ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদান এসেছে সৌরজগতের ভেতর থেকে: নাসার গবেষণা

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

পৃথিবীতে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলগুলো কোথা থেকে এসেছে, সেই দীর্ঘদিনের প্রশ্নের নতুন উত্তর খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার সহায়তায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণের জন্য অপরিহার্য নাইট্রোজেন ও ফসফরাস প্রধানত সৌরজগতের ভেতরের অঞ্চল থেকেই পৃথিবীতে এসেছে। একই সঙ্গে বৃহস্পতি গ্রহ এসব মৌলের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ জীবনের পরিচিত সব রূপের জন্য এই দুটি মৌল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গবেষকেরা বিভিন্ন ধরনের উল্কাপিণ্ডে ফসফরাস ও নাইট্রোজেনের অনুপাত বিশ্লেষণ করে সাড়ে ৪৫০ কোটি বছর আগে তরুণ সৌরজগতে এই মৌলগুলোর চলাচলের ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, সৌরজগত গঠিত হয়েছিল নবীন সূর্যকে ঘিরে থাকা গ্যাস ও ধুলার বিশাল মেঘ থেকে। পরে এই উপাদানগুলো একত্র হয়ে গ্রহ, উপগ্রহ এবং শেষ পর্যন্ত জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।

গবেষণায় দুটি ধরনের উল্কাপিণ্ড পরীক্ষা করা হয়—ধাতব উল্কাপিণ্ড এবং কনড্রাইট। ধাতব উল্কাপিণ্ড সৌরজগতের প্রথম প্রজন্মের ক্ষুদ্র জ্যোতিষ্ক থেকে এসেছে, আর কনড্রাইট সৃষ্টি হয়েছে দুই থেকে তিন মিলিয়ন বছর পরে গঠিত দ্বিতীয় প্রজন্মের জ্যোতিষ্ক থেকে।

পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণ ও ভূ-রাসায়নিক মডেলের মাধ্যমে গবেষকেরা দেখতে পান, প্রথম প্রজন্মের জ্যোতিষ্কে সৌরজগতের বাইরের অঞ্চলে ফসফরাস-নাইট্রোজেন অনুপাত বেশি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় প্রজন্মে চিত্রটি উল্টো হয়ে যায়; তখন ভেতরের অঞ্চলে এই অনুপাত বেশি দেখা যায়।

গবেষকদের ধারণা, বৃহস্পতি ধীরে ধীরে গঠিত ও বড় হওয়ার সময় তার শক্তিশালী মহাকর্ষীয় প্রভাব ভেতরের অঞ্চল থেকে বাইরের দিকে মৌলগুলোর চলাচল সীমিত করে দেয়। ফলে ভেতরের অঞ্চলে বেশি পরিমাণ ফসফরাস ও নাইট্রোজেন থেকে যায়।

হিউস্টনের রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রাজদীপ দাশগুপ্ত বলেন, বাসযোগ্য পৃথিবীর মতো জগত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মৌলগুলোর বণ্টন নির্ধারণে বৃহস্পতির উপস্থিতি ও বিকাশের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গবেষণার প্রধান লেখক দেবজিত পাঠক জানান, ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পৃথিবী তার অধিকাংশ প্রাণ-সহায়ক নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সৌরজগতের ভেতরের অঞ্চল থেকেই পেয়েছে; বাইরের অঞ্চল থেকে বড় ধরনের অবদান প্রয়োজন হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদান এসেছে সৌরজগতের ভেতর থেকে: নাসার গবেষণা

আপডেট সময় ০৯:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

পৃথিবীতে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলগুলো কোথা থেকে এসেছে, সেই দীর্ঘদিনের প্রশ্নের নতুন উত্তর খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার সহায়তায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণের জন্য অপরিহার্য নাইট্রোজেন ও ফসফরাস প্রধানত সৌরজগতের ভেতরের অঞ্চল থেকেই পৃথিবীতে এসেছে। একই সঙ্গে বৃহস্পতি গ্রহ এসব মৌলের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ জীবনের পরিচিত সব রূপের জন্য এই দুটি মৌল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গবেষকেরা বিভিন্ন ধরনের উল্কাপিণ্ডে ফসফরাস ও নাইট্রোজেনের অনুপাত বিশ্লেষণ করে সাড়ে ৪৫০ কোটি বছর আগে তরুণ সৌরজগতে এই মৌলগুলোর চলাচলের ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, সৌরজগত গঠিত হয়েছিল নবীন সূর্যকে ঘিরে থাকা গ্যাস ও ধুলার বিশাল মেঘ থেকে। পরে এই উপাদানগুলো একত্র হয়ে গ্রহ, উপগ্রহ এবং শেষ পর্যন্ত জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।

গবেষণায় দুটি ধরনের উল্কাপিণ্ড পরীক্ষা করা হয়—ধাতব উল্কাপিণ্ড এবং কনড্রাইট। ধাতব উল্কাপিণ্ড সৌরজগতের প্রথম প্রজন্মের ক্ষুদ্র জ্যোতিষ্ক থেকে এসেছে, আর কনড্রাইট সৃষ্টি হয়েছে দুই থেকে তিন মিলিয়ন বছর পরে গঠিত দ্বিতীয় প্রজন্মের জ্যোতিষ্ক থেকে।

পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণ ও ভূ-রাসায়নিক মডেলের মাধ্যমে গবেষকেরা দেখতে পান, প্রথম প্রজন্মের জ্যোতিষ্কে সৌরজগতের বাইরের অঞ্চলে ফসফরাস-নাইট্রোজেন অনুপাত বেশি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় প্রজন্মে চিত্রটি উল্টো হয়ে যায়; তখন ভেতরের অঞ্চলে এই অনুপাত বেশি দেখা যায়।

গবেষকদের ধারণা, বৃহস্পতি ধীরে ধীরে গঠিত ও বড় হওয়ার সময় তার শক্তিশালী মহাকর্ষীয় প্রভাব ভেতরের অঞ্চল থেকে বাইরের দিকে মৌলগুলোর চলাচল সীমিত করে দেয়। ফলে ভেতরের অঞ্চলে বেশি পরিমাণ ফসফরাস ও নাইট্রোজেন থেকে যায়।

হিউস্টনের রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রাজদীপ দাশগুপ্ত বলেন, বাসযোগ্য পৃথিবীর মতো জগত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মৌলগুলোর বণ্টন নির্ধারণে বৃহস্পতির উপস্থিতি ও বিকাশের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গবেষণার প্রধান লেখক দেবজিত পাঠক জানান, ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পৃথিবী তার অধিকাংশ প্রাণ-সহায়ক নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সৌরজগতের ভেতরের অঞ্চল থেকেই পেয়েছে; বাইরের অঞ্চল থেকে বড় ধরনের অবদান প্রয়োজন হয়নি।