস্করণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সিনেমাটির এই যাত্রাপথ শুরু থেকেই বেশ কণ্টকাকীর্ণ ছিল। ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) বা সেন্সর বোর্ড সিনেমাটির মূল চরিত্র বদল এবং পাঞ্জাব পুলিশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন দৃশ্যসহ মোট ১২৭টি জায়গায় কাঁচি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পরিচালক হানি ত্রেহান এবং তার দল এই বিশাল পরিবর্তন মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তাদের মতে এতে সিনেমার মূল সত্য ও উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যেত। এই টানাপোড়েনের কারণে ২০২৩ সালের মর্যাদাপূর্ণ টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিফ) সূচি থেকেও শেষ মুহূর্তে সিনেমাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ভারতীয় দর্শকদের জন্য সিনেমাটি পুনরায় ওটিটিতে ফিরবে কি না, তা নিয়ে জিফাইভ কর্তৃপক্ষ এখনো স্পষ্ট কোনো জবাব দেয়নি।