ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সাহারা মরুভূমির উল্কাপিণ্ডে মিলল হারিয়ে যাওয়া গ্রহের প্রমাণ

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সাহারা মরুভূমিতে পাওয়া একটি বিরল উল্কাপিণ্ড বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এমন একটি হারিয়ে যাওয়া গ্রহের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন, যা একসময় আমাদের সৌরজগতের অংশ ছিল। তাদের ধারণা, এই গ্রহটি আকারে প্রায় মঙ্গল গ্রহের মতো বড় ছিল এবং পরে কোনো ভয়াবহ সংঘর্ষে ধ্বংস হয়ে যায়।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Earth and Planetary Science Letters সাময়িকীতে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪.৫৬ বিলিয়ন বছর আগে সৌরজগত ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। সে সময় ছোট-বড় গ্রহ ও পাথুরে বস্তু একে অপরের সঙ্গে বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হতো।

এই গবেষণার মূল সূত্র হলো ‘নর্থওয়েস্ট আফ্রিকা ১২৭৭৪’ (NWA 12774) নামে একটি উল্কাপিণ্ড, যা সাহারায় পাওয়া গেছে। এটি ‘অ্যাংগ্রাইট’ শ্রেণির। অ্যাংগ্রাইট হলো সৌরজগতের সবচেয়ে প্রাচীন আগ্নেয় শিলা, যা সৌরজগত তৈরি হওয়ার কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যেই গঠিত হয়েছিল। পৃথিবীতে পাওয়া ৮০ হাজারের বেশি উল্কাপিণ্ডের মধ্যে মাত্র ৬৮টি অ্যাংগ্রাইট পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা এই উল্কাপিণ্ডে ‘ক্লিনোপাইরোক্সিন’ নামের একটি খনিজ পেয়েছেন। এতে অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ বেশি, যা বোঝায় এটি খুব বেশি চাপের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। গবেষণায় জানা যায়, এই ধরনের শিলা তৈরি হতে অন্তত ১৭.৫ কিলোবার চাপ লাগত, যা ছোট কোনো গ্রহাণুর ভেতরে সম্ভব নয়।

তাই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই শিলাটি এমন একটি বড় গ্রহে তৈরি হয়েছিল যার ব্যাসার্ধ অন্তত ১,০০০ কিলোমিটার ছিল। আরও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই গ্রহটি সম্ভবত আরও বড় ছিল—চাঁদের মতো, এমনকি মঙ্গল গ্রহের কাছাকাছি আকারের।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পরবর্তীতে বড় ধাক্কায় এই গ্রহটি ভেঙে যায়। এর টুকরো পরে অন্য গ্রহ, এমনকি পৃথিবীর গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তাদের মতে, এই আবিষ্কার দেখায় সৌরজগতের শুরুতে গ্রহ তৈরির প্রক্রিয়া আরও বৈচিত্র্যময় ছিল, যা আগে ধারণা করা হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

সাহারা মরুভূমির উল্কাপিণ্ডে মিলল হারিয়ে যাওয়া গ্রহের প্রমাণ

আপডেট সময় ০৮:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সাহারা মরুভূমিতে পাওয়া একটি বিরল উল্কাপিণ্ড বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এমন একটি হারিয়ে যাওয়া গ্রহের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন, যা একসময় আমাদের সৌরজগতের অংশ ছিল। তাদের ধারণা, এই গ্রহটি আকারে প্রায় মঙ্গল গ্রহের মতো বড় ছিল এবং পরে কোনো ভয়াবহ সংঘর্ষে ধ্বংস হয়ে যায়।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Earth and Planetary Science Letters সাময়িকীতে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪.৫৬ বিলিয়ন বছর আগে সৌরজগত ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। সে সময় ছোট-বড় গ্রহ ও পাথুরে বস্তু একে অপরের সঙ্গে বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হতো।

এই গবেষণার মূল সূত্র হলো ‘নর্থওয়েস্ট আফ্রিকা ১২৭৭৪’ (NWA 12774) নামে একটি উল্কাপিণ্ড, যা সাহারায় পাওয়া গেছে। এটি ‘অ্যাংগ্রাইট’ শ্রেণির। অ্যাংগ্রাইট হলো সৌরজগতের সবচেয়ে প্রাচীন আগ্নেয় শিলা, যা সৌরজগত তৈরি হওয়ার কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যেই গঠিত হয়েছিল। পৃথিবীতে পাওয়া ৮০ হাজারের বেশি উল্কাপিণ্ডের মধ্যে মাত্র ৬৮টি অ্যাংগ্রাইট পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা এই উল্কাপিণ্ডে ‘ক্লিনোপাইরোক্সিন’ নামের একটি খনিজ পেয়েছেন। এতে অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ বেশি, যা বোঝায় এটি খুব বেশি চাপের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। গবেষণায় জানা যায়, এই ধরনের শিলা তৈরি হতে অন্তত ১৭.৫ কিলোবার চাপ লাগত, যা ছোট কোনো গ্রহাণুর ভেতরে সম্ভব নয়।

তাই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই শিলাটি এমন একটি বড় গ্রহে তৈরি হয়েছিল যার ব্যাসার্ধ অন্তত ১,০০০ কিলোমিটার ছিল। আরও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই গ্রহটি সম্ভবত আরও বড় ছিল—চাঁদের মতো, এমনকি মঙ্গল গ্রহের কাছাকাছি আকারের।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পরবর্তীতে বড় ধাক্কায় এই গ্রহটি ভেঙে যায়। এর টুকরো পরে অন্য গ্রহ, এমনকি পৃথিবীর গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তাদের মতে, এই আবিষ্কার দেখায় সৌরজগতের শুরুতে গ্রহ তৈরির প্রক্রিয়া আরও বৈচিত্র্যময় ছিল, যা আগে ধারণা করা হয়নি।