ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মহাকাশ থেকে ধরা পড়ল নজরকাড়া ‘সাউদার্ন লাইটস

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশ থেকে তোলা এক অসাধারণ দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে। নাসার একজন নভোচারী স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযান থেকে দক্ষিণ মেরুর আকাশে দেখা যাওয়া ‘সাউদার্ন লাইটস’ বা অরোরা অস্ট্রালিসের একটি দারুণ টাইম-ল্যাপস ভিডিও ধারণ করেছেন।

নাসার নভোচারী জেসিকা মেয়ার বর্তমানে স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি মিশনে কাজ করছেন। গত সপ্তাহান্তে এই বিরল দৃশ্যটি ধারণ করেন তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে জানান, এই প্রাকৃতিক আলোর খেলায় তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, সবুজাভ আলো তরঙ্গের মতো নেচে চলেছে এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো—এটি সরাসরি মহাকাশযানের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেসিকা মেয়ার বলেন, আগেও তিনি অরোরা দেখেছেন, কিন্তু এভাবে মহাকাশযানের একেবারে নিচে এত জীবন্তভাবে নাচতে তিনি আগে কখনো দেখেননি।

এই মনোমুগ্ধকর আলোর মূল কারণ একটি শক্তিশালী সৌর ঝড়। সূর্য থেকে প্রচণ্ড শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণার ঢেউ বের হয়ে মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীর দিকে আসে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এই কণাগুলোকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে এসে কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষের ফলেই সৃষ্টি হয় রঙিন আলোর পর্দার মতো দৃশ্য, যাকে আমরা অরোরা বলি।

উত্তর গোলার্ধে বসবাসকারী মানুষরা ‘নর্দার্ন লাইটস’ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখতে পান। কিন্তু দক্ষিণ মেরুর এই ‘সাউদার্ন লাইটস’ দেখা অনেক কঠিন। কারণ এটি সাধারণত অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ মহাসাগরের ওপরেই দেখা যায়—যেখানে মানুষের বসবাস খুবই কম।

মহাকাশে থাকা নভোচারীরা পৃথিবীর চারপাশে ঘণ্টায় হাজার হাজার কিলোমিটার গতিতে ঘুরতে ঘুরতে এই দৃশ্য পুরোপুরি বাধাহীনভাবে দেখতে পান। ফলে তারা এমন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাগুলো দেখেন, যা পৃথিবীতে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

জেসিকা মেয়ারের ধারণ করা এই ভিডিও ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো এত কাছ থেকে এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অরোরা দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ভিডিও শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের ভৌত প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মহাকাশ থেকে ধরা পড়ল নজরকাড়া ‘সাউদার্ন লাইটস

আপডেট সময় ০৯:৩০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশ থেকে তোলা এক অসাধারণ দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে। নাসার একজন নভোচারী স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযান থেকে দক্ষিণ মেরুর আকাশে দেখা যাওয়া ‘সাউদার্ন লাইটস’ বা অরোরা অস্ট্রালিসের একটি দারুণ টাইম-ল্যাপস ভিডিও ধারণ করেছেন।

নাসার নভোচারী জেসিকা মেয়ার বর্তমানে স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি মিশনে কাজ করছেন। গত সপ্তাহান্তে এই বিরল দৃশ্যটি ধারণ করেন তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে জানান, এই প্রাকৃতিক আলোর খেলায় তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, সবুজাভ আলো তরঙ্গের মতো নেচে চলেছে এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো—এটি সরাসরি মহাকাশযানের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেসিকা মেয়ার বলেন, আগেও তিনি অরোরা দেখেছেন, কিন্তু এভাবে মহাকাশযানের একেবারে নিচে এত জীবন্তভাবে নাচতে তিনি আগে কখনো দেখেননি।

এই মনোমুগ্ধকর আলোর মূল কারণ একটি শক্তিশালী সৌর ঝড়। সূর্য থেকে প্রচণ্ড শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণার ঢেউ বের হয়ে মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীর দিকে আসে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এই কণাগুলোকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে এসে কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষের ফলেই সৃষ্টি হয় রঙিন আলোর পর্দার মতো দৃশ্য, যাকে আমরা অরোরা বলি।

উত্তর গোলার্ধে বসবাসকারী মানুষরা ‘নর্দার্ন লাইটস’ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখতে পান। কিন্তু দক্ষিণ মেরুর এই ‘সাউদার্ন লাইটস’ দেখা অনেক কঠিন। কারণ এটি সাধারণত অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ মহাসাগরের ওপরেই দেখা যায়—যেখানে মানুষের বসবাস খুবই কম।

মহাকাশে থাকা নভোচারীরা পৃথিবীর চারপাশে ঘণ্টায় হাজার হাজার কিলোমিটার গতিতে ঘুরতে ঘুরতে এই দৃশ্য পুরোপুরি বাধাহীনভাবে দেখতে পান। ফলে তারা এমন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাগুলো দেখেন, যা পৃথিবীতে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

জেসিকা মেয়ারের ধারণ করা এই ভিডিও ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো এত কাছ থেকে এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অরোরা দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ভিডিও শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের ভৌত প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।