ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

অ্যাডহক কমিটি গঠনে কারসাজির অভিযোগ

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে প্রায় দেড় বছর ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনমুখী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আবারও নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই অস্বচ্ছতা, কারসাজি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।

সংশ্লিষ্ট সংগঠকদের অভিযোগ, নতুন অ্যাডহক কমিটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় গঠন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা নেই। কমিটির সদস্যদের নাম কারা চূড়ান্ত করছেন, সেটিও অধিকাংশ ফেডারেশনের কর্মকর্তারা জানেন না। এমনকি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কর্মকর্তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। প্রায় ২১টি ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটির তালিকা এনএসসিতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

একাধিক অভিযোগ, নতুন কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়ায় অনৈতিক অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং এতে সাধারণ সম্পাদক ফোরামের কয়েকজন নেতার প্রভাব রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ পদ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে কয়েকটি ফেডারেশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকদের পদও বহাল রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামও এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠনে তাঁরাই সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে রোববার সাধারণ সম্পাদক ফোরামের এক সভায় বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সভায় উপস্থিত এক সদস্য প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সব জায়গায় পরিবর্তনের কথা বলা হলেও বক্সিং ফেডারেশনে এম এ কুদ্দুস খান এবং উশু ফেডারেশনে দিলদার হোসেন দিলু কীভাবে নিজেদের পদে বহাল থাকলেন? তাহলে অন্যরা কী দোষ করলেন?’ তাঁর মতে, পরিবর্তনের নীতি যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে সেটি সব ফেডারেশনের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বলেন, ‘আমি এসব কমিটি গঠনের বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে আমার কাছে কয়েকজন সংগঠক সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি শুধু তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পর্কে জানিয়েছি। এর বাইরে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

অন্যদিকে, সব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ফোরামের সভাপতি এবং বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। প্রতিপক্ষই এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি শুনলাম। আমি শুধু বলেছিলাম, যদি নতুন কমিটি করা হয়, তাহলে যেন যোগ্য ও সৎ মানুষদের রাখা হয়। এর বাইরে আমার কোনো ভূমিকা নেই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিস্তারিত জানতে সৌদিকে চিঠি

অ্যাডহক কমিটি গঠনে কারসাজির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:৫০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে প্রায় দেড় বছর ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনমুখী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আবারও নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই অস্বচ্ছতা, কারসাজি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।

সংশ্লিষ্ট সংগঠকদের অভিযোগ, নতুন অ্যাডহক কমিটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় গঠন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা নেই। কমিটির সদস্যদের নাম কারা চূড়ান্ত করছেন, সেটিও অধিকাংশ ফেডারেশনের কর্মকর্তারা জানেন না। এমনকি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কর্মকর্তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। প্রায় ২১টি ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটির তালিকা এনএসসিতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

একাধিক অভিযোগ, নতুন কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়ায় অনৈতিক অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং এতে সাধারণ সম্পাদক ফোরামের কয়েকজন নেতার প্রভাব রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ পদ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে কয়েকটি ফেডারেশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকদের পদও বহাল রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামও এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠনে তাঁরাই সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে রোববার সাধারণ সম্পাদক ফোরামের এক সভায় বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সভায় উপস্থিত এক সদস্য প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সব জায়গায় পরিবর্তনের কথা বলা হলেও বক্সিং ফেডারেশনে এম এ কুদ্দুস খান এবং উশু ফেডারেশনে দিলদার হোসেন দিলু কীভাবে নিজেদের পদে বহাল থাকলেন? তাহলে অন্যরা কী দোষ করলেন?’ তাঁর মতে, পরিবর্তনের নীতি যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে সেটি সব ফেডারেশনের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বলেন, ‘আমি এসব কমিটি গঠনের বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে আমার কাছে কয়েকজন সংগঠক সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি শুধু তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পর্কে জানিয়েছি। এর বাইরে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

অন্যদিকে, সব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ফোরামের সভাপতি এবং বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। প্রতিপক্ষই এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি শুনলাম। আমি শুধু বলেছিলাম, যদি নতুন কমিটি করা হয়, তাহলে যেন যোগ্য ও সৎ মানুষদের রাখা হয়। এর বাইরে আমার কোনো ভূমিকা নেই।’