ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেসিদের দুর্দান্ত কামব্যাকে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা আধুনিক নগর গড়তে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার বিকল্প নেই : ডিএসসিসি প্রশাসক নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসর ‘সো বিজি?’– স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মনোযোগ চাইলেন স্পিকার বিএনপি সরকার সংস্কারের দাবিকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে: নাহিদ ইসলাম পরিবেশ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে বিপদে পড়তে হবে: রিজভী সিলেটে দুইদিন পর সুরমায় ভেসে উঠল মরদেহ সংসদ অধিবেশন চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার, সতর্ক করলেন স্পিকার সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলা, দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার প্রশ্নফাঁস-ডিজিটাল জালিয়াতিতে ৫ বছরের জেল, সংসদে বিল পাস

‘সো বিজি?’– স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মনোযোগ চাইলেন স্পিকার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংসদ সদস্যদের (এমপি) বক্তব্য শুনতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সংসদের বৈঠক চলাকালে তার উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী! সো বিজি? আপনার উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন মাননীয় সদস্য। একটু দয়া করে শুনুন।’

বৈঠকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় আরেক সংসদ সদস্যকে সতর্ক করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ নিয়ে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার এক এমপিকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য একেএম মোশারফ হোসেন, সংসদে কেউ কেউ টেলিফোন ব্যবহার করেন একটু আড়াল রেখে। আপনি তো খুল্লাম খুল্লা ইউজ করছেন।’ এরপর স্পিকার তাকে সংসদের বৈঠক চলাকালে ফোন ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান।

স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, ‘অনুগ্রহ করে সংসদে ফোন ব্যবহার করবেন না। এটি রীতি বিরুদ্ধ। এটি সবার জন্য প্রযোজ্য। সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন, এটাই আমি আশা করি।’

নৌ-থানায় হাস্যরস-

কুষ্টিয়ায় নৌ-পুলিশ থানা স্থাপনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে প্রশ্ন করতে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘মেহেরপুর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চিলমারির প্রত্যন্ত চর এলাকা থেকে মিরপুর, কুমারখালী, শিলাইদহ, খোকসা পর্যন্ত নদী তীরবর্তী অঞ্চলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। এই নৌপথটি রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের লক্ষীকুন্ডা ফাঁড়ির অধীনে রয়েছে। ভেড়ামারা এবং এই তালবাড়িয়া বা দৌলতপুরে নৌ-থানা না থাকায় নৌপথে দৌরাত্ম্য বেড়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীদের। প্রতিদিনই সেখানে গোলাগুলি হচ্ছে।’

তখন স্পিকার প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনি প্রশ্ন করছেন পানিসম্পদ মন্ত্রীকে?’ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘জি।’ তখন স্পিকার বলেন, ‘নৌ পুলিশের কী করবেন উনি? উনি তৌ নৌ ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবেন না।’ এই পর্যায়ে ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীকে প্রশ্ন করবেন।’ স্পিকার তখন বলেন, ‘আপনি চাচ্ছেন কি? একটি থানা চাচ্ছেন ওখানে?’ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘নৌ পুলিশের একটি থানা আবেদন করছি।’

স্পিকার তখন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনার অধীনে কী থানা পুলিশ কিছু আছে?’ মন্ত্রী তখন হাসতে হাসতে বলেন, ‘মুরগি নিয়ে আছে। পুলিশ তো আমার সাথে নাই। তারপরও ওই এলাকায় সংরক্ষিত মাছ কেউ যদি কেউ ধরে, ওই উছিলায় যদি রিকুয়েস্ট করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কিছু পুলিশ পাঠানোর জন্য। এছাড়া আমার কিছু করার নাই।’ তার এই বক্তব্যের পর সংষদে হাসির রোল ওঠে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসিদের দুর্দান্ত কামব্যাকে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

‘সো বিজি?’– স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মনোযোগ চাইলেন স্পিকার

আপডেট সময় ১০:১৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংসদ সদস্যদের (এমপি) বক্তব্য শুনতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সংসদের বৈঠক চলাকালে তার উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী! সো বিজি? আপনার উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন মাননীয় সদস্য। একটু দয়া করে শুনুন।’

বৈঠকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় আরেক সংসদ সদস্যকে সতর্ক করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ নিয়ে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে।

আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার এক এমপিকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য একেএম মোশারফ হোসেন, সংসদে কেউ কেউ টেলিফোন ব্যবহার করেন একটু আড়াল রেখে। আপনি তো খুল্লাম খুল্লা ইউজ করছেন।’ এরপর স্পিকার তাকে সংসদের বৈঠক চলাকালে ফোন ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান।

স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, ‘অনুগ্রহ করে সংসদে ফোন ব্যবহার করবেন না। এটি রীতি বিরুদ্ধ। এটি সবার জন্য প্রযোজ্য। সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন, এটাই আমি আশা করি।’

নৌ-থানায় হাস্যরস-

কুষ্টিয়ায় নৌ-পুলিশ থানা স্থাপনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে প্রশ্ন করতে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘মেহেরপুর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চিলমারির প্রত্যন্ত চর এলাকা থেকে মিরপুর, কুমারখালী, শিলাইদহ, খোকসা পর্যন্ত নদী তীরবর্তী অঞ্চলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। এই নৌপথটি রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের লক্ষীকুন্ডা ফাঁড়ির অধীনে রয়েছে। ভেড়ামারা এবং এই তালবাড়িয়া বা দৌলতপুরে নৌ-থানা না থাকায় নৌপথে দৌরাত্ম্য বেড়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীদের। প্রতিদিনই সেখানে গোলাগুলি হচ্ছে।’

তখন স্পিকার প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনি প্রশ্ন করছেন পানিসম্পদ মন্ত্রীকে?’ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘জি।’ তখন স্পিকার বলেন, ‘নৌ পুলিশের কী করবেন উনি? উনি তৌ নৌ ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবেন না।’ এই পর্যায়ে ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীকে প্রশ্ন করবেন।’ স্পিকার তখন বলেন, ‘আপনি চাচ্ছেন কি? একটি থানা চাচ্ছেন ওখানে?’ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘নৌ পুলিশের একটি থানা আবেদন করছি।’

স্পিকার তখন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনার অধীনে কী থানা পুলিশ কিছু আছে?’ মন্ত্রী তখন হাসতে হাসতে বলেন, ‘মুরগি নিয়ে আছে। পুলিশ তো আমার সাথে নাই। তারপরও ওই এলাকায় সংরক্ষিত মাছ কেউ যদি কেউ ধরে, ওই উছিলায় যদি রিকুয়েস্ট করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কিছু পুলিশ পাঠানোর জন্য। এছাড়া আমার কিছু করার নাই।’ তার এই বক্তব্যের পর সংষদে হাসির রোল ওঠে।