ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’ ২০২৭ সালে কমলাপুর পর্যন্ত চালু হচ্ছে মেট্রোরেল কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ বলছে- মাকে ধর্ষণের প্রতিশোধ নিতে হত্যা নবজাতকের লাশ নিয়ে ফিরছিলেন, পথেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স উপজেলায় জোরদার হচ্ছে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্ভরযোগ্য ডাটা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি : অর্থমন্ত্রী ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমার সীমা‌ন্তে নজরদা‌রি বা‌ড়ানো হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিশালে স্ট্যাম্প-চেকে জোর করে স্বাক্ষরের ঘটনায় দুজন গ্রেফতার

উপজেলায় জোরদার হচ্ছে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতির কার্যকর মোকাবিলায় জেলা পেরিয়ে এবার উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকারের সমন্বিত ও নিবিড় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন মজুত, জরুরি মোবাইল হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের বিশেষায়িত চিকিৎসা ও প্রোটোকল নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিগত দুই মাস ধরেই সরকারের এ ডেঙ্গু প্রতিরোধী প্রস্তুতি ও কর্মযজ্ঞ চলছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনকে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ডেঙ্গু মোকাবিলা ও রোগী ব্যবস্থাপনায় আমরা একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছি। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে প্রতিটি জেলায় ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং সংকটেরোধে লজিস্টিক সাপোর্টের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে ডেঙ্গু চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত স্যালাইনের যেন কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, কোনো রোগী যেন জীবনের ঝুঁকিতে না পড়েন এবং গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। সে জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন আগেভাগেই সংগ্রহ ও মজুত রাখা হয়েছে। এছাড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি ও রোগীর চাপ সামাল দিতে আমাদের বিশেষায়িত মোবাইল হাসপাতালগুলোও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের দক্ষতাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। রেফারেল ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে স্থানীয় হাসপাতালগুলোকেই প্রথম সারির প্রতিরক্ষাব্যুহ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডেঙ্গু রোগীর জাতীয় চিকিৎসা ও প্রোটোকল বিষয়ে চিকিৎসকদের দেশব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনদের কার্যালয় থেকে একদম তৃণমূল বা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসকদের গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। যেন রোগী পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়েই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়।

একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশনগুলোর সাথে যৌথ উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইড ট্যাবলেট সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং উড়ন্ত মশা নিধনে ফগিং ও স্প্রে কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী সভার একপর্যায়ে দেশের শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি পরিস্থিতি এবং চলমান টিকাদান কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার নিয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচি, ভিটামিন ট্যাবলেট বিতরণ এবং টিকাদান কার্যক্রমে এক ধরনের কাঠামোগত ঘাটতি ছিল। বর্তমান সরকার এ জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোকে ঢেলে সাজানোর এবং মাঠ পর্যায়ে আরও গতিশীল করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

উপজেলায় জোরদার হচ্ছে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:০৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতির কার্যকর মোকাবিলায় জেলা পেরিয়ে এবার উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকারের সমন্বিত ও নিবিড় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন মজুত, জরুরি মোবাইল হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের বিশেষায়িত চিকিৎসা ও প্রোটোকল নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিগত দুই মাস ধরেই সরকারের এ ডেঙ্গু প্রতিরোধী প্রস্তুতি ও কর্মযজ্ঞ চলছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনকে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ডেঙ্গু মোকাবিলা ও রোগী ব্যবস্থাপনায় আমরা একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছি। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে প্রতিটি জেলায় ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং সংকটেরোধে লজিস্টিক সাপোর্টের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে ডেঙ্গু চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত স্যালাইনের যেন কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, কোনো রোগী যেন জীবনের ঝুঁকিতে না পড়েন এবং গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। সে জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন আগেভাগেই সংগ্রহ ও মজুত রাখা হয়েছে। এছাড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি ও রোগীর চাপ সামাল দিতে আমাদের বিশেষায়িত মোবাইল হাসপাতালগুলোও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের দক্ষতাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। রেফারেল ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে স্থানীয় হাসপাতালগুলোকেই প্রথম সারির প্রতিরক্ষাব্যুহ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডেঙ্গু রোগীর জাতীয় চিকিৎসা ও প্রোটোকল বিষয়ে চিকিৎসকদের দেশব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনদের কার্যালয় থেকে একদম তৃণমূল বা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসকদের গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। যেন রোগী পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়েই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়।

একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশনগুলোর সাথে যৌথ উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইড ট্যাবলেট সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং উড়ন্ত মশা নিধনে ফগিং ও স্প্রে কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী সভার একপর্যায়ে দেশের শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি পরিস্থিতি এবং চলমান টিকাদান কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার নিয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচি, ভিটামিন ট্যাবলেট বিতরণ এবং টিকাদান কার্যক্রমে এক ধরনের কাঠামোগত ঘাটতি ছিল। বর্তমান সরকার এ জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোকে ঢেলে সাজানোর এবং মাঠ পর্যায়ে আরও গতিশীল করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।