আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন তার সুফল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বাস্তবতায় সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করছে। দেশীয় গবেষণার মাধ্যমে টেলিমেডিসিন, ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার, নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ নির্ণয় প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিস্তার, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের উন্মুক্ত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর হেলথকেয়ার ইন এল এম আই সি-২০২৬’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে দেশীয় উদ্ভাবনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে যেমন স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন
মন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা যুগোপযোগী স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের সক্ষমতা অর্জন করেছেন। এ সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকারের সহযোগিতা ও প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর হেলথকেয়ার ইন এল এম আই সি-২০২৬’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বি আই বি ই এ টি লিমিটেড এবং রিলেভ্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি, বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ এম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সোসাইটির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ এবং যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক বি এইচ ব্রাউন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলনের চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক হাসান একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নীতিনির্ধারক এবং স্বাস্থ্যখাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবায় উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন, গবেষণা, নীতিগত সহায়তা, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে আলোচনা হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















