ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে দেওয়া যাবে না: এরদোগান

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে কোনোভাবেই দেওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন অপরিহার্য।

সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান এ কথা বলেন। সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টাকে বানচাল করার চেষ্টার জন্য এ সময় তিনি ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেন।

শাহবাজ শরিফকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছা ও অবদান থেকে শক্তি সঞ্চয় করে না, এমন কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’

দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং নতুন করে সংঘাত রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তুরস্কের এই নেতা।

এরদোগান জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক নস্যাৎ করতে ইসরাইল যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আঙ্কারা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ধ্বংস করার জন্য ইসরাইল প্রশাসনের চেষ্টা আমরা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধখেকো ইসরাইল সরকারকে আমাদের এই ভূখণ্ডকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বারবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি দুর্বল করার জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে আসছেন। পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানেরও ধারাবাহিক নিন্দা জানিয়ে আসছেন তিনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি সামরিক হামলার পর কাতারে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার পরপরই এরদোগানের এই মন্তব্য সামনে এল।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো লঙ্ঘন সম্পর্কে জানাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ স্থাপন করবে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে যা রয়েছে

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি মূল প্রতিশ্রুতির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

• ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি

• হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া

• ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো

• সংঘাতের স্থায়ী অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ

তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

চুক্তির ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কের পাশাপাশি গত সপ্তাহে উভয় দেশই একে অপরের ওপর পালটা হামলা চালিয়েছে। এতে চুক্তিটির স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে দেওয়া যাবে না: এরদোগান

আপডেট সময় ০১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে কোনোভাবেই দেওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন অপরিহার্য।

সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান এ কথা বলেন। সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টাকে বানচাল করার চেষ্টার জন্য এ সময় তিনি ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেন।

শাহবাজ শরিফকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছা ও অবদান থেকে শক্তি সঞ্চয় করে না, এমন কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’

দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং নতুন করে সংঘাত রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তুরস্কের এই নেতা।

এরদোগান জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক নস্যাৎ করতে ইসরাইল যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আঙ্কারা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ধ্বংস করার জন্য ইসরাইল প্রশাসনের চেষ্টা আমরা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধখেকো ইসরাইল সরকারকে আমাদের এই ভূখণ্ডকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বারবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি দুর্বল করার জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে আসছেন। পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানেরও ধারাবাহিক নিন্দা জানিয়ে আসছেন তিনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি সামরিক হামলার পর কাতারে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার পরপরই এরদোগানের এই মন্তব্য সামনে এল।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো লঙ্ঘন সম্পর্কে জানাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ স্থাপন করবে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে যা রয়েছে

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি মূল প্রতিশ্রুতির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

• ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি

• হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া

• ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো

• সংঘাতের স্থায়ী অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ

তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

চুক্তির ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কের পাশাপাশি গত সপ্তাহে উভয় দেশই একে অপরের ওপর পালটা হামলা চালিয়েছে। এতে চুক্তিটির স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।